ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৫ কার্তিক ১৪২৬

 
 
 
 

চীনের প্রতিনিধি দলের ক্যাম্প পরিদর্শন, রোহিঙ্গারা বিভিন্ন দাবিতে অনড়

গ্লোবালটিভিবিডি ৮:৪৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯

সংগৃহীত ছবি

কক্সবাজার প্রতিনিধি : বরাবরের মতই রোহিঙ্গারা নিজেদের দাবি পূরণে অনড় অবস্থানে রয়েছে। নিজেদের চাহিদা মত দাবি পূরণ না হলে স্বদেশে ফিরে যাবে না এমন কথা এখন রোহিঙ্গাদের মুখে মুখে বরং প্রত্যাবাসনের আলোচনা সামনে আসলে তাদের দাবি দাওয়ার চাহিদা আরো বেড়ে যায়।

এরই ধারাবাহিকতায় রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিংয়ের নেতৃত্বে চীনের একটি প্রতিনিধি দল রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে গেলে ফের তাদের কাছেও কেড়ে নেওয়া ভিটেমাটি ও নিরাপত্তাসহ নানান দাবির কথা তুলে ধরেন রোহিঙ্গারা।

ঠিক কি করলে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে যাবেন, লি জিমিং-এর এমন প্রশ্নের জবাবে রোহিঙ্গারা বলেন, ভিটেমাটি কেড়ে নেয়া সব সহায়সম্বল ফিরিয়ে দিতে হবে এবং আবার যে কেড়ে নেয়া হবে না এমন গ্যারান্টিসহ নিরাপত্তা দিতে হবে।

তুমব্রু সীমান্তে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে চীনের রাষ্ট্রদূত ঘুমধুম সীমান্তের ট্রানজিট ঘাট ও মিয়ানমার-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু পরিদর্শন করেন। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (অতিরিক্ত) শামসুদ্দৌজা নয়নসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (অতিরিক্ত) শামসুদ্দৌজা নয়ন বলেন, তিন দিনের সফরে কক্সবাজার এসেছেন চীনের রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। তুমব্রু সীমান্তের রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট পরিদর্শন করেছেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।

এর আগে রোববার সকাল ১১টার দিকে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছায় চীনের প্রতিনিধি দল। সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাবে প্রতিনিধিদলটি। সেখানেও শরণার্থী রোহিঙ্গাদের মতামত নেবেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। পরিদর্শন শেষে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং।

গত ২২ আগস্ট রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছিল চীন। চীনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আলোচনা করে সরকার কিন্তু রোহিঙ্গারা রাজি না হওয়ায় সেই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়।

২০১৭ সালে ২৫ আগস্ট রাখাইনের ৩০টি নিরাপত্তা চৌকিতে একযোগে হামলার ঘটনা ঘটে। সেই হামলায় প্রতিক্রিয়ায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিধন অভিযান শুরু করে। ফলে প্রাণ বাঁচাতে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়।

এর আগে থেকেই বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাসহ উখিয়া-টেকনাফের ৩০টি শিবিরে এখন ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী এই সংখ্যা ১১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৫৭ জন। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি।

জেইউ/এমএস


oranjee