ঢাকা, সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯ | ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

 
 
 
 

দূষণ-দখলের চাপে ভয়াবহ রূপ শীতলক্ষ্যার

গ্লোবালটিভিবিডি ৪:১৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৬, ২০১৯

সংগৃহীত ছবি

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : এক সময়ের খরস্রোতা নদী শীতলক্ষ্যা এখন অনেকটাই ম্লান। এক সময় শীতলক্ষ্যা নদীর উভয় তীরবর্তী অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল বাংলাদেশের এককালীন বিখ্যাত মসলিন শিল্প। এমনকি পৃথিবীর বৃহত্তম পাটকল আদমজী জুট মিলও শীতলক্ষ্যার তীরে অবস্থিত ছিল। যা এখন শুধুই ইতিহাস, গল্প-উপন্যাসের পাতায় পাতায়। অথচ এই নদীর তীরকে ঘিরেই নারায়ণগঞ্জ বন্দর ও শহরের গড়ে ওঠা।

বর্তমানে দুর্গন্ধ আর কালো পানিই শীতলক্ষ্যা নদীর নিদর্শন। বর্ষার মৌসুমে কিছুটা প্রাণ ফিরে পেলেও বছরের বেশিরভাগ সময়ই একই অবস্থা থাকে। কল-কারখানার, গৃহস্থালী, মেডিকেল বর্জ্যেসহ নানান ধরণের বর্জ্যের সমাগমস্থল এখন এ শীতলক্ষ্যা। তরল, গৃহস্থালীর বর্জ্য ও শহরের সিটি করপোরেশনের বর্জ্যের একটা বিরাট অংশ নদীতে গিয়ে পড়ছে। এসব কারণে নদী তীরবর্তী বাতাস ময়লা-আবর্জনায় দূষিত হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। নদীর পাড় ঘেঁষে ফেলা হচ্ছে পলিথিন ও অন্যান্য বর্জ্য। এসব বর্জ্য আসছে স্থানীয় মার্কেট ও আড়ৎ থেকে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, নদীর পানিতে রঙ ধরেছে। স্রোতের সাথে ভেসে চলেছে পলিথিন, ফলের খোসা, প্লাস্টিকের বস্তা,বোতল। কচুরিপানার চেয়ে ময়লার পরিমাণই বেশি।

নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, শীতলক্ষ্যার দুই পাড়ের দুই হাজারেরও বেশি শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে তরল বর্জ্যে নির্গমনকারী প্রতিষ্ঠান হল ৩৪৪টি। এর মধ্যে শিল্প-কারখানাগুলোতে বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) রয়েছে ২৮৭টি প্রতিষ্ঠানের (২০১৮ এর তথ্য অনুযায়ী)। যার অধিকাংশরই কার্যক্রম নেই। যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে তরল বর্জ্য শীতলক্ষ্যায় নিক্ষিপ্ত হয়ে থাকে, সেগুলো হচ্ছে ডাইং ফ্যাক্টরি, পাল্প অ্যান্ড পেপার মিল, কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ, সুগার মিল, অয়েল রিফাইনিং, টারবাইন পরিচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র।

জানা গেছে, ২০০৭ সালের অক্টোবরের মধ্যে প্রতিটি শিল্প-কারখানায় ইটিপি বা বর্জ্য পরিশোধন প্রকল্প বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রতিষ্ঠান মালিকদের মধ্যে তেমন কোনো সাড়া মেলেনি। পরে ২০১০ সালের জুনের মধ্যে তা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাঈদ আনোয়ার জানান, যেসব প্রতিষ্ঠান ইটিপি স্থাপন করেছে তাদের মধ্যে সবগুলো প্রতিষ্ঠান তা ব্যবহার করছে কি-না তা খতিয়ে দেখা হবে। যেহেতেু আমি সদ্য নিযুক্ত হয়েছি সেক্ষেত্রে আমার এ সকল বিষয়ে অবগত হতে কিছুটা সময় লাগবে।

স্থানীয় একজন বাসিন্দা জানান, গত ২৫ বছর যাবৎ এ শীতলক্ষ্যার তীরেই বসবাস করছি। চোখের সামনেই শীতলক্ষ্যাকে মরতে দেখছি। বর্ষায় কিছুটা পুরোনো ঢঙে এলেও দুর্গন্ধটা কমে না।

বন্দর রুপসী এলাকার একজন বাসিন্দা জানান, প্রতিদিনই যাতায়ত করি শীতলক্ষ্যা নদীর উপর দিয়ে। আগে ভালো লাগতো। কিন্তু এখন কেমন যেন লাগে। কালোপানি তার ওপর দুর্গন্ধ।

পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক কিশোর জানান, কেউ যদি আমার চোখ বেঁধে দিয়ে এখানে নিয়ে আসে। গন্ধ শুকে বলে দিতে পারবো এটা শীতলক্ষ্যার পাড়।

এদিকে দূষণের সাথে দখলে বিপন্ন শীতলক্ষ্যা। নদীর সীমানা পিলারের মধ্যে গড়ে তোলা হয়েছে অনেক অবৈধ স্থাপনা। নদীর পাড় দখল করে প্রভাবশালী মহল বালির আড়ত, অটোরিকশা স্ট্যান্ড, ব্যবসায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করে রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। তবে ইতিমধ্যেই বিআইডব্লিইটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দর এর উদ্যোগে শীতলক্ষ্যা তীরে কয়েক দফায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সামনে এ ধরণের অভিযান আরো পরিচালনা করা হবে বলে জানান বিআইডব্লিউটিএ’র নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম-পরিচালক মো.গুলজার আলী।

এসকেআর/এমএস


oranjee