ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ |

 
 
 
 

করোনায় ঘোরাঘুরি নয়

গ্লোবালটিভিবিডি ২:৩৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৪, ২০২০

ফাইল ছবি


মুহাম্মদ জাভেদ হাকিম : বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস বর্তমানে নানান দেশে মহামারী আকার ধারণ করেছে। শুরুটা চীন হতে। যা এখন ভয়ঙ্কর তান্ডব চালাচ্ছে ইতালিতে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ইরানে প্রতি দশ মিনিটে একজন করে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। এ পর্যন্ত, সারা বিশ্বে তেরো হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তর শিকার তিন লাখেরও বেশী। বাংলাদেশও ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন আক্রান্তসহ তিন জনের মৃত্যু। কিছুকিছু অঞ্চল করা হয়েছে লকডাউন। আতংকিত সারা দেশ। দিশেহারা বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা।

নানান বিজ্ঞ ব্যক্তিরা দিচ্ছেন প্রতিকারমূলক মতামত। চলছে সচেতেনতামূলক প্রচারণা। এত কিছুর পরেও থেমে নেই করোনার বিস্তার। এই পর্যন্ত ১৮৮টি রাষ্ট্রের মানুষ হয়েছে আক্রান্ত। আমেরিকাসহ পৃথিবীর পরাশক্তি রাষ্ট্রগুলোও করোনার ছোবলের বাইরে নয়। এতকিছুর পরেও এখনো মানুষ বুঝতে পারছে না,আসলে এই করোনার ধ্বংসলীলার শক্তির উৎসটা কোথায়।
 
এরকম গজব কখনো বান্দাকে সঠিক পথে ফিরে আসার সুযোগ হিসেবেও আসে। যে সব রোগের শুরুতেই কোন প্রতিষেধক নেই, সেসব রোগে মানুষ আক্রান্ত হবার ভয়ে অনেকেই এলামেলো বকতে শুরু করে। ধৈর্য হারা হলেই শেষ। খাঁটি মুমিন কখনো আযাবে ধৈর্য হারা কিংবা আতংকিত হয় না। বরং তারা আরো বেশী আল্লাহর পথে নিজেকে রুজু করে। বান্দাদের কৃতকর্মের কারণে যখন আযাব/গজব আসে, তখন পরহেজগার ব্যক্তিসহ শিশু-বৃদ্ধ কেউই রেহাই পায় না। বরং অন্যদের আহবান না জানিয়ে নিজের আমল ভারী করা বজুর্গরা অনেকসময় আগেভাগে গজবের শিকার হন। এই দেখে কম আমল বা গাফেল ব্যক্তিদের মনে হয়, এবাদত বন্দেগী করে লাভ কি? গজবের শিকার হয়ে অনেক সময় পরহেজগার হয়ে যান গাফেল, আর গাফেল হয়ে ওঠেন পরহেজগার। করোনার মত আজাব যখন বিধর্মী রাষ্ট্রে আগে শুরু হয়,তখন মুসলিম রাষ্ট্রের নাগরিকরা তাদের নানান অত্যাচারের ডালি মেলে ধরে। মূলত এরকম পরিস্থিতিতে ধর্ম না টেনে, মুসলিমদের কর্তব্য তাদেরকে সহায়তা করা। কারণ, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বলা যাবে না, কার মৃত্যু কিভাবে হবে। জগতের সকল ধর্মের মানুষই এক আল্লাহর সৃষ্টি। কোন অবস্থাতেই ভিন্নধর্মাবলম্বীর কাউকে নিজের চাইতে অধম ভাবা যাবে না। করোনা ভাইরাসের মত কঠিন রোগবালাইর সময় ধর্মীয় নিয়মগুলো অনুসরণ করা কর্তব্য। ধর্মীয় গোড়ামি হতে চিকিৎসকের পরামর্শ ও সরকারের আইন অমান্য করাটাও ইসলামের দৃষ্টিতে গর্হিত হিসেবে বিবেচ্য। মুমিন বান্দাদের এই সময়ে ধৈর্যের সঙ্গে আরো বেশী বেশী আমল বাড়িয়ে দিতে হবে। সেই সঙ্গে আমলের বরকত অন্যদের মাঝেও ছড়িয়ে দিতে হবে।

যারা ভ্রমণ পিপাসু, তারাও এই সময়টাতে ভ্রমণে না গিয়ে বাড়িতে বসে ভ্রমণ গল্পের বই পড়ে অভিজ্ঞ হতে পারেন। দুঃসময় বেশীদিন স্থায়ী নয়। কারণ, প্রত্যেক আসমানি রোগবালাইর সময়েই হক্কানী আলেম সমাজ হতে প্রতিকারের বিশেষ আমল আসে। যা তারা অবস্থার উপরে বলে থাকেন। হতাশ হবার সুযোগ নেই।

আসুন, বাড়িতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার মজুদ না করে, স্বাস্থ্যকর্মীদের পরামর্শ পালনের পাশাপাশি বেশী বেশী এস্তেগফার পড়ায় অভ্যস্ত হই। করোনার প্রকোপে স্বাস্থ্যঝুঁকি, মৃত্যু তথা সমগ্র বিশ্বে অর্থনৈতিক বিনিয়োগ স্থবির। সুতরাং মুসলিমদের আস্থা রাখতে হবে পরম করুণাময় আল্লাহপাকের শক্তিমত্তার উপর। সকল ক্ষমতার উৎস একমাত্র তিনিই। এই মহামারী করোনা হতে শুধুমাত্র মহান রাব্বুল আল-আমিনই পারেন আমাদেরকে করুণা করতে।

মুহাম্মদ জাভেদ হাকিম: প্রতিষ্ঠাতা, দে-ছুট ভ্রমণ সংঘ।


oranjee