ঢাকা, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

 
 
 
 

ওসির মানবিকতায় হারিয়ে যাওয়া শিশু ফয়সাল ফিরে পেল পরিবার

গ্লোবালটিভিবিডি ৩:২২ অপরাহ্ণ, জুন ২৭, ২০১৯

পাবনা সদর থানার ওসির কক্ষে ওসির সাথে শিশু ফয়সাল

পাবনা প্রতিনিধি : পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবাইদুল হকের মানবিকতায় চিকিৎসা পেয়ে সুস্থ হয়ে ফয়সাল নামের হারিয়ে যাওয়া শিশু ফয়সাল (৯) ফিরে যেতে পেরেছে তার স্বজনদের কাছে। এক সপ্তাহ আগে শুক্রবার (২১ জুন) রাতে ওই শিশুটি পাবনা শহরের প্রধান সড়ক আব্দুল হামিদ রোডে মরণাপন্ন অবস্থায় পড়েছিল। তাকে দেখে সদর থানার ওসিকে একজন পথচারি ফোন করে তা জানিয়েছিলেন।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবাইদুল হক জানান, ব্যস্ততম জনপদ আব্দুল হামিদ রোডের মুক্তমঞ্চ এলাকায় এক শিশুকে মরণাপন্ন অবস্থায় দেখে একজন তাকে ফোন করেছিলেন। তিনি জানান, তখনই রাত ১০টা নাগাদ শিশুটিকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করি। সে তার নাম পর্যন্ত বলতে পারছিল না।

ওসি জানান, তাকে ওই রাতেই পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করি। সেখানে তার যথাযথ চিকিৎসা হয়। সুচিৎকিসা পেয়ে ধীরে ধীস্থ সুস্থ হয়ে উঠে শিশুটি।

সুস্থ হওয়ার পর তার নাম জানায় ফয়সাল রাব্বি। বাবার নাম শামসুল হক, মায়ের নাম খাদিজা বেগম জানাতে পারে। কিন্তু জানাতে পারেনি বাড়ির ঠিকানা।

ওসি জানান, ঠিকানা না জানা পর্যন্ত তাকে ছেড়ে দেয়া ঠিক হবে না তাই পাবনা সদর থানাতেই রেখে দিই। দিনের পর দিন অনাহারে থাকার কারণেই শিশুটি দুর্বল হয়ে মরনাপন্ন হয়ে গিয়েছিল। থানা সদরে সবার যত্ন-আত্তিতে সে মোটামুটি স্বাভাবিক হয়ে যায়। এরই মধ্যে তাকে কিনে দেয়া হয় নতুন শার্ট, প্যান্ট, জুতা।

ফয়সাল জানায়, প্রায় ১ মাস আগে সে বাড়ি থেকে বের হয়ে পথ হারিয়ে ফেলে। বহু চেষ্টা করেও সে তার বাড়িতে যাওয়ার পথ খুঁজে পায় নাই। পথ খুঁজতে খুঁজতে এক পর্যায়ে কিভাবে যেন পাবনা শহরে চলে আসে। অনাহরে কাটে তার প্রতিটি দিন। এক সময় অসুস্থ হয়ে সে হামিদ রোডের মুক্তমঞ্চে পড়ে থাকে।

ওসি জানান, ফয়সাল সুস্থ স্বাভাবিক হওয়ার পর তার অভিভাবকদের খোঁজ পাওয়ার জন্য অফিসিয়াল- আন অফিসিয়াল দু’ভাবেই চেষ্টা চালাই। তার ছবি ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে সবাইকে সেটা শেয়ার করারও অনুরোধ জানাই।

ফেসবুকে পোষ্টটি ব্যাপকভাবে শেয়ারের ফলে তার পরিবারের লোকজন সেটি দেখতে বা জানতে পারেন। তার অভিভাবকরা যোগাযোগ করেন তার সাথে। তখন জানা যায় তার বাড়ি লক্ষীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামে। তাকে নেওয়ার জন্য আসেন তার মামা আব্দুর রহমান।

আব্দুর রহমান জানান, ফয়সালের বাবা ভবঘুরে আর মা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। ফয়সাল রাব্বির ছোট ভাইটিও বাক প্রতিবন্ধী।

পাবনা সদর থানার ওসির এরকম আরও অনেক মানবিক কাজের জন্য এরই মধ্যে ফেসবুকে নানা জন তাকেসহ পুলিশের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

শেখ অনিক নামের একজন লিখেছেন, ‘আপনাকে অনেক ধন্যবাদ স্যার, আমি মাঝে মাঝেই আপনার অনেক গুণাবলী দেখি আর ভাবি এখনো পুলিশের মধ্যে ভালো মানুষ আছে, সবাই খারাপ বললেও আমি জানি তাদের ধারণাটা ভুল, এই জন্যই আমি পুলিশকে অনেক ভালোবাসি ও শ্রদ্ধা করি, সবার ভালোবাসা নিয়ে এগিয়ে যান।’

কাজী ইউসুফ নামের একজন লিখেছেন, ‘আপনাকে অভিন্দন, আপনি নিয়ামতপুর থাকাকালীন অনেক বার দেখেছি, আজ আপনাকে অন্যভাবে দেখে অনেক ভালো লাগছে , আশা করি মহৎ কাজ গুলি আপনি
করে যাবেন মানুষের কল্যাণে...।’

রাজীব চৌধুরী নামের একজন লিখেছেন, ‘আপনার মত একজন অসাধারণ পুলিশ অফিসার প্রতিটি থানায় থাকা প্রয়োজন।’

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবাইদুল হক জানান, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি মহান আল্লাহ তা’আলার প্রতি সেই সাথে শ্রদ্ধাভরে স্বরণ করছি সেই সকল ফেসবুক ব্যবহারকারীদের, যাদের ব্যাপক শেয়ারের বদৌলতে এক অসহায় পরিবারের ফয়সাল রাব্বিকে তার বাবা-মার কাছে পৌছে দেওয়া সম্ভব হল।

এআইজে/এমএস


oranjee