ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৫ কার্তিক ১৪২৬

 
 
 
 

ঈদ আনন্দের ছোঁয়া লাগেনি কিশোরগঞ্জের কৃষক পরিবারে

গ্লোবালটিভিবিডি ৫:১৯ অপরাহ্ণ, জুন ০১, ২০১৯

শাহজাহান সাজু, কিশোরগঞ্জ: ঈদের আনন্দে যখন ভাসছে সারাদেশ ঠিক তখনই কিশোরগঞ্জের কৃষক পরিবারগুলোর দৃশ্য উল্টো। হতাশায় নীরব নিথর সময় পার করছে কিশোরগঞ্জের কৃষক পরিবারের সকলে।

১৩টি উপজেলা নিয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা গঠিত। এর মধ্যে অধিকাংশ উপজেলাই হাওড় অধ্যুষিত। হাওড়ের কৃষকদের একমাত্র ফসল ধান এ বছর কৃষকদের হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কিশোরগঞ্জে এক মণ ধানের বর্তমান মূল্য ৫০০ টাকা। অথচ সকল খরচ শেষে এক মণ ধানের উৎপাদন খরচ বর্তমান বাজার মূল্যের প্রায় দ্বিগুণ। ধানের দাম কম হওয়াতে এর প্রভাব পড়েছে ঈদ মার্কেটেও। জেলা শহরের বিপনী বিতানগুলোতে ক্রেতার ভিড় থাকলেও উপজেলা পর্যায়ের মার্কেটগুলো অনেকটা ক্রেতা শূন্য। বিগত বহুকার থেকেই হাওড় অঞ্চলে ধান এবং ঈদ সমার্থক শব্দ। তাই নিয়ম অনুসারে ধানের দাম কম মানেই ঈদ আনন্দেও ভাটার টান।

জেলার ইটনা উপজেলার এক পোষাকের দোকানির সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমাদের দোকানের প্রায় সকল ক্রেতাই কৃষক। এবার ধানের বাজারদর কম হওয়াতে হতাশ কৃষক। তাই ঈদের মৌসুমেও ক্রেতাশূন্য আমাদের দোকানগুলো।

জেলার হাওড় অধ্যুষিত সকল উপজেলার কৃষক পরিবারের খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ঈদের আনন্দের ছোঁয়া লাগেনি এসব পরিবারে। হতাশায় অলস সময় পার করছেন সবাই।

ইটনা উপজেলার রায়টুটি ইউনিয়নের শান্তিপুরের কৃষক ছালেক মিয়া জানান, যে ধান পেয়েছি তা যদি ভাল দামে বিক্রি করতে পারতাম তাহলে খরচ বাদ দিয়েও কিছু টাকা আয় হতো। ধানের দাম কম হওয়াতে ধান বিক্রি করে যে টাকা পেয়েছি তা উৎপাদন খরচের খাতেই শেষ, উল্টো আরও ধার শোধ করা বাকি রয়ে গেছে। ঈদের বাজার করার জন্য হাতে কোন টাকাই এখন নাই। এখন বউ বাচ্চা নিয়ে নিরানন্দেই ঈদ পার করতে হবে।

সরকারিভাবে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ শুরু হলেও তা স্থানীয় উৎপাদনের তুলনায় অতি নগন্য। কোন কোন কৃষক জানেওনা কিভাবে সরকারি গোডাউনে ধান দিতে হয়। তাছাড়া খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের সরকারি গোডাউনে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় ধান সংগ্রহে ধীরগতি চলছে।

এসএস/এমএস


oranjee