ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ১ আশ্বিন ১৪২৬

 
 
 
 

লাখো পর্যটকের পদচারণায় মুখর কক্সবাজার সৈকত

গ্লোবালটিভিবিডি ৬:১৫ অপরাহ্ণ, জুন ০৯, ২০১৯

ছবি সংগৃহীত

জসীম উদ্দীন, কক্সবাজার: পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা ছুটি শেষ এখন বাড়ি ফেরার পালা। তবু এর কোন প্রভাব পড়েনি পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে। বরং শনিবার থেকে উল্টো বেড়েছে পর্যটকদের সংখ্যা। ফলে পর্যটকের ঢল নেমেছে দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতে।

রোববার (৯ জুন) সকাল থেকে কক্সবাজারে থেমে থেমে বৃষ্টি হলেও বৃষ্টি উপেক্ষা করে লাখো পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে সৈকত পাড়। বিশেষ করে সৈকতের লাবণী পয়েন্টে এবং সুগন্ধা পয়েন্টে দেশি বিদেশি পর্যটকের আগমনে সৈকতে পা ফেলার তিল ঠাঁই নেই।

এছাড়া পর্যটকরা ছুটে যাচ্ছেন দরিয়ানগর, হিমছড়ি ঝর্ণা, ইনানীর পাথুরে সৈকত, ডুলাহাজারা সাফারী পার্ক, রামু বৌদ্ধ বিহার, সেন্টমার্টিন, মহেশখালী আদিনাথ মন্দিরসহ জেলার বিভিন্ন পর্যটন স্পটগুলোতেও।

বর্তমানে কক্সবাজারে প্রায় ৪ লাখ পর্যটক অবস্থান করছে। বিভিন্ন হোটেলের মালিক ও হোটেল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে। রোববার প্রায় অর্ধলাখ পর্যটক কক্সবাজারে এসেছেন তাদের বেশিরভাগই হোটেল পায়নি। রাতে কিছু সংখ্যক পর্যটক কক্সবাজার ছেড়ে গেলে হোটেল খালি হতে পারে এই আশায় অপেক্ষায় আছেন তারা।

ঢাকা মিরপুর থেকে কক্সবাজারে এসেছেন নুরুল আলম ও তার পরিবার। রোববার সকাল ৭টায় কক্সবাজারে পৌঁছালেও দুপুর সাড়ে ৩টা পর্যন্ত কোন হোটেল পাননি তিনি। নুরুল আলম বলেন, আমি প্রায় শতাধিক হোটেলে গিয়েছি কোথাও কোন রুম খালি নেই। সবাই সন্ধ্যার পর খালি হতে পারে এমনটাই জানিয়েছে। তিনি বলেন, হোটেল না পেলে রাত ১১টার গাড়িতে ঢাকায় ফিরে যবো।

ফেনী থেকে দল বেঁধে কক্সবাজারে এসে হোটেল না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন শতাধিক তরুণ-তরণী। এদের মধ্যে নাদিয়া ও শুভ বলেন, এক হোটেল ম্যানেজারের রুম ম্যানেজ করে দেওয়ার আশ্বাসে তারা কক্সবাজারে এসেছেন, তিনি এখন বলছেন, তার কিছুই করার নেই। তারা আরোও বলেন, এত মানুষ কক্সবাজারে এসেছে জানলে আমরা অন্য সময় আসতাম। টাকা দিলে হোটেল পাওয়া যায় না এমন অভিজ্ঞতা এ প্রথম বলে মন্তব্য করেন তাদেরই একজন।

পর্যটকদের মাঝে অনেকেই ঈদ করেছেন কক্সবাজারে। তাদেরই একজন লন্ডন প্রবাসি সিলেট মৌলভী বাজারের রুহান। তিনি নতুন বিয়ে করে হানিমুন করতে বউ নিয়ে এসেছেন কক্সবাজারে। উঠেছেন সৈকতের তীরে,তারকা মানের হোটেল সীগালে। রোহান ও মনিকা এ নবদম্পতি জানান, ঈদের আগের দিন থেকে তারা কক্সবাজারে অবস্থান করছেন এবং ১০জুন পর্যন্ত থাকবেন। কক্সবাজারের সব পর্যটন স্পটগুলোতে তারা ঘুরবেন বলে জানান।

জামালপুর থেকে স্ব-পরিবারে কক্সবাজার ঘুরতে এসেছেন মো. খলিল। চাকরির কারণে থাকেন ঢাকায়, তাই ঈদের ছুটিতে প্রতিবছর ঈদের পরেরদিন স্ব-পরিবারে বেড়াতে আসেন বলে জানান তিনি। তার পরিবারের অপর সদস্য আদিবা বলেন, ঈদের সময় কক্সবাজারে দারুণভাবে উপভোগ করা যায়। এক সঙ্গে লাখো পর্যটকের উপস্থিতি আমার অনেক ভালো লাগে। তাই কক্সবাজারে প্রতিবছর ছুটে আসি।

তারকা মানের হোটেল ও বিভিন্ন কটেজ ও ফ্ল্যাট ব্যবসায়ী জানান, রাতে কিছু রুম খালি হবে। তবে ইতিমধ্যে অনলাইন ও ফোনে এসব রুম বুকিং হয়ে গেছে। হোটেল না পাওয়া পর্যটকরা কোন হোটেল পাবেন কিনা তারাও জানাতে পারেননি।

পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে সবধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে। ট্যুরিস্ট পুলিশ, সাদা পোশাকের পুলিশ র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত সব বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি চোখের পড়ার মত।

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশ সুপার জিল্লুর রহমান বলেন, ঈদের ছুটিতে পর্যটন নগরীতে কক্সবাজারে প্রতিবছরেই বাড়তি পর্যটক আসেন। এ কারণে অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে বেশি বাড়ি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের বিশেষ রেসকিউ টিম, ইভটিজিং কন্ট্রোল টিম, ড্রিংকিং জোন, যে কোন অঘটনে দ্রুত চিকিৎসাসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

পর্যটকদের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ছাড়াও কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এবার ঈদের ছুটিতেও অতিরিক্ত হোটেল ভাড়া বন্ধ এবং খাবারের মান নিয়ন্ত্রণে মাঠে রয়েছে ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন,যে কোন সমস্যার সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেবা গ্রহণ করার অনুরোধ জানান।

জেইউ/এমএস


oranjee