ঢাকা, বুধবার, ২৪ জুলাই ২০১৯ | ৯ শ্রাবণ ১৪২৬

 
 
 
 

দীর্ঘ সময় মাছ ধরা বন্ধ, জেলে পরিবারে চলছে চরম অভাব

গ্লোবালটিভিবিডি ৫:৪৯ অপরাহ্ণ, জুন ২৭, ২০১৯

সংগৃহীত ছবি

জসীম উদ্দীন, কক্সবাজার: বঙ্গোপসাগরসহ দেশের বিভিন্ন নদ-নদীতে ৬৫ দিন মাছ ধরা বন্ধ থাকায় সাগর ও নাফনদ উপকূলীয় জেলেদের সংসারে অভাব অনটন বিরাজ করছে। গত ২০ মে থেকে বন্ধ ঘোষণা করার ফলে শত শত নৌকা তীরে পড়ে আছে।

দুই মাসের অধিক মাছ ধরা বন্ধ থাকায় কক্সবাজারে টেকনাফের বিশেষ করে টেকনাফ বাহারছড়া, হোয়াইক্যং, হ্নীলা,টেকনাফ সদর ও সাবরাং-শাহপরীর দ্বীপের হাজার হাজার জেলে পরিবার চরম অভাব যন্ত্রণায় পড়েছে।

এসব জেলে পরিবারগুলো এক প্রকার মানবেতর জীবন যাপন করেছে। রোজগার না থাকায় আহার যোগাড় ও ছেলে-মেয়েদের ব্যয়ভার বহন করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এসব জেলেদের সাগর ও নদীনির্ভর হওয়ায় বিকল্প কর্মসংস্থানও নেই।

এমন কি উপজেলা বাস্তবায়নাধীন কর্মসৃজন প্রকল্পে এসব জেলেদের শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে।

আগামী ২৩শে জুলাই পর্যন্ত মাছ ধরা নিষেধ বলবত থাকায় জেলেদের জন্য বিশেষ ধরনের শাস্তির মত হয়ে গেছে বলে অনেক জেলের অভিযোগ। এদিকে জুলাইয়ের পরে অঝোর ধারায় বর্ষাকাল এবং উত্তাল সাগর-নদী। এসময় মাছ ধরা পড়ে খুবই কম।

যদিও মৎস্য অফিসের দাবি, বর্তমান এই সময়ে সাগরে মাছ প্রজনন-এর ভরা মৌসুম। তাই মাছের প্রজনন মৌসুমে বঙ্গোপসাগরে সকল ধরনের মাছ ধরার নৌকা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশ ছাড়াও চীন, মিয়ানমার ও ভারত একইভাবে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ রেখেছে বলেও জানা গেছে। সাগরে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় জেলার সাগর উপকূলীয় এলাকায় শত শত নৌযান ইতিমধ্যে তীরে পড়ে আছে। কক্সবাজারের বিভিন্ন উপকূলীয় অঞ্চলের হাজার হাজার জেলেদের টানা ৬৫ দিন মাছ ধরা বন্ধ থাকার সময় পরিবারের ভরণ পোষণ নিয়ে কষ্ট রয়েছে তারা।

এতদিন ধরে মাছ ধরা বন্ধ রাখার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে, টেকনাফ বাহারছড়া নৌকা কমিটির সভাপতি বেলাল উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উপকূলীয় অঞ্চল বাহারছড়ার শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ মানুষের একমাত্র উপার্জনের উৎস হচ্ছে সাগরে মাছ ধরে জীবীকা নির্বাহ করা। সাগর ছাড়া উপকূল অঞ্চলের মানুষের আয়ের আর কোন উৎস নেই। তাই পেটের দায়ে জেলেরা ঝুঁকি নিয়ে সাগরে মাছ ধরার জন্য যায়।

বর্ষার তুমুল ঢেউয়ে জীবন নিয়ে ফিরে আসার মত কোন আশা জেলেদের থাকে না তারপরও সংসার কিংবা জীবনের তাগিদে প্রচণ্ড শীত, সীমাহীন গরম এবং বর্ষার তুমুল বৃষ্টি উপেক্ষা জেলেরা ঝুঁকি নিয়ে সাগরে মাছ ধরে জীবনযাপন করে তাতে মৎস্য থেকে বড় একটা অর্থ দেশের অর্থনীতে যোগ হয়।

শতাধিক জেলে জানান,একটানা ৬৫ দিন মাছ ধরা বন্ধ থাকায় তাদের পরিবারে চরম দুর্দশা বিরাজ করছে। তারা সরকারের প্রতি আবেদন করেন, বন্ধ কমিয়ে এনে জেলেদের ন্যূনতম অভাব অনটন দূর করার সুযোগ করে দেওয়ার দাবি জানান। না হয় মাছ ধরার এই মৌসুমে মাঝে মাঝে হলেও জেলেদের মাছ ধরার সুযোগ করে দেওয়ার দাবি তুলেছেন অনেকেই।

জেইউ/এমএস


oranjee