ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

 
 
 
 

প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চায় কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলো

গ্লোবালটিভিবিডি ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ, মে ১৫, ২০২০

ফাইল ছবি

বাংলাদেশ কিন্ডারগাটেন ঐক্য পরিষদ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছে, করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত জটিল পরিস্থিতি মোকাবেলায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের কারণে অসহায় শিক্ষক / কমচারীদের আর্থিক সাহায্যের বিষয়টি আজ খুবই মানবিক দাবী।

বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটি (সাগর-রুনি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত  সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ কিন্ডারগাটেন ঐক্য পরিষদ-এর চেয়ারম্যান মোঃ ইস্কান্দার আলী হাওলাদারের সভাপতিত্বে সভায় সহসভাপতি নুরুজ্জামান কায়েস, লায়ন এম এ রশিদ মিয়া ,বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

মূল বক্তব্য উপস্থাপন করে মহাসচিব মোঃ রেজাউল হক। তিনি বলেন, দেশে প্রায় ৬৫ হাজার কিন্ডারগার্টেন এবং সমমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১ কোটিরও বেশি শিশু শিক্ষালাভের সুযোগ পাচ্ছে। এছাড়াও ১০ লক্ষাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারীর কর্মসস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষাক্ষেত্রে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের অবদান নিঃসন্দেহে প্রশংসা ও সহযোগিতার দাবি রাখে। জননেত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে সাধারণ ও মাদ্রাসা শিক্ষার পাশাপাশি কিন্ডারগার্টেন শিক্ষাপদ্ধতিকেও জাতীয় শিক্ষানীতিতে অন্তর্ভুক্ত করেন। তাঁর সরকারের আমলেই সর্বপ্রথম এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বিনামূল্যে বোর্ডবই প্রাপ্তিসহ প্রাথমিক শিক্ষাসমাপনী পরীক্ষায় অশগ্রহণের সুযোগ পায়। ২৯ আগস্ট ২০১২ সালে মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সংশোধিত নিবন্ধন বিধিমালা জারির পর নিবন্ধনেরও সুযোগ পেয়েছে।

তিনি বলেন, এইসব প্রতিষ্ঠানে ১০ লক্ষাধিক শিক্ষক ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী তাদের পরিবারবর্গ নিয়ে ৬ মার্চ হতে স্কুল বন্ধ থাকার কারণে অর্থনৈতিকভাবে নিদারুণ কষ্টে দিনাতিপাত করছে। কোন শিক্ষক-শিক্ষিকা লকডাউনের কারণে প্রাইভেট টিউশনও করতে পারছে না এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আয় না থাকায় বেতনও পাচ্ছে না। প্রায় ৯০% শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভাড়া বাড়িতে পরিচালিত। মাসের প্রথমেই পরিশোধ করতে হয় বাড়িভাড়া। দীর্ঘ দিন স্কুল বন্ধ থাকার কারণে পবিত্র রমজান শেষে ঈদ-উল-ফিতর মিলিয়ে তারা দিশেহারা অবস্থায় পড়েছেন। শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড এবং শিক্ষকরা হলেন তাদের কারিগর। তাই কোন শিক্ষক না পারেন কারো কাছে হাত পাততে, না পারেন লাইনে দাঁড়িয়ে সাহায্য নিতে। হাজার হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রণোদনার প্রত্যাশায় জেলা প্রশাসক ও উপজেলা কর্মকতা বরাবর আবেদন করছেন।

তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনিই একমাত্র বুঝতে পারবেন আমাদের কিন্ডারগার্টেন ও সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বর্তমান সমস্যা। আপনি আমাদের একমাত্র অভিভাবক, তাই আমরা আপনার সরকারের কাছে সাহায্য চাইতে পারি। আপনার সমীপে আমাদের বিনীত নিবেদন, কিন্ডারগার্টেন ও সমমানের প্রতিষ্ঠানগুলো বাঁচাতে ঈদের পূর্বেই অনুগ্রহ করে প্রণোদনা দেওয়ার ব্যবস্থা করুন। করোনা সংক্রমণের হার কমে গেলে দ্রুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা , এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সেবামূলক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে পানি ও বিদ্যুৎ বিল আবাসিক হারে নির্ধারণ , শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সঠিক ভাবে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য কিন্ডারগাটেন বোর্ড গঠন করার আকুল আবেদন জানাচ্ছি।

এএইচ


oranjee