ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ১ আশ্বিন ১৪২৬

 
 
 
 

জমতে শুরু করেছে কুষ্টিয়ার ঈদ বাজার

গ্লোবালটিভিবিডি ৩:২৩ অপরাহ্ণ, মে ২০, ২০১৯

কাজী সাইফুল, কুষ্টিয়া: জমতে শুরু করেছে কুষ্টিয়ার ঈদের বাজার। পরিবার-পরিজন নিয়ে তাদের জন্য পোশাক কিনতে বাজারে আসতে শুরু করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। আয়ের সাথে সঙ্গতি রেখে তাদের কেনাকাটার কাজটি সারছেন।

কুষ্টিয়ার বিভিন্ন দোকানে ঈদ কেন্দ্রিক বেচা-কেনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। দোকানগুলোতে ক্রেতার উপস্থিতি বৃদ্ধিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিক্রেতারা। তারা আশা প্রকাশ করেন চাঁদ রাত (ঈদের আগের দিন) পর্যন্ত এভাবেই তাদের বেচা-কেনা চলবে।

কুষ্টিয়া শহরের ফুটপাত থেকে শুরু করে বিভিন্ন দোকানে ক্রেতাদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। জেলার বিভিন্ন উপজেলাতেও একই চিত্র লক্ষ্য করা যায়। সকাল থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত দোকানগুলোতে চলছে ঈদের বেচা-কেনা।

কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা শহরের বাজার ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতাদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে কুষ্টিয়া শহরের লাভলী টাওয়ার, পরিমল টাওয়ার কেন্দ্রীয় সমবায় মার্কেট, তমিজ উদ্দিন সুপার মার্কেট, কুষ্টিয়া হাইস্কুল মার্কেট, ইসলামিয়া কলেজ মার্কেট, চাঁদ সুলতানা স্কুল মার্কেট, জেলা পরিষদ মার্কেট, বঙ্গবন্ধু সুপার মার্কেট, রজব আলী মার্কেট, পৌর মার্কেট, কুমারখালী বাজারের সোনাবন্ধু সড়কের বিভিন্ন দোকানসহ মিরপুর পোড়াদহ হাটের দোকানগুলোতেও বেচা-কেনা চলছে পুরোদমে। থানকাপড়ের দোকান ও টেইলার্সগুলোতে তুলনামূলক একটু বেশি ভিড় লক্ষ্য করা যায়।

টেইলার্সগুলোর কারিগরেরা দিন-রাত পোশাক বানাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ঈদের আগে যেভাবেই হোক পোশাক তৈরি করে গ্রাহককে সরবরাহ করতে হবে সেটা মাথায় নিয়েই কাজ করছেন টেইলার্সগুলোর কারিগররা।

সাধারণ দোকানের তুলনায় শহরের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত দোকানগুলোতে ক্রেতাদের একটু বেশি ভিড় দেখা গেছে। প্রচণ্ড দাবদাহ থেকে রক্ষা পেতে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত অভিজাত মার্কেটগুলোর দিকে ছুটছেন ক্রেতারা। শীততাপ নিয়ন্ত্রিত এসব মাকের্টে নারী ক্রেতাদের আনাগোনা একটু বেশি দেখা যাচ্ছে।

পরিমল টাওয়ারের পোশাকের দোকান কালার ভিউ'র মালিক শাহরিয়ার ইমন রুবেল বলেন, এবার বেচা-কেনা আগের বছরের ঈদের বাজারের থেকে একটু খারাপ। এখনো সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীরা বেতন ঈদের বোনাস পাইনি সেই কারণে তারা এখনো ঈদের বাজার করা শুরু করেনি। আশা করছি কাল পরশু থেকে বেচা-কেনা ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে ঈদ বাজার নিয়ে অন্য কথা জানালেন, কুমারখালী বাজারের সোনালী হস্ত শিল্প'র মালিক জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, এখন কিছুটা বিক্রি বাড়তে শুরু করেছে আগের চেয়ে ক্রেতাদের আনাগোনা বেশি দেখা যাচ্ছে তবে সামনের দিনগুলোতে বিক্রির আরও বাড়বে বলে আশা করছি। তিনি আরও জানান, এবার থ্রি-পিস, শাড়ি ও বাচ্চাদের কাপড়ের নতুন নতুন কালেকশন আছে তার দোকানে। থ্রি-পিস, শাড়ি এবং বাচ্চাদের পোশাকের দাম ক্রেতাদের সাধ্যের মধ্যেই রয়েছে।

এদিকে প্রতিটি দোকানে পুরুষের চেয়ে নারী ক্রেতার সংখ্যাই বেশি দেখা যায়। শুধু বড়রাই নয়, পছন্দমতো পোশাক কিনতে শিশুরাও এসেছে তাদের বাবা-মার সাথে।

এবারের ঈদ বাজারে পোশাকে নতুনত্বের ছোঁয়া এসেছে। পোশাকের দোকানগুলোতে রাখা হয়েছে নতুন ডিজাইনের বিভিন্ন রঙের পোশাক। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে তৈরি পোশাকের দোকানগুলোতে বাহারি পোশাকের পসরা সজানো হয়েছে। পোশাকের পাশাপাশি নতুন জুতা-স্যান্ডেলের প্রতিও চাহিদা রয়েছে ক্রেতাদের। প্রচণ্ড গরমের বিষয়টি মাথায় রেখে ক্রেতাদের কিছুটা আরামদায়ক সুতি কাপড়ের পোশাক কিনতে দেখা গেছে।

এবার কুষ্টিয়া জেলার ঈদে বাজারে প্রিন্ট, বুটিক ও হাতের কাজ করাসহ বাহারি ডিজাইনের বিভিন্ন পাঞ্জাবি বেশি বিক্রি হচ্ছে। পাঞ্জাবির পাশাপাশি তরুণদের ফিটিং হাফ শার্ট, ফুল শার্ট, শর্ট পাঞ্জাবি, জিন্স প্যান্ট, চায়না গ্যাবাডিন, ফরমাল প্যান্ট, টি-শার্ট, ফরমাল শার্ট, ফতুয়া শেরোয়ানি কিনতে তারা ব্যস্ত সময় পার করছেন।

এবারের ঈদে মেয়েদের চাহিদার মধ্যে রয়েছে লেহেঙ্গা, লং গাউন, ফ্লোরটাস তবে এবারের ঈদে প্রচণ্ড গরমের বিষয়টি মাথায় রেখে পুরুষের মতো নারী ক্রেতারও আরামদায়ক সুতি থ্রি পিস, জামদানি, টাঙ্গাইল শাড়ি ও সুতি জামদানি শাড়ি ক্রয় করছেন বেশির ভাগ ক্রেতা।

কুমারখালী বাজারের পাঞ্জাবি ও জেন্টস পোশাক ব্যবসায়ী ইয়াং কালেকশনের মালিক শাকিল আহমেদ তিয়াশ জানান, তার দোকানে সব বয়সি মানুষের পোশাক বিক্রি করলেও তার দোকানের ক্রেতা মূলত কিশোর, যুবকরা তাদের কথা মাথায় রেখেই এবারের ঈদে বিভিন্ন ধরনের পোশাকের কালেকশন তাদের রয়েছে। তিনি আরও বলেন, দোকানে পাঞ্জাবির কালেকশনই সবচেয়ে বেশি। জেলার বাইরের পাঞ্জাবি ক্রেতারাও তার দোকানে পাঞ্জাবি কিনতে আসে। দুই এক দিনের মধ্যে তার দোকানে ক্রেতার সংখ্যা আরও বাড়বে বলেও জানান তিনি।

দক্ষিণ ও উত্তর বঙ্গের বৃহত্তম পাইকারি হাট কুষ্টিয়ার মিরপুর পোড়াদহ হাটের পাইকারি কাপড়ের দোকানগুলোতেও ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে। এখান থেকে বেশির ভাগ ক্রেতাদেরক জাকাতের শাড়ি, লুঙ্গি কিনতে দেখা গেছে।

পোড়াদহ হাটের পাইকারি লুঙ্গী ও শাড়ি বিক্রেতা জাহাঙ্গীর ক্লথ স্টোরের মালিক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমাদের এখানে মূলত খুচরা বিক্রেতারা পাইকারি কাপড় কিনতে আসেন আর যারা আসেন তারা জাকাতের কাপড় কিনতে আসেন। আমাদের দোকানে এখন খুচরা বিক্রেতা কিছুটা কম কারণ রোজার শুরুতেই তারা কাপড় কিনে থাকে সেই কারণে এখন তারা কম আসছে। এখন যারা আসছেন তারা জাকাতের শাড়ি, লুঙ্গী কিনতে আসছেন।

এদিকে পোশাকের দোকানের পাশাপাশি জুতা স্যান্ডেলের দোকানেও ক্রেতাদের ভিড় দেখা যায়। তবে প্রসাধনীর দোকানগুলোতে নারী ক্রেতাদের ভিড় একটু বেশি।

ঈদের বাজার করতে আসা ক্রেতারা জানান, এবারের ঈদের বাজারে সব রকমের পোশাক, জুতা-স্যান্ডেল এবং অন্যান্য জিনিসপত্র পাওয়া গেলেও এসবের দাম একটু বেশি বলে মনে হচ্ছে। ক্রেতারা বলছেন দোকানদাররা দাম বেশি নিলেও অনেক সময় কিছু করা থাকে না কারণ ঈদেতো পোশাকাদি কিনতে হবেই তাই তাদের বাধ্য হয়েই বেশি দাম দিয়ে ঈদের কেনাকাটা করতে হচ্ছে।

তবে বিক্রেতারা বলছেন ক্রেতাদের এসব অভিযোগ ঠিক নয় এবারের ঈদকে সামনে রেখে নিত্য নতুন বাহারি ডিজাইন আর উন্নত মানের পোশাক ও অন্যান্য জিনিসের দাম ক্রেতাদের সাধ্যের মধ্যে রেখেই বিক্রি করছেন তারা।

স্বচ্ছল পরিবারগুলো তাদের চাহিদা পূরণ করতে পারলেও মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোকে তাদের ঈদের বাজার করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

কেএস/এএইচ/এমএস


oranjee