ঢাকা, রবিবার, ২১ জুলাই ২০১৯ | ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

 
 
 
 

কক্সবাজার সৈকতে আতঙ্ক : ভেসে এলো আরো চার লাশ

গ্লোবালটিভিবিডি ৬:২৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০১৯

সংগৃহীত ছবি

জসীম উদ্দীন, কক্সবাজার: বঙ্গোপসাগরের কক্সবাজার উপকূলে ভোলার এক মাছ ধরার বোট ডুবির ঘটনায় আরো চার জেলের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সমুদ্র সৈকতের কলাতলী বেলী হ্যাচারি পয়েন্ট থেকে একটি এবং বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরের সমিতিপাড়া, মহেশখালীর হোয়ানক ও রামুর হিমছড়ি সমুদ্র পয়েন্ট থেকে আরো তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই নিয়ে এখন পর্যন্ত ১০ জেলের লাশ উদ্ধার হয়েছে। একই ঘটনায় আরো দু’জেলেকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ উদ্দীন খন্দকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহতদের মধ্যে সাতজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- ভোলার চরফ্যাশনের পূর্ব মাদ্রাসা এলাকার তরিফ মাঝির ছেলে কামাল হোসেন (৩৫), চরফ্যাশনের উত্তর মাদ্রাসা এলাকার নুরু মাঝির ছেলে অলি উল্লাহ (৪০), একই এলাকার ফজু হাওলাদারের ছেলে অজি উল্লাহ (৩৫), মৃত আবদুল হকের ছেলে মো. মাসুদ (৩৮), শহিদুল ইসলামের ছেলে বাবুল মিয়া (৩০) ও নজিব ইসলামের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৩৬), চরফ্যাশনের রসুলপুর এলাকার আসমান পাটোয়ারীর ছেলে শামসুদ্দিন পাটোয়ারী (৪৫)। অপর তিনজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এর আগে বুধবার সকালে সৈকতের সি-গাল পয়েন্ট থেকে ছয়জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় ভোলা জেলার চরফ্যাশন এলাকার ওয়াজেদ উদ্দিনের ছেলে জুয়েল (১৭) ও মকবুল আহমদের ছেলে মনিরকে (৩৮) জীবিত উদ্ধার করা হয়। তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

জীবিত উদ্ধার হওয়া চিকিৎসাধীন জেলে মনির জানান, গত ৪ জুলাই (বৃহস্পতিবার) ভোলা চরফ্যাশনের শামরাজ ঘাট থেকে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে ট্রলার নিয়ে তিনি সাগরে যান। তারা মোট ১৪ জন ওই ট্রলারে ছিলেন। গত ৬ জুলাই (শনিবার) ভোরে হঠাৎ ঝড়ো হাওয়া ও উত্তাল ঢেউয়ের তোড়ে ট্রলারটি থেকে ছিটকে পড়েন তারা। পরে ট্রলারটিও উল্টে যায়। এরপর কে কোথায় হারিয়ে গেছে তা জানা যায়নি।

কিন্তু ট্রলার ধরে রাখেন অনেকে। ঢেউয়ের ধাক্কায় ট্রলারটি বারবার উল্টে যায়। তবুও তারা ট্রলার ধরে রাখার চেষ্টা করেন। ঢেউয়ের ধাক্কায় ট্রলার থেকে ছিটকে পড়ে আবার ধরেন। তবে এই সময় প্লাস্টিকের বেশ কয়েকটি পানির বোতল ড্রামের সঙ্গে বেঁধে ফেলেন তারা। দুয়েকটি বোতলে পানি রেখে বাকি সব বোতলের পানি ফেলে দেন। এতদিন ওই পানি খেয়ে বেঁচে ছিলেন তারা।

এদিকে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সৈকতে একের পর লাশ ভেসে আসার ঘটনা আতংক ছড়িয়ে পড়েছে পর্যটকদের মধ্যে। অনেকেই আতংকে সৈকতে নামা থেকে বিরত থাকেন। আবার কেউ কক্সবাজার ত্যাগ করে ফিরে যান বাড়িতে।

স্থানীয় মনছুর আলম,ইয়াসীন আরফাতসহ আরো কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

ঢাকা মালিবাগ থেকে স্ব-পরিবারে ঘুরতে আসা সাহাব উদ্দীন নামের এক পর্যটক জানান, বৃহস্পতিবারে রাতে তারা কক্সবাজারে এসেছিলেন। এসে শুনতে পান সৈকতে একের পর এক লাশ ভেসে আসার ঘটনা ঘটছে। পুরো পরিবারে এ নিয়ে আতংক বিরাজ করছে তাই তিনি শুক্রুবার ৪টার গাড়িতে পরিবার নিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।

শাহীন নামের আরেক পর্যটক জানান, গত তিনদিন ধরে তিনি কক্সবাজারে অবস্থান করছেন। তবে টানা বৃষ্টি আর লাশ ভেসে আসার ভয়ে তিনি সৈকতে নামেননি।

মমিয়া নামের এক পর্যটক তরুণী জানান,শুক্রুরবার সৈকতের কলাতলী বেলী হ্যাচারি পয়েন্টে থেকে উদ্ধারকৃত লাশটি তিনি সৈকতে ভাস দেখেছেন। তাই তার অস্থির লাগছে, হোটেলে সায়মুনে উঠেছেন জানিয়ে এই তরুণী আর এক মুহুর্তেও কক্সবাজারে থাকতে চান না বলে জানান।

তবে ঢাকা থেকে আসা ইমরান নামের এক পর্যটক জানান, আতংকের কিছুই নেই। সাগরে দুর্ঘটনাবশত লাশ উদ্ধার হতেই পারে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবা হোসাইন বলেন, ট্রলার দুর্ঘটনায় একটি দুঃখজনক ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি প্রাকৃতিক দুর্ঘটনা। যার সঙ্গে পর্যটন শহরের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। তাই পর্যটকদের নির্ভয়ে কক্সবাজার ভ্রমণের আহ্বান জানান তিনি।

জেইউ/এমএস


oranjee