ঢাকা, রবিবার, ২১ জুলাই ২০১৯ | ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

 
 
 
 

নারায়ণগঞ্জে অনুমোদনহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নৈরাজ্য

গ্লোবালটিভিবিডি ৩:৪৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০১৯

সংগৃহীত ছবি

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষক। আর এই দুয়ের মেলবন্ধন হলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি ধাপে একজন মানুষকে সুশিক্ষিত হিসেবে গড়ে তোলা হয়। জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে সফলতা পাওয়ার বীজ বপন করা হয়। সাথে সাথে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। তাই প্রতিটি মানুষের কাছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উপাসনালয়ের মতই পবিত্র। কিন্তু অপ্রিয় হলেও সত্যি যে, সমসাময়িক কিছু ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মানুষ এই বিশ্বাস থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে পড়ছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা নিয়ে সারা দেশ সমালোচনায় মুখর।

নারায়ণগঞ্জ জেলা রয়েছে এই তালিকার শীর্ষে। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ মহানগরী সিদ্ধিরগঞ্জ মিজমিজি কান্দাপাড়া মাদ্রাসা রোড এলাকায় অবস্থিত অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল হাই স্কুলে ২০-এর অধিক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনা এবং ফতুল্লা ভূঁইগড় মাহমুদপুর বাইতুল হুদা ক্যাডেট মাদ্রাসার ১২ শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় উক্ত স্কুল এবং মাদ্রাসার শিক্ষককে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় পুরো নারায়ণগঞ্জে এক প্রকার থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের মধ্যে বিরাজ করছে ভয়াবহ আতঙ্ক। তারা তাদের কন্যা সন্তানকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতন পবিত্র স্থানে পাঠিয়েও নিশ্চিন্ত হতে পারছেনা। এককথায় বলতে গেলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাদের আস্থা শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।

নারায়ণগঞ্জে নামে-বেনামে প্রায় দুহাজারের অধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। যার মধ্যে বেশির ভাগই অনুমোদনহীন। আর এই অনুমোদনহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা ব্যবস্থাও মানহীন। এই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যথাযথ তদারকির অভাবে নিয়মহীনভাবেই চলছে পাঠদান কর্মসূচি। তার সাথে সাথে অভিভাবকদের উপর অপ্রয়োজনীয় বাড়তি বেতনের চাপ তো রয়েছেই। এর সাথে যুক্ত হয়েছে শিক্ষকদের দ্বারা ছাত্রীদের যৌন হয়রানি করার ঘটনাগুলো। সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঘিরে একপ্রকার অস্বস্তিকর অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থা বেশিদিন চলমান থাকলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত হুমকির মুখে পড়বে।

অভিভাবকরা বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পর আমাদের অবর্তমানে শিক্ষকরাই শিক্ষার্থীদের অভিভাবক। তাই তাদের সাথে আগ্রাসী হয়ে নয়, অভিভাবকসূলভ আচরণ করতে হবে। তারা যেন ভয় পেয়ে নয়, ভালোবেসে পড়ায় মনযোগী হতে পারে সেই দিকে খেয়াল রাখতে হবে। আর যারা শিক্ষকের খোলস পড়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানি করে তাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। অচিরেই সকল অবৈধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ বলে মনে করেন অভিভাবকরা। আর প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য ঐ প্রতিষ্ঠানের পরিচালক থেকে শুরু করে শিক্ষক এবং অভিভাবকসহ সকলকেই এগিয়ে আসতে হবে।

এ ব্যাপারে সরকারের নজরদারী বাড়ানোর প্রতি জোর তাগিদ জানান অভিভাবকরা। অন্যথায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দেশ গড়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে।


এসকেআর/এমএস


oranjee