ঢাকা, সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯ | ১০ ভাদ্র ১৪২৬

 
 
 
 

কুষ্টিয়ায় কৃষক কাটাবে আনন্দহীন ঈদ

গ্লোবালটিভিবিডি ২:৩৫ অপরাহ্ণ, জুন ০১, ২০১৯

কাজী সাইফুল, কুষ্টিয়া: সারা দেশে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। বোরো ধানে কৃষকের গোলা ভরলেও আনন্দ নেই কুষ্টিয়া জেলার কৃষকের মনে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার কুষ্টিয়া জেলায় বোরো ধানের জন্য ৩৫ হাজার ৩১১ হেক্টর জমিতে চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল । তার মধ্যে সদর উপজেলায় ১৩ হাজার ৭৪০ হেক্টর,
কুমারখালী উপজেলায় ৪ হাজার ৫৫৫ হেক্টর, খোকসা উপজেলায় ১ হাজার ৪৯৫ হেক্টর, মিরপুর উপজেলায় ৯ হাজার ১৬০ হেক্টর, ভেড়ামারা উপজেলায় ১ হাজার ৫৫৫ হেক্টর এবং দৌলতপুর উপজেলায় ৪ হাজার ৮১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৩৫ হাজার ৩১৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে।

পুরো জেলায় প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হলেও এর বিপরীত সরকার মাত্র ১ হাজার ২৪ মেট্রিক টন ধান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে অবিক্রিত থেকে যাচ্ছে বেশির ভাগ কৃষকের ধান।

এরপরও অভিযোগ রয়েছে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন জানিয়েছিলেন প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে অন্তত ৪০ জন কৃষকের ধান সরাসরি ক্রয় করা হবে বলে। কিন্তু ১ হাজার ৪০ টাকা মণ দামে সরকার কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি জেলার যে ১ হাজার ২৪ মেট্রিক টন ধান কিনবে সেই ধানের অধিকাংশ সরবরাহ করছে ব্যবসায়ীরা। এতে করে আসন্ন ঈদুল ফিতরের কেনাকাটা নিয়ে হতাশায় রয়েছেন অধিকাংশ কৃষক পরিবার।

কিন্তু সরকারি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছেন, কৃষকের আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে সরকার এক হাজার ৪০ টাকা মণ দামে ধান কিনছে। ধান কেনার প্রক্রিয়া সহজ করেছে প্রশাসন।

জেলার অনেক কৃষককে তার পরিবারের আনন্দ ধরে রাখতে বাধ্য হয়ে মণে ৩শ থেকে সাড়ে ৩শ টাকা লোকসানে ধান বিক্রি করতে দেখা গেলেও আনন্দ নেই ভুক্তভোগী কৃষাণের মনে। আবার অনেক কৃষক লোকশান দিয়ে ধান বিক্রি করেও সেই টাকা ঘরে আনতে পারছেন না। ধান চাষ করতে ধার নেওয়া দেনা পরিশোধ করতেই টাকা শেষ হয়ে যাচ্ছে তাদের। এতে অনেক কৃষকই তার পরিবারের জন্য নতুন পোশাকের ব্যবস্থা করতে এখন পর্যন্ত পারেনি। ফলে ঈদুল ফিতর আনন্দহীন কাটবে জেলার অনেক কৃষক পরিবারগুলোতে।

কুমারখালী চাঁপাইগাছি এলাকার কৃষক কালামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এবার বাজারে ধানের ন্যায্য মূল্য আমরা পাচ্ছি না। সরকার ১ হাজার ৪০ টাকা দামে যে ধান কিনবে বলে শুনেছি কিন্তু আমরা সরকারের কাছে ধান বিক্রি করতে পারছি না, কোন কৃষক ধান সরকারের কাছে বিক্রি করছে তাও জানি না। এদিকে আমরা ধানের ন্যায্য মূল্য না পেলেও সন্তানের ঈদের আনন্দের কথা চিন্তা করে বাধ্য হয়ে লোকসান দিয়ে ধান বিক্রি করছি।

পরিমল টাওয়ারের পোশাকের দোকান কালার ভিউ'র মালিক শাহরিয়ার ইমন রুবেল বলেন, এবার বেচা-কেনা আগের বছরের ঈদের বাজারের তুলনায় একটু খারাপ। এবার কৃষকেরা ধান বিক্রি করতে ন্যায্য মূল্য না পাওয়া এবং ধান বিক্রি করতে না পারার কারণে তারা এখনো ঈদের বাজার করা শুরু করেনি। এর ফলে আমাদের পোশাকের দোকানের বেচা কেনায় কিছুটা প্রভাব পড়ছে।

কেএস/এমএস


oranjee