ঢাকা, শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৯ | ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

 
 
 
 

অসহায়দের পাশে ‘আমরা মানুষের জন্য’

গ্লোবালটিভিবিডি ২:১২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৯, ২০১৯

ছবি সংগৃহীত

রকিব হোসেন, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: চিকিৎসার জন্য কোনো দরিদ্র অসহায় মানুষের জন্য টাকার দরকার। তার কথা নিজের ফেসবুক আইডিতে লেখেন শিক্ষক জাকির বিশ্বাস। সেখানে দেওয়া থাকে নিজের ব্যাংক একাউন্ট নম্বর, বিকাশ এবং রকেট নম্বর। কেউ সহায়তার জন্য টাকা পাঠালে দ্রুততম সময়ে জাকির বিশ্বাস ওই টাকা প্রদানকারির নাম ও টাকার পরিমাণ ফেসবুকে লিখে দেন। মোট কত টাকা এল তা-ও লিখে দেন। যার জন্য টাকা সংগ্রহের উদ্যোগ শুরু হয়, তার হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয় সেই টাকা। এলাকার জনপ্রতিনিধি কিংবা গন্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে নিয়ে আর্থিক সহায়তার টাকা অসহায় মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হয়। কখনো বা জেলা প্রশাসক কিংবা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এসে তাঁদের মাধ্যমে টাকা তুলে দেওয়া হয়। 

গত ৫ নভেম্বর সকাল আটটায় জাকির বিশ্বাস তার ফেসবুক আইডিতে সদর উপজেলার তিতুদহ গ্রামের রিমু আলীর ছবি দিয়ে লেখেন, বাবাকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে অনেক আশা নিয়ে মালেয়শিয়া গিয়েছিল তিতুদহের রিমু আলী। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সে এখন নিজেই হার্টের সমস্যায় জীবন-মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে গেছে। রিমুর চিকিৎসার জন্য তিন লাখ টাকা দরকার। ‘আমরা মানুষের জন্য’ সংগঠন রিমুর পাশে দাড়াতে চায়।

ফেসবুকে নিজের আইডিতে এমন আবেদন করে অর্থ সংগ্রহ করছেন শিক্ষক জাকির বিশ্বাস। এভাবেই চুয়াডাঙ্গায় মানুষের জন্য কাজ করছেন শিক্ষক জাকির বিশ্বাস। তিনি তিতুদহ মাধ্যমিক বিদ্যালযের সহকারি শিক্ষক। অর্থের কারণে চিকিৎসাবঞ্চিত মানুষের জন্য তিনি ফেসবুকে লিখে বিত্তশীল মানুষের কাছে আর্থিক সহায়তা নিয়ে থাকেন। একা শুরু করেছিলেন। এখন ৭১ জনকে পাশে পেয়েছেন তিনি। তারা সবাই ফেসবুকে আর্থিক সহায়তা চান। যা টাকা আসে তা তুলে দেওয়া হয় চিকিৎসা বঞ্চিত অসহায় মানুষের হাতে।

এ যাবত জাকির বিশ্বাস এভাবে ২৬ জনকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। রিমু আলী তার ২৭তম প্রজেক্ট। মানুষের জন্য কাজ করতে করতে জাকির বিশ্বাস উপলব্ধি করেন, ভাল এই কাজে যারা পাশে এসে দাড়িয়েছেন তাদের নিয়ে একটি সংগঠন তৈরি করা যেতে পারে। তারপরই গঠন করা হয় ‘আমরা মানুষের জন্য’ সংগঠন। জাকির বিশ্বাস যে পদ্ধতিতে কাজ শুরু করেছেন একই পদ্ধতিতে কাজ চলবে। বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো হবে। আলোচনা করে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সেই অনুযায়ী কাজ হবে। লক্ষ্য একটাই, অসহায় মানুষের পাশে থাকা।

জাকির বিশ্বাস বলেন, এমনও হয়েছে, জরুরি একজনের চিকিৎসার জন্য টাকা দরকার। তখনই কারো কাছ থেকে ধার করে টাকা নিয়ে চিকিৎসা খরচ দেওয়া হয়েছে। পরে আর্থিক সহায়তা আসার পর সেই টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। তিনি বলেন, যেসব ভাইয়েরা দেশ ছেড়ে অন্য দেশে গিয়ে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে অর্থ উপার্জন করেন। তাঁদের কাছ থেকে বেশি সাড়া মিলছে।


আরকে

 

 

 


oranjee