ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯ | ১ শ্রাবণ ১৪২৬

 
 
 
 

পরীক্ষার হলে অনৈতিক সুবিধা না দেয়ায় শিক্ষকদের মারধোর

গ্লোবালটিভিবিডি ৭:৫১ অপরাহ্ণ, মে ১৫, ২০১৯

সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজ

পাবনা প্রতিনিধি :পরীক্ষার হলে অনৈতিক সুবিধা না দেয়ার ঘটনার জের ধরে পাবনায় সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজের এক প্রভাষককে মারধোর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। প্রহৃত শিক্ষক ওই কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মো: মাকসুদুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, কলেজের একজন প্রভাবশালী ছাত্রলীগ নেতার ইন্ধনে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তবে জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি বলেছেন ছাত্রলীগ কোন হামলাকারীর দায়ভার নেবে না।

এদিকে এ ঘটনার পর থেকে বুলবুল কলেজের সব শিক্ষকের ভিতর আতংক দেখা দিয়েছে। বুলবুল কলেজের শিক্ষকরা বুধবার (১৫ মে) বিকেলে জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিনের সাথে তার কার্যালয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকে নেতৃত্ব দেন কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল কুদ্দুস। বৈঠক শেষ করে সন্ধ্যায় অধ্যক্ষ বলেন, তারা আতঙ্কিত ও ক্ষুদ্ধ। তারা জেলা প্রশাসকের কাছে এ ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিষয়টি অবহিত করেছেন। জেলা প্রশাসক তাদের আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। তিনি জানান, খুব শীঘ্রই মামলা দায়ের করা হবে।

কলেজ সুত্র জানায়, গত ৬ মে সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজের ১০৬ নং কক্ষে এইচএসসি উচ্চতর গণিত পরীক্ষা চলাকালে সরকারি মহিলা কলেজের দুজন পরীক্ষার্থী খাতা দেখাদেখি করছিলেন। এসময় ওই কক্ষের পরিদর্শক সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজের প্রভাষক মাকসুদুর রহমান তাদেরকে নিবৃত্ত করতে না পেরে এক পর্যায়ে খাতা কেড়ে নেন। এ ঘটনার জের ধরে গত ১২ মে দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে শিক্ষক মাকসুদুর রহমান কলেজ থেকে মোটর সাইকেল যোগে বেরিয়ে যাওয়ার সময় একদল ছেলে তার উপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারিরা তাকে কিল ঘুষি লাথিসহ বেদম মারপিট করে। মারধোরের ভিডিওটি সিসি টিভির মাধ্যমে সামাজিক যোগোযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে এটি ভাইরাল হয়। প্রহৃত শিক্ষক এ ঘটনার জন্য কলেজের ছাত্রলীগ নেতা শামসুদ্দিন জুন্নুনকে দায়ি করেন।

এ ব্যাপারে ছাত্রলীগ নেতা শামসুদ্দিন জুন্নুন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি হামলাকারীদের চেনেননা। তিনি হামলাকারীদের নিবৃত্ত করছিলেন। সিসিটিভির ফুটেজে তার প্রমাণ আছে। এদিকে গত ৬ মে পরীক্ষার হলে যে মেয়েটিকে শিক্ষক মাকসুদুর রহমান নকলে বাধা দিয়েছিলেন, ওই মেয়েটি শিক্ষককে মারধোরের দিনই অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ করেন যে, শিক্ষক মাকসুদুর রহমান পরীক্ষার হলে তার হাত ধরেছিলেন।

এ প্রসঙ্গে প্রহৃত শিক্ষক বলেন, আমাকে মারধোরের পর অধ্যক্ষের কাছে কাউন্টার হিসেবে ওই অভিযোগ করা হয়। তিনি বলেন, খাতা কেড়ে নেই ৬ মে। আর আমাকে মারা হলো ১২ মে এবং ওইদিনই আমার বিরুদ্ধে অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ করা হয়।

এব্যাপারে কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর এসএম আব্দুল কুদ্দুস বলেন, একটি মেয়ের অভিযোগ পেয়েছি। সে বিষয়ে তদন্ত টিম করে দেয়া হয়েছে। এসময় তিনি শিক্ষক মাকসুদুর রহমানের উপর হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, কেউ অনৈতিক সুবিধা না পেলে শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করেন-এটি নতুন নয়। এ ঘটনা সব শিক্ষক সমােেজর জন্য অপমান জনক। কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক হারুনুর রশিদ তার সহকর্মী শিক্ষককে প্রহৃত করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে কলেজকে বহিরাগত মুক্ত এবং শিক্ষকদের নিরাপত্তা দিতে হবে। এদিকে অভিযোকারী মেয়েটির কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি বলেন শিক্ষকের উপর হামলার মত জঘন্য কাজ যারা করেছে তাদের শাস্তি হোক, আমি চাই। এর সাথে কারা জড়িত তা তদন্ত করার পর বেরিয়ে আসবে। তিনি জানান, এর সাথে যে বা যারাই জড়িত থাক না কেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ছাত্রলীগের কেউ জড়িত থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নেয়া হবে।

পাবনা থানার ওসি ওবাইদুল হক জানান,বুলবুল কলেজের বিষয়টি শুনেছি। কেউ কোন লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে এ ঘটনায় পাবনার সর্বত্র ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।



এআইজে/আরকে


oranjee

আরও খবর :