ঢাকা, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

 
 
 
 

বরগুনা জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে লঞ্চ স্টাফদের উপর হামলার অভিযোগ

গ্লোবালটিভিবিডি ১০:১২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৯, ২০১৯

ফাইল ছবি

বরগুনা প্রতিনিধি : বরগুনা থেকে ঢাকাগামী এমভি শাহরুখ-২ লঞ্চের সুপার ভাইজার ও অন্যান্য স্টাফদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির ও তার পুত্র জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুবায়ের আদনান অনিকের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বরগুনা লঞ্চঘাটে এ ঘটনা ঘটে।

লঞ্চ স্টাফ এবং যাত্রীরা জানায়, সোমবার বিকেলে জাহাঙ্গীর কবির ও তার ছেলে জুবায়ের আদনান অনিক ঢাকা থেকে বরগুনাগামী এমভি শাহরুখ-২ লঞ্চের ভিআইপি কেবিনে ওঠেন। লঞ্চটি রাত ৯টার দিকে মেঘনা নদী অতিক্রমকালে অনিক তার বাবার বরাত দিয়ে লঞ্চের সুপার ভাইজারকে সকাল ৭টার ভেতরে বরগুনা পৌঁছানোর নির্দেশ দেন। কিন্তু বরিশালের নদীতে পানি কম থাকায় এবং ঘন কুয়াশা পড়ায় লঞ্চটি সকাল দশটায় বরগুনা লঞ্চঘাটে পৌঁছালে ক্ষিপ্ত জাহাঙ্গীর কবির এবং তার ছেলে অনিক লঞ্চের সুপার ভাইজার মো. মারুফকে ভিআইপি কেবিনে ডেকে নিয়ে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি সম্পূর্ণ ভাড়া পরিশোধে অস্বীকৃতি জানান৷ এ নিয়ে লঞ্চ স্টাফদের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে অনিকের নির্দেশে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা লঞ্চে প্রবেশ করে স্টাফদের লাঞ্ছিত করাসহ লঞ্চের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।

পরে জাহাঙ্গীর কবিরের ব্যক্তিগত গাড়িচালক কবিরের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী পুনরায় লঞ্চের স্টাফদের উপর হামলা করে বরগুনা থেকে ঢাকাগামী সকল লঞ্চ চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেয়।

এ প্রসঙ্গে এমভি শাহরুখ-২ লঞ্চের সুপার ভাইজার মো. মারুফ বলেন, আমি নিরাপত্তা হুমকিতে রয়েছি। জাহাঙ্গীর কবির তার লোকজনকে দিয়ে আমাকে ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করছেন, এমনকি বাড়াবাড়ি করলে প্রাণনাশের হুমকিও পর্যন্ত দিয়েছেন।

বরগুনা পরিবেশ আন্দোলনের সদস্যসচিব ও সংবাদকর্মী মুশফিক আরিফ বলেন, এটি আমাদের সকলের জন্যই একটি বিব্রতকর ঘটনা। দায়িত্বশীল পদে থেকে এহেন আচরণ কাম্য নয়।
ঘটনার পর বরগুনার জেলা প্রশাসক মুস্তাইন বিল্লাহ ও পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন বরগুনা লঞ্চঘাট পরিদর্শন করে দোষীদেরকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন।

এ ঘটনায় নৌযান শ্রমিকরা তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত ঢাকা থেকে বরগুনা ও আমতলী রুটের সকল লঞ্চ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে।

 


oranjee