ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৫ কার্তিক ১৪২৬

 
 
 
 

কুষ্টিয়ায় বিপ্লবী বাঘা যতীনের ১০৪ তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন

গ্লোবালটিভিবিডি ৪:০৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯

সংগৃহীত ছবি

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামের নায়ক বিপ্লবী বাঘা যতীনের (যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়) ১০৪ তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

কুষ্টিয়ার কুমারখালী কয়া ইউনিয়নের কয়া মহাবিদ্যালয়ে সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২ টায় কুমাখালী শাখা একাত্তরের ঘাতক দালাল নিমূল কমিটি বিপ্লবী বাঘা যতীনের ১০৪ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ নাগরিক সমাবেশের আয়োজনে করে।

এ সমাবেশে নিমূল কমিটির কয়া শাখার সভাপতি জালাল উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ।

সম্মানিত বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নিমূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, নিমূল কমিটির কুমারখালী উপজেলা শাখার সভাপতি এ টি এম আবুল মনছুর মজনু, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কুমারখালী উপজেলা শাখার সভাপতি জয়ীতা মমতাজ বেগম, কুমারখালী নাগরিক কমিটির সভাপতি আকরাম হোসেন, কয়া মহাবিদ্যালয়ের সভাপতি নিজামুল হক চুন্নু, সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের কুমারখালী শাখার সভাপতি রাজিবুল আলম মেহেদি।

বিশেষ অতিথি ছিলেন শিলাইদহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও কুমারখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভ-সভাপতি সালাউদ্দিন খান তারেক, চাপড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও কুমারখালী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মনির হাসান রেন্টু, প্রাবন্ধিক ও নাট্যকার লিটন আব্বাস, রানা টেক্সটাইলের পরিচালক মাসুদ রানা।

এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুমারখালী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক সিরাজুল ইসলাম ভুট্টো, জগন্নাথপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ফারুক আজম হান্নানসহ স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শংকর কুমার প্রমুখ।

মেরিনা হাসান মেরির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতা করে কয়া বাঘা যতীন থিয়েটার।

প্রসঙ্গত ভারতবর্ষের ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসকদের বিরুদ্ধে যারা সশস্ত্র সংগ্রাম করেছেন, সেই সংগ্রামে যাদের আত্মদান ইংরেজ শাসকদের বুকে কাঁপন ধরিয়েছেন দুইশ বছরের ঔপনিবেশিক শাসনের ভিত্তিমূলে আঘাত করে স্বাধীনতা অনিবার্য করে তুলেছিলেন যারা, তাদের অন্যতম বিপ্লবী যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়। তিনি বাঘা যতীন নামেই পরিচিত।

তিনি ১৯১৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর তৎকালিন ব্রিটিশ ভারতের উরিষ্যার বালাশোরে কপ্তিপোদায় ইংরেজ বাহিনীর সঙ্গে চারজন সহযোদ্ধা নিয়ে সম্মুখ যুদ্ধে গুলিবিদ্ধ হোন। পরের দিন ১৯১৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় মৃত্যু মারা যান। মৃত্যুর সময় তিনি ছিলেন মাত্র ৩৬ বছর বয়সের একজন তরুণ।

বিপ্লবী বাঘা যতীনের জন্ম ১৮৭৯ সালের ৮ ডিসেম্বর কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া গ্রামের মাতুলালয়ে। তার পিতার নাম উমেশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় এবং মাতার নাম শরৎশশী। বাঘা যতীনের মা বিধবা শরৎশশী দেবী ছিলেন স্বভাব কবি। স্বামীর স্বর্গারোহণ, শ্মশান, সংসার প্রভৃতি কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা ছিলেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই বাঘা যতীনকে সাহসী করে তোলার পেছনে তার মা শরৎশশীর ভূমিকা ছিল অপরিসীম। ১৮৯৯ সালে বাঘা যতীনের মায়ের মৃত্যু হলে বোন বিনোদবালা বাঘা যতীনকে মায়ের স্নেহে গড়ে তোলেন। তৎকালীন ইংলিশ মিডিয়ামে পড়াশোনা করা শিক্ষিত বোন বিনোদবালাও ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামে সাহসী ভূমিকা রেখেছিলেন। বাঘা যতীনের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অনুপ্রেরণার উৎস ছিলেন তার এই বোন বিনোদবালা। যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাঘা যতীন হয়ে ওঠার পেছনে তার মামারা অসামান্য ভূমিকা রেখেছেন। বিশেষ করে বড় মামা বসন্ত কুমার মুখোপাধ্যায়। চুয়াডাঙ্গা হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন প্রথম জীবনে। পরে তিনি নিজেকে আইন পেশায় নিয়োজিত রেখেছিলেন এবং ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জমিদারী সংক্রান্ত নানা প্রয়োজনে বিপ্লবী বাঘা যতীনের বড় মামা বসন্তকুমার চট্টোপাধ্যায়ের পরামর্শ নিতে কয়া গ্রামে আসতেন।

কেএস/এএইচ/এমএস


oranjee