ঢাকা, রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৬ আশ্বিন ১৪২৬

 
 
 
 

মধ্যরাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে উত্তেজনা

গ্লোবালটিভিবিডি ৩:০৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৬, ২০১৯

ফাইল ছবি

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মধ্যরাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

ঘটনার এক পর্যায়ে আবাসিক হলগুলোর আশপাশে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

সোমবার (২৬ আগস্ট) রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল (ছাত্র) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে, রাত দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ছাত্র উপদেষ্টার মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে।

এ ঘটনায় দুই গ্রুপের অন্তত ৫-৭ জন কর্মী আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে তিনজনকে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। বাকিদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রবিবার (২৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিবের নেতৃত্বে প্রায় ২০-২৫ জন নেতাকর্মী সাদ্দাম হোসেন হলের ৩৩৫ নম্বর রুমে যান। সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের কর্মীরা দরজায় লাথি মারতে থাকলে ছাত্রলীগের এক গ্রুপের কর্মী মোশাররফ হোসেন নীল রুম থেকে বেরিয়ে আসেন। এরপর রাকিবের নেতৃত্বে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী সুমন কুমার দাসসহ অন্যরা নীল ও শিমুলকে মারধর শুরু করেন। নীল একপর্যায়ে হল থেকে বেরিয়ে তার গ্রুপের নেতাকর্মীদের জানালে জিয়া মোড়ে দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক হাতাহাতি হয়। হাতাহাতির একপর্যায়ে সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সুমনসহ অন্যরা জিয়া মোড় থেকে পালিয়ে যান।

এর জের ধরে ছাত্রলীগের অপরাংশের নেতাকর্মীরা বঙ্গবন্ধু হলের সামনে অবস্থান নেন। অন্যদিকে, ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের নেতাকর্মীরা জিয়া মোড়ে অবস্থান নেন। এসময় উভয় গ্রুপের কর্মীরা পরস্পরের দিকে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যান। এতে ছাত্রলীগের বিদ্রোহী গ্রুপের ধাওয়া খেয়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের নেতাকর্মীরা আবাসিক হলের ভেতর গিয়ে কলাপসিবল গেট আটকে দেন। এসময় উভয় পক্ষের কাছে দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোটা দেখা যায়। ঘটনার এক পর্যায়ে জিয়া মোড়সহ লালন শাহ্ হল ও জিয়া হলের সামনে বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ও কয়েক রাউন্ড গুলি ছোঁড়ার ঘটনা ঘটে।

পরে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. পরেশ চন্দ্র বর্মন ও সহকারী প্রক্টর এস এম নাসিমুজ্জামান ঘটনাস্থলে গিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। এর পরেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

ছাত্রলীগের একাংশের নেতা তন্ময় সাহা বলেন, শোকের মাসে সাধারণ সম্পাদক খাবার খাওয়ার সময় আমাদের দুই কর্মীকে অযাচিতভাবে মারধর করেন। আমরা এর কারণ জানতে চাইলে তারা আমাদের ওপর চড়াও হন। পরবর্তি সময়ে আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ঘটনাটি একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত। এটাকে পুঁজি করে কিছু অছাত্র ও বহিরাগত ছাত্রলীগ পরিচয় দিয়ে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. পরেশ চন্দ্র বর্মন বলেন, পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই গ্রুপের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছি। সবাই এখন নিজ নিজ হলে অবস্থান করছে।

প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) ড. আনিচুর রহমান বলেন, ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি এখন ভালো। নিরাপত্তা জোরদারের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।

এএইচ/এমএস


oranjee