ঢাকা, শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯ | ৯ ভাদ্র ১৪২৬

 
 
 
 

শেখ হাসিনার ট্রেনে হামলায় বিএনপির শীর্ষ নেতারা জড়িত : হানিফ

গ্লোবালটিভিবিডি ৬:৪৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৮, ২০১৯

সংগৃহীত ছবি

পাবনা প্রতিনিধি : আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল উল আলম হানিফ বলেছেন, পাবনার ঈশ্বরদীতে ১৯৯৪ সালে শেখ হাসিনার ট্রেনে গুলিবর্ষণ ঘটনার সাথে বিএনপির শীর্ষ নেতারা জড়িত ছিলেন। এ সংক্রান্ত মামলার রায়ে দোষিদের পক্ষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের বিবৃতি এবং বিএনপির এমপিদের ভূমিকা দেখেই এ বিষয়টি প্রমাণিত। তিনি হামলার সাথে বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ জড়িত থাকার বিষয়টি তদন্ত করে তাদের আইনের আওতায় দাবি জানান।

বৃহস্পতিবার বিকালে পাবনা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষে শহরের দোয়েল সেন্টারে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হানিফ বলেন, আওয়ামীলীগের জন্য সুশৃঙ্খল কর্মী দরকার। আওয়ামীলীগে সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ, যুদ্ধাপরাধী পরিবারের সন্তানদের কোন স্থান নেই। তিনি বলেন, আওয়ামীলীগ সরকারকে নিয়ে অতিতেও ষরযন্ত্র হয়েছে, এখনো হচ্ছে। কিন্ত নেতা কর্মীরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে তাহলে কোন শক্তিই আওয়ামীলীগকে দাবায়ে রাখতে পারবে না। 

তিনি আরও বলেন শেখ হাসিনা তথা আওয়ামী লীগ দেশ কে উন্নত রাষ্ট্রের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। তিনি বলেন, আ’লীগ ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোন শক্তি আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারবে না।

আলোচনা পর্ব শেষে কমিটির নাম ঘোষণা ছাড়াই কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ পাবনা ত্যাগ করেন। কমিটি পরে ঘোষণা করে হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সুইট জানান, সম্মেলন সফলভাবে শেষ হয়েছে। এছাড়া কেন্দ্র ও পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক যাদের যোগ্য মনে করবেন তাদের দিয়েই কমিটি পরে ঘোষণা করা হবে বলে তিনি জানান।

এদিকে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন ঘিরে পাবনায় আ’লীগ নেতা- কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা যায়। সম্মেলন উপলক্ষে অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে শহরের বিভিন্নস্থানে বিলবোর্ড স্থাপন ও তোরণ লাগানো হয়। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ দুটির জন্য সংশ্লিষ্টরা এরই মধ্যে কেন্দ্র এবং জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দের ব্যাপক লবিং করেন। তারা বিভিন্নভাবে তাদের যোগ্যতা এবং দলের জন্য ত্যাগকে সামনে এনে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালিয়ে যান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও নিজেদের আইডিতে দলীয় কর্মকান্ডের ছবি প্রকাশ করে নিজেদের অবস্থান জানান দেন।

তবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী এবং সংগঠনের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত এমন গুণাবলীসম্পন্ন লোকেরা শীর্ষপদে আসীন হতে পারেন বলে দলীয় নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন- জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান সুইট, সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজের সাবেক নির্বাচিত ভিপি আ. আজিজ, খন্দকার আহমেদ শরিফ ডাবলু, ইঞ্জি. রুহুল আমিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জি. রফিকুল ইসলাম রুমন, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সেলিম হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মামুন আজিজ খান তুষার, জেলা যুবলীগের সাবেক উপ-প্রচার সম্পাদক জুয়েল চৌধুরী, এডওয়ার্ড কলেজ শাখা ছাএলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আহসানুল সরকার রাজিব এর নাম।

স্বেচ্ছাসেবক লীগ এর পাবনা শাখা আহবায়ক জামিরুল ইসলাম মাইকেল এর সভাপতিত্ব অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, কৃষিবিদ বাহাউদ্দিন নাছিম। প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেবনাথ এমপি। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আবু কাওসার মোল্লা। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন পাবনা জেলা আ’লীগের সভাপতি শামসুর রহমান শরীফ ডিলু এমপি, এ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু এমপি, মকবুল হোসেন এমপি, আহমেদ ফিরোজ কবির এমপি, পাবনা জেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক গোলাম ফারুক প্রিন্স এমপি প্রমুখ।

এআইজে/আরকে

 


oranjee