ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২০ | ২৫ আষাঢ় ১৪২৭

 
 
 
 

করোনাভয় উপেক্ষা করে অন্যের সন্তানকে স্তন্যপান করালেন নার্স

গ্লোবালটিভিবিডি ৪:০৭ অপরাহ্ণ, জুন ০২, ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

সদ্যজাত সন্তানকে স্তন্যদান করতে পারছিলেন না এক নারী। দুধের অভাবে চিৎকার করে কাঁদছে শিশুটি। মায়ের অসহায়ত্ব দেখে আর হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারেননি আরেক মা। শিশুটিকে কোলে তুলে নিয়ে স্তন্যপান করিয়ে তাঁর কান্না থামান নার্স উমা অধিকারী।

এ ঘটনা ঘটেছে ভারতের আর জি কর হাসপাতালে।

রোগীদের সেবাই তাঁর ধর্ম। করোনা আবহে নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে সে ধর্ম সযত্নে পালনও করে চলেছেন উমা অধিকারী। তবে তিনি যে শুধুই নার্স নন, একজন মা-ও বটে। সেটাই বুঝিয়ে দিলেন।  

গত সপ্তাহের ঘটনা। আর জি করের লেবার ওয়ার্ড নাইট ডিউটিতে ছিলেন উমা। এক-একদিন এক-এক ওয়ার্ডে ডিউটি করতে হয়। বাড়িতে সাড়ে আট মাসের ছেলেকে রেখে এসে পিপিই-মাস্ক পরে রোগীদের দেখাশুনা করছিলেন অন্যান্য দিনের মতই। সেখানেই ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর বড্ড অসহায় বোধ করতে থাকেন তিনি। কারণ প্রসবের দু-তিন ঘণ্টা পরও স্তন থেকে দুধ নিঃসরণ হচ্ছিল না তাঁর। কিন্তু দুধ না পেয়ে কেঁদেই চলেছে সদ্যজাত সন্তান। সাধারণত এমন পরিস্থিতিতে মাদার-বেবি সেন্টারের শরণাপন্ন হন মা।

করোনার ভয় সকলকে এমনভাবে গ্রাস করেছে যে, সদ্য মা হওয়া ওয়ার্ডের অন্যান্য নারীরা এগিয়ে আসতে সাহস পাননি।
তবে সদ্যজাতের কষ্ট আর সহ্য করতে না পেরে উমা নিজেই তাকে কোলে তুলে নেন। দু’বার স্তন্যপান করিয়ে শিশুর কান্না থামান তিনি।

উমা বলেন, অনেক ক্ষেত্রে নিঃসরণ স্বাভাবিক করার জন্য সেই মাকে মোটিভেট করা হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে বাচ্চা এত কাঁদছিল যে, তার কান্না থামাতে ওকে স্তন্যপান করালাম। পাঁচ-ছয় ঘণ্টা পর শিশুটির মা স্তন্যদানে সক্ষম হয়ে গিয়েছিলেন।
ঠিক সেই সময়ই বাড়ি থেকে ফোন এসেছিল কিন্তু রোগী সন্তানকে স্তন্যপানে ব্যস্ত থাকায় ফোনটাই ধরতে পারিনি।

তিনি বলেন, রাত তখন প্রায় সাড়ে ১১টা। সাড়ে আট মাসের ছেলে ঘুমোতে যাওয়ার আগে ভিডিও কলে একবার আমার মুখটা দেখে। তাই স্বামী ভিডিও কল করছিল। কিন্তু ফোনটা কেটে দিই। স্বামীকে জানাই স্তন্যপান করাতে ব্যস্ত। কথাটা শুনে স্বামী একটু ভয়ই পেয়ে গিয়েছিলেন। আমাকেও তো বাড়ি গিয়ে নিজের সন্তানকে স্তন্যপান করাতে হয়।

সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন।

এএইচ/জেইউ


oranjee