ঢাকা, শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

 
 
 
 

মরিচ বিক্রি করে কৃষকের হাসি ফুটলেও ব্যাংক না থাকায় শঙ্কায় ব্যবসায়ীরা

গ্লোবালটিভিবিডি ২:৫৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৩, ২০১৯

সংগৃহীত ছবি

মো.সাদ্দাম হোসেন, ঠাকুরগাঁও: কাঙ্ক্ষিত ফলন আর বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় মরিচ চাষে লাভবান হচ্ছে ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষক। এবার ধান বিক্রি করে লোকশান গুনলেও মরিচ বিক্রি করে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিচ্ছেন তারা। তবে জেলার সর্ববৃহৎ মরিচ কেনা বেচার হাটে টাকা লেনদেনে কোন ব্যাংক না থাকায় শঙ্কিত ব্যবসায়ীরা। দুষ্কৃতিকারীদের কবলে পড়ে প্রতি বছর টাকা খোঁয়া যাচ্ছে তাদের। এসব সমস্যা স্বীকার করে উপজেলা প্রশাসন বলছে, এ দুর্ভোগ লাঘবে খুব শিগগির বাণিজ্যিক ব্যাংক স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

চলতি মৌসুমে বোরো ধান আবাদ করে লোকসানে পড়ে ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষক। ফলন ভালো পেলেও ধান
বিক্রি করে উৎপাদন খরচ উঠেনি তাদের। এমন পরিস্থিতিতে মরিচ বিক্রি করে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিচ্ছেন কৃষক।

সদর উপজেলা বেগুনবাড়ি গ্রামের কৃষক আব্দুল হালিম বলেন, ক্ষেত থেকে মরিচ তুলে তা শুকিয়ে বিক্রি করছি বাজারে । বাজারে এখন প্রতিমন শুকনা মরিচ বিক্রি করছি ৪৮শ থেকে ৫২শ টাকা দরে । মন প্রতি মরিচ বিক্রি করে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভবান হচ্ছি। একই কথা বলেন কৃষক রফিকুল, জব্বার আফসার আলীসহ একাধিক কৃষক। তারা বলেন, ধানের লোকসান কিছুটা হলেও মরিচ চাষ করে লাঘব হবে।

ঠাকুরগাঁও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ উপ-পরিচালক আফতাব হোসেন বলেন, আবহাওয়া অনুকূল ও কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়ায় কৃষক খুশি। উন্নত জাতের মরিচ চাষে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে কৃষকদের। মরিচ লাভজনক ফসল হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে ঠাকুরগাঁও জেলায় ।

মরিচ চাষ কেন্দ্র করে রায়পুরে গড়ে উঠেছে কেনাবেচার হাট। প্রতি মাসে ১৫ কোটি টাকার শুকনা মরিচ কেনা বেচা হয় এই হাটে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার মরিচ যাচ্ছে ঢাকা, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, সিলেট, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ।

রায়পুর বাজারে মরিচ ক্রয় করতে আসা ব্যবসায়ী হামিদুল হালদার, আশরাফুল রেদওয়ানসহ একাধিক ব্যবসযায়ী আক্ষেপে করে বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা অনুন্নত আর অর্থ লেনদেনে কোন ব্যাংক না থাকায় তারা আতঙ্কিত। আড়ৎ থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে গিয়ে ব্যাংকিং করতে হয় তাদের। এতে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে টাকা হারিয়েছেন অনেক ব্যবসায়ী। আর অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা হওয়ায় মরিচ পরিবহনে অতিরিক্ত সময় লাগছে তাদের।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধিরা ব্যাংক স্থাপনের আশ্বাস দিলেও আজো তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। দ্রুত সড়ক প্রশস্তকরণ করা না হলে ব্যবসার প্রসার না হওয়ার কথা বলছেন তারা। এতে ক্ষতিতে পড়তে পারেন চাষিরা। তবে এসব সমস্যা স্বীকার করে সদর উপজেলা প্রশাসন বলছেন, এ সরকারের সময়েই ব্যাংক স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জেলার কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জেলার বৃহৎ এই মরিচের হাটকে ঘিরে ঠাকুরগাঁওয়ের ৫টি উপজেলার সীমানা পেরিয়ে আশপাশ এলাকায় মরিচের আবাদ দিন দিন বাড়ছে। এ জেলায় এ বছর ১২শ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ হয়েছে।

এসএইচ/এমএস


oranjee