ঢাকা, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৬ আশ্বিন ১৪২৬

 
 
 
 

সন্ত্রাসীদের নৃশংস কোপে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে সঙ্গীতশিল্পী জেমি

গ্লোবালটিভিবিডি ২:২৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯

ফাইল ছবি

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া শহরের পশ্চিমপাড়ার নিজ বাসায় সন্ত্রাসীরা নৃশংসভাবে কুপিয়েছে কণ্ঠশিল্পী জেমি পারভীনকে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৮ আগস্ট রাতে জেমি পারভীনের স্বামীর বাড়িতে। এখন তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।

জানা গেছে, ঈদ এবং শোক দিবস পালন করে ওইদিনই জেমি ঢাকা থেকে উল্লাপাড়া যান। রাতে একাকী ঘরে বসে টিভি দেখছিলেন। বাইরে টিপটিপ বৃষ্টি। হঠাৎ কলিং বেজে ওঠে। দরজা খোলার সাথে সাথে ঘরে ঢোকে ৫/৬ সন্ত্রাসী। সবার শরীরে রেইনকোট। হাতে চাপাতি, রাম দা, চায়নিজ কুড়াল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সন্ত্রাসীরা স্কচটেপ দিয়ে জেমির মুখ আটকে দেয়। এরপরই অশ্রাব্য গালাগাল, সঙ্গে এলোপাতাড়ি কোপ। জবাই করার গরুর মতোই ফিনকী দিয়ে বেরোয় রক্ত। কয়েক মিনিটের মিশন। মৃত ভেবে সন্ত্রাসীরা ড্রয়িং রুমে ফেলে যায়। যাওয়ার সময় সন্ত্রাসীরা জিপার খুলে প্রশ্রাব করে দেয় জেমির মুখে।

নিচ তলায়ই ভাড়া থাকেন সিরাজগঞ্জ-পাবনা মহাসড়কে কর্মরত ট্রাফিক পুলিশের কয়েকজন সদস্য। তারা কেউ টের পাননি। পরে জেমিকে প্রথমে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতাল এবং পরে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। পরদিন ১৯ আগস্ট জেমি পারভীনের স্বামী মোহাম্মদ আলী বাদী হয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানায় মামলা (নং-৪ (৮) ১৯, তারিখ ১৯/০৮/২০১৯ইং) দায়ের করেন। তাতে আসামি করা হয় জেমির চাচাতো ভাই রতন (৪৫), রূহুল আমিন (৪০), মো. মানিক (৪৬), মো. বাবুল (৪২)কে।

হাসাপাতালের বিছানায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে জেমি জানান, চাচাতো ভাই-বোনদের সঙ্গে শাহজাদপুর থানাধীন মাকরকোলা বাজারঘাটি গ্রামে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনের। ওরা ইতিমধ্যেই জালিয়াতির মাধ্যমে তাদের অনেক সম্পত্তি দখল করে নিয়েছে। বাকি সম্পত্তি নামমাত্র মূল্যে দিয়ে দিতে চাপ দেয়া হচ্ছে। রাজি না হওয়ায় হত্যার উদ্দেশ্যে এ হামলা। এটিই প্রথম নয়। এর আগে আরো চারবার তার ওপর নৃশংস হামলা হয়।

জেমি জানান, তারা ১০ বোন। তিনি নবম। সবার ছোট এক মাত্র ভাই। দুই সন্তানের জননী জেমি স্বামীর সঙ্গে ঢাকায় বসবাস করেন। কণ্ঠশিল্পী হবার সুবাদে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সাথে পরিচয় রয়েছে। সরাসরি দলীয় রাজনীতিতে যুক্ত না থাকলেও তিনি ও তার পরিবার আওয়ামী লীগের অনুসারী। পরিবারের পক্ষে পৈত্রিক সম্পত্তি সর্বশক্তি দিয়ে আগলে রাখতে চান। এ কারণে তিনিই সন্ত্রাসীদের প্রধান টার্গেট।

এদিকে ঘটনার পর প্রায় এক মাস হতে চললেও কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি উল্লাহপাড়া থানা পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উল্লাপাড়া থানার সাব-ইন্সপেক্টর জাহিদুল ইসলাম বুধবার গণমাধ্যমকে বলেন, মামলাটির তদন্ত চলছে। বাদী মোহাম্মদ আলী সাহেবকে নিয়ে একাধিকবার অভিযান চালিয়েও আসামিদের গ্রেফতার করা যায়নি।

এএইচ/এমএস


oranjee

আরও খবর :