ঢাকা, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ |

 
 
 
 

করোনা দুর্যোগে চাই জাতীয় ঐক্য

গ্লোবালটিভিবিডি ১২:৫৭ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩০, ২০২০

মুহাম্মদ জাভেদ হাকিম: করোনা ভাইরাসে লন্ড-ভন্ড প্রায় পুরো বিশ্ব। দিনদিন এর ধ্বংসযজ্ঞ বেড়েই চলছে। বিভিন্ন রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক মেরুদন্ড ভেঙ্গে দেয়ার পাশাপাশি কেড়ে নিচ্ছে মানুষের প্রাণ।

প্রতিদিনই আক্রান্তর সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে লাশের সারিও বাড়ছে। মৃত্যুর মিছিল বেড়েই চলছে। তামাম দুনিয়ার অধিকাংশ দেশই লকডাউন। এর আক্রমণ হতে গরিব, ধনী, রাজা, রানী –কেউই বাদ যাচ্ছেন না।

পরিস্থিতি সামলাতে দফায় দফায় বৈঠক বসছেন বিশ্ব নেতারা। কিভাবে ঠেকানো যায় প্রাণঘাতী করোনা। কী ধরনের পরিকল্পণা বাস্তবায়ন হলে করা যাবে করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তাদেরও নানান করণীয় নিয়ে গলদর্ঘম অবস্থা।

বাংলাদেশের মত অনেক উন্নয়নশীল দেশেও লকডাউনের পাশাপাশি চলছে সাধারণ ছুটি। রেডিমেড ওয়্যার রপ্তানীকারক দেশ হিসেবে পৃথিবীর দ্বিতীয় তালিকায় থাকা বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পও হুমকির মুখে। যার ফলে গত ২৭ মার্চ বিজিএমইএ আওতাধীন পোশাক কারখানাগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এক অদৃশ্য শক্তি করোনা ভাইরাসে সব অবরুদ্ধ। মানুষের স্বাভাবিক কাজকর্ম বন্ধ। দরিদ্র শ্রেণির জন্য চরম বিপর্যয়। বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে রপ্তানী খাতে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। কিন্তু সাধারণ ব্যবসায়ী, দোকানী ও দিনমজুরদের অবস্থা শোচনীয়। নাজুক অবস্থায় তাঁদের দিনানিপাত। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচাইতে বড় আর্থিক সহায়তা তহবিল, ২ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইতিমধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ৭৪টি দেশে চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠানো শুরু করেছে। সেই সঙ্গে আরো ৬০টি দেশে পাঠানো প্রক্রিয়াধীন।

করোনা মহামারীর ভয়াবহতা পুরো বিশ্বকে এক কাতারে নিয়ে এসেছে। যেসব দেশ ৭/১০ দিনের জন্য লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছিলো তারা আরো সময় বাড়িয়েছে। ‘যদি থাকেন সচেতন-ঠেকানো যাবে করোনা’- এ ধরনের স্লোগান ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু এরকম স্লোগানেও অনেক রাষ্ট্রে জনগণকে ঘরবন্দী করে রাখা যাচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়েই কিছু কিছু রাষ্ট্রে কার্ফিউ জারি করে প্রশাসন কঠোর হতে বাধ্য হচ্ছে। বাংলাদেশেও পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে সঙ্গে সেনাবাহিনী মাঠে নেমেছে। তারা যথাসম্ভব চেষ্টা করছে জনগণকে সচেতন করতে। কিন্তু বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ নিম্ন আয়ের। তাদের ভরণ-পোষণের যথাযথ ব্যবস্থা করতে না পারলে হয়তো আর তাদেরকে ঘরে রাখা সম্ভব হবে না।

এর জন্য চাই এখনি দূরদর্শী মহাপরিকল্পনা। করোনা, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় সংক্রামক ব্যাধি। সুতরাং এর থেকে পরিত্রাণ পেতে চাইলে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা জরুরী যা বাংলাদেশের জন্য বিশাল চ্যালেঞ্জ। করোনা বাংলাদেশের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক উন্নয়ন খাত পর্যটনশিল্পকেও হুমকির মুখে ফেলেছে। এই খাতে বিনিয়োগসহ হাজার হাজার বেকারের কর্মস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এসব নিয়েও ভাবতে হবে সংশ্লিষ্টদের। যেন অঙ্কুরেই পর্যটনশিল্প ধ্বংস না হয়। এত এত প্রাণহানী আর অথনৈতিক ক্ষতি সাধনের পরেও সম্প্রতি একটি বিষয় চাউর হয়েছে। বায়ু দুষণের মাত্রা কমে এসেছে। হিমবাহে বরফ গলার মাত্রা কমতে শুরু করেছে। সামুদ্রিক প্রাণী সমুদ্র জলে অবাধে বিচরণ করতে পারছে। ঘর থেকেই ঝকঝকে নীল আকাশ আর রাতে উজ্জ্বল তারার মেলা দেখা যাচ্ছে।

ফিরে আসতে শুরু করেছে পারিবারিক বন্ধন। নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখা হচ্ছে আত্মীয় স্বজনদের। কমে এসেছে অপরাধমূলক কর্মকান্ড। কিন্তু কতদিন! মানুষের চিরাচরিত স্বভাবজাত অভ্যাস মুক্ত বিচরণ। ঘরবন্দী মানে এক গুমোট পরিস্থিতি। আর এর থেকে মানুষ বের হয়ে আসার জন্য থাকবে ব্যাকুল।

চীনে করোনা ভাইরাস ছড়ানোর পরপর আমাদের আরো দূরদর্শী পরিকল্পনা নেয়া দরকার ছিলো। এখন দায়িত্বশীলদের কড়া নজরদারী রাখা প্রয়োজন। দ্রুত করোনা ভাইরাস বিস্তার রোধ ও পরবর্তী অর্থনৈতিক মন্দা পরিস্থিতি সামলানোর মত যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। দেশের ইতিহাসে যেন কোন কালো অধ্যায় যোগ না হতে পারে সেজন্য প্রয়োজনে  জাতীয় ঐক্যের আহবানও জানানো যেতে পারে। মানুষের জন্যই এই ভূমন্ডল আর রাজনীতি। তাই মানুষ তার নিজ প্রয়োজনেই প্রকৃতির উপর সদয় হবার পাশাপাশি যেন একে অপরের প্রতি মানবিকতা ফিরে পায়। কারণ, প্রকৃতি যেমনি কোমল, ঠিক তেমনি আবার কঠোর। বিশ্ববাসীর জন্য করোনা আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ হয়ে এসেছে তা সময়ই বলে দেবে। তবে যাই হোক না কেন, টিকে থাক পৃথিবী-সুস্থ্য থাকুক মানব জাতি; এটাই আমাদের কামনা। মহামারী করোনা, প্রাণ-প্রকৃতির চরম শিক্ষা।

লেখক: প্রতিষ্ঠাতা চীফ অর্গানাইজার, ‘দে-ছুট’ ভ্রমণ সংঘ।

এএইচ/জেইউ


oranjee