ঢাকা, বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯ | ৬ ভাদ্র ১৪২৬

 
 
 
 

পাবনার বেড়ায় চলাচলের রাস্তা পেল সংখ্যালঘু পরিবারের পাঁচ শতাধিক মানুষ

গ্লোবালটিভিবিডি ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ, জুন ১১, ২০১৯

ফাইল ছবি

আমিনুল ইসলাম জুয়েল, পাবনা : পাবনার বেড়া উপজেলা নির্বাহী কার্যালয়ের (ইউএনও) হস্তক্ষেপে সংখ্যালঘু পরিবারের পাঁচ শতাধিক মানুষ চলাচলের রাস্তা পেয়েছেন।

উপজেলার আমিনপুর থানার পুরান ভারেঙ্গা ইউনিয়নের হরিরাথপুর গ্রামের পুকুরচালাপাড়া এলাকায় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি এখানকার বাসিন্দাদের চলাচলের রাস্তা না রেখেই দোকান, গুদাম ও অফিস ঘর নির্মাণ করেছিলেন। বাসিন্দাদের চলাচলের জন্য মাত্র দেড় ফুট চওড়ার রাস্তা ছিল। এতে তারা এক রকম বন্দিজীবন কাটাচ্ছিলেন। উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সেই দেড় ফুট চওড়ার রাস্তা বাড়িয়ে সাড়ে চার ফুট করা হয়েছে ।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় পনের-বিশ বছর আগে এই স্থানে চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় রাস্তা ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে প্রভাবশালীরা রাস্তা না রেখে দোকান, গুদামঘর ও অফিস ঘর নির্মাণ করায় এখানকার সংখ্যালঘু পরিবারের পাঁচ শতাধিক মানুষ অনেকটা বন্দি হয়ে পড়েন। তাদের বাড়িতে চলাচল, রিকসা-ভ্যানে মালপত্র পরিবহন সবই প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। চলাচলের রাস্তা না থাকায় তারা নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করতে হাট-বাজারে যেতে পারতেন না। সংখ্যালঘু মানিক কুমার শীল বলেন, একজন কোন রকমে বের হতে পারলেও কোন আসবাবপত্র অথবা একসাথে একাধিক ব্যক্তি চলাচল করা যেত না। কোন মানুষ অসুস্থ বা মারা গেলে তাকে তিন জন মিলে মাথার উপরে করে এলাকা থেকে বের করতে হত।

কয়েকমাস আগে এ নিয়ে পত্র- পত্রিকায় সংবাদ প্রকািশত হলে তা জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। বিশেষ করে এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তির মৃতদেহ ঐ সংকীর্ণ রাস্তা দিয়ে কষ্টকরভাবে বের করার একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, দুজন ব্যক্তি একজনের মৃতদেহ কাধে নিয়ে টেনে হিঁচড়ে বের করছে। এতে গোটা জেলাজুড়ে হৈচৈ পড়ে যায়। পরে বেড়া উপজেলার ইউএনও দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে জায়গার মালিকদের সাথে দফায় দফায় শালিস বৈঠক করেন। এরপর চওড়া রাস্তা পান সংখ্যালঘু পরিবারগুলো।

সংখ্যালঘু পরিবারের এক সদস্য মানিক কুমার শীল বলেন, ‘আমাদের এত দিনের এত বড় সমস্যা ইউএনও মহোদয় সমাধান করে দিয়েছে এজন্য আমরা এম.পি, ডিসি, মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যানের নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

এ বিষয়ে পুরান ভারেঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কে এম রফিকুল্লাহ বলেন, ঐ এলাকায় বসবাস করা হিন্দু সম্পদ্রায়ের মানুষগুলোর জন্য চলাচল করা আসলেও অসম্ভব ছিল। সবার প্রচেষ্টায় সেটার একটা স্থায়ী সমাধান হয়েছে। দুই ফুটের চওড়া রাস্তাটি সাড়ে চার ফিট চওড়া হয়েছে।

ইউএনও আসিফ আনাম সিদ্দিকী বলেন, ঐ জায়গাটি ব্যাক্তি মালিকানাধীন তাই ফৌজদারী কার্যবিধি ১৮৯৮ আইন অনুসারে গণউপদ্রব হিসেবে জনগণের সুবিধার্থে মালিক পক্ষের সাথে আলোচনা করে দু’পাশ থেকে দেড় ফিট করে মোট সাড়ে চার ফিট রাস্তা বের করতে সক্ষম হই। তবে এটা খুব কঠিন একটা কাজ ছিল। কাজটা সমাধান হওয়াতে আমি নিজে থেকেই তৃপ্তিবোধ করছি। তবে এটা আমাদের সরকারি দায়িত্বের মধ্যেই পরে।

এআইজে/আরকে


oranjee