ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

 
 
 
 

জেল ও জরিমানার ভয়ে ভিড় বাড়ছে বিআরটিএ’তে

গ্লোবালটিভিবিডি ১২:৪৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৮, ২০১৯

ছবি সংগৃহীত

এম এ কবিরঃ সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ সংশোধন করে । যেখানে আইন অমান্যকারীদের জন্য রয়েছে বিপুল অর্থ জরিমানা ও অনাদায়ে জেল। আর এই আইন প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে নিজেদের ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং গাড়ির কাগজপত্র হালনাগাদ করতে প্রতিদিন হাজার হাজার গ্রাহক ভিড় করছে বিআরটি অফিসে। গ্রাহকের কাগজপত্র সংশোধন করতে এবং হালনাগাদ করতে একসপ্তাহ সময় দেয় প্রশাসন। যে সময়সীমা শেষ হচ্ছে আগামী শনিবার। আর এই জন্য আজ শেষ কর্মদিবসে চোখে পড়ার মতো ভিড় ছিল বিআরটিএ তে।

খুলনা সার্কেলে গত এক সপ্তাহে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন জমা পড়েছে বেশি অর্থাৎ ১৪৯০টি। যা বর্তমান আইন পাস হওয়ার আগের সপ্তাহে ছিল ৪৫৬ টি। বিশেষ করে মোটর সাইকেল চালকদের ভিড় ছিল লক্ষ্যণীয়।

এতকিছুর পরেও নানা আতঙ্কে আর ভয়ে ভুগছেন সাধারণ জনগণ। কারণ আগে যেখানে ২০০ টাকা জরিমানা থাকলেও সেখানে পুলিশকে ঘুষ দেওয়া লাগতো ৫০০ টাকা আর এখানে এখন ১০ হাজার টাকা যেখানে জরিমানা সেখানে তাহলে পুলিশকে দেওয়া লাগতে পারে ৫০ হাজার টাকা।

অপর দিকে সড়ক থেকে লাইসেন্স ও ফিটনেস নেই এমন গাড়ি জরিমানার ভয়ে বের করেনি অনেকেই। কাগজপত্র পরীক্ষা করলে বিপুল পরিমাণ অর্থ জরিমানা দিতে হবে এ ভয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার অনেকে গাড়ি বের করেনি। নগরীর ও আন্তঃজেলার সড়ক থেকে অধিকাংশ ফিটনেসবিহীন গাড়ি উধাও হয়ে যায়। কেবল যেসব গাড়ির ফিটনেস ও চালকের লাইসেন্স এবং অন্যান্য কাগজপত্র ঠিক আছে সেসব গাড়িই সড়কে চলতে দেখা গেছে।

পুলিশ কাগজপত্র পরীক্ষা করলে আইনের আওতায় বিপুল পরিমাণ অর্থ জরিমানা দিতে হবে এমন ভয় থেকে তারা গাড়ি বের করেনি। খুলনা এক বাস মালিক আরমান মিয়া জানান, ফিটনেস ও মেয়াদ উত্তীর্ণ কাগজপত্রের বেলায় ২৫ হাজার টাকা জরিমানার কথা বলা হয়েছে নতুন আইনে। এসব কাগজপত্র ঠিক করতে বিআরটিএতে গাড়ি প্রদর্শন ও দাপ্তরিক কাজ- ব্যাংকে টাকা পরিশোধ করা সব মিলিয়ে ১০/১২ দিন সময় লেগে যায়। কাগজপত্র হালনাগাদ করতে ন্যূনতম একমাস সময় দেয়া হলে গাড়ির মালিকরা কাগজপত্র হালনাগাদ করতে যেমন সময় পাবেন তেমনি সরকারও প্রচুর রাজস্ব পাবে।

পাশে মংলা বন্দর এবং খুলনা বিভাগীয় শহর হওয়ায় বন্দর পরিবহনে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় হাজারের অধিক যানবাহন আসা যাওয়া করে। অথচ কোথাও গাড়ি পার্কিংয়ের সুনিদিষ্টি স্থান নেই। চালকরা বাধ্য হয়ে সড়কের পাশে গাড়ি পার্কিং করে থাকে। অথচ অবৈধ পার্কিংয়ের কথা বলে যত্রতত্র মামলা দেয়া হচ্ছে। এ ধরনের বেশ কিছু বিষয়ে নতুন সড়ক আইনে জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। অবকাঠামো তৈরির আগে আইন করার কারণে যানবাহন মালিকরা হয়রানির শিকার হবে।

শিক্ষানবীশ লাইসেন্স নিতে এসে এক গ্রাহক নাহিদ রেজা বলেন, আইন হয়েছে আমরা তাকে শ্রদ্ধা জানাই। কিন্তু এই আইনের অপব্যবহার তো হবে। কারণ আগে যেখানে ২০০ টাকায় অপরাধে পুলিশকে ৫০০ টাকা দিতে হতো যদি কোন লাইসেন্স না থাকতো। আর এখন সেখানে পুলিশকে দিতে হবে ২০ হাজার টাকা। পুলিশের যত ক্ষোভ সব মোটরসাইকেল এর উপরে কারন বেচে বেচে শুধু আমাদেরই ধরে

বিআরটিএ খুলনা সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি:) মো: আবুল বাসার বলেন, অন্যান্য সপ্তাহে যেখানে ৪৫০ থেকে ৫০০ টির মধ্যে লার্নার সীমাবদ্ধ থাকত, সেখানে চলতি সপ্তাহে হয়েছে ১৬৯০টি। অবশ্য এর আগে গত বছর ঢাকার ছাত্র আন্দোলনের সময় যখন সকাল নয়টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত অফিস হচ্ছিল তখন স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়ে। এরপর আবেদনের হার কমলেও গতসপ্তাহ থেকে হঠাৎ করে বেড়ে যায়।

শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদনের পাশাপাশি গতকাল বিআরটিএ খুলনা সার্কেলে মোটর সাইকেলের নতুন রেজিষ্ট্রেশনের আবেদনও কিছুটা বেড়েছে। যদিও তুলনামূলক তার সংখ্যা ছিল খুবই কম। সহকারী পরিচালক(ইঞ্জি:) বলেন, গতসপ্তাহে নতুন রেজিষ্ট্রেশনের জন্য আবেদন পড়েছে ২২৮টি আর চলতি সপ্তাহে আবেদন পড়েছে ২৮০ টি।

অবশ্য মোটর সাইকেল চালকদের ক্ষেত্রে যেমনটি ভিড় দেখা গেছে অন্যান্য যানবাহনের ক্ষেত্রে তেমনটি দেখা যায়নি। বিআরটিএ’র দেয়া তথ্য মোতাবেকও এমন চিত্র মিলেছে। এতে আপাতত দৃষ্টে মনে হচ্ছে, নতুন আইনে সবচেয়ে বেশি আতংকের মধ্যে আছে মোটর সাইকেল আরোহীরাই।

আরকে

 

 

 

 

 


oranjee