ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯ | ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

 
 
 
 

গ্লোবাল টিভি অ্যাপস

বিষয় :

ঢাকা

  • টিসিবির পণ্য বিক্রিতে ডিলারদের অনাগ্রহ
  • রাজশাহীর পুঠিয়ায় ধান, গম ও চাউল সংগ্রহ অভিযানের উদ্ধোধন 
  • জমতে শুরু করেছে কুষ্টিয়ার ঈদ বাজার
  • দাম না পেয়ে হতাশ কৃষক : শ্রমের ফসল মিশিয়ে দিলেন জমিতেই
  • কক্সবাজারের রামু ও উখিয়ায় বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যু
  • হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকা স্বত্বেও বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ পণ্য
  • বাংলা টিভির ৩য় বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

ধানের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে হতাশ চাষিরা

গ্লোবালটিভিবিডি ৩:০৩ অপরাহ্ণ, মে ১৫, ২০১৯

ছবি সংগৃহিত

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ায় বোরো ধান বেশ কিছুদিন আগ থেকেই পাকতে আরাম্ভ করেছে। ইতোমধ্যে জেলার কৃষকরা বোরো ধান কাটার পাশাপাশি তারা ধান ক্রয় বিক্রয়ও শুরু করেছে। গত বছরের তুলনায় এবার এ জেলায় বোরো ধানের ফলন বেশি হলেও ধান বিক্রি করতে গিয়ে হতাশ হয়ে ঘরে ফিরছেন ধান চাষিরা। কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন ধানের বাজার ঘুরে দেখা যায় মণ প্রতি ৬৭০ থেকে ৬৮০ টাকায় বোরো ধান বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু গত বছর একই সময় বোরো ধানের বাজার মূল্য ছিলো ৭৪০ থেকে ৭৫০ টাকা মণ। 

কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সব ধরণের ফসল চাষের জন্য কুষ্টিয়া জেলার মাটি খুবই উপযুক্ত। এর জন্যই জেলার কৃষকরা প্রতি বছরই বেশি পরিমানে ধানের চাষ করেন। এ বছর বোরো মৌসুমে এ জেলায় মোট ৩৫ হাজার ৩১৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ করা করা হয়েছে। এ জেলার ৯০ ভাগ জমিতে উচ্চ ফলনশীল ধানের চাষ করা হয়। এ বছর কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়ায় ধানের ফলন আগের বছরের তুলনায় এবার একটু বেশিই হয়েছে। ইতোমধ্যে চাষিরা আবাদ হওয়া বোরো ধানের অর্ধেকের বেশি কাটা শেষ করেছেন।

কুমারখালী উপজেলার বাঁশগ্রাম ধানের হাটে গিয়ে দেখা যায় এ বছর চাষ হওয়া বোরো ধান প্রতি মণ ৬৭০ থেকে ৬৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু গত বছর একই সময় এই বোরো ধান বিক্রি হয়েছে ৭৪০ থেকে ৭৫০ টাকা মণ দরে। ধান বিক্রি করতে এসে চাষিরা হাতাশা নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। বাঁশগ্রাম বাজারে ধান বিক্রি করতে আসা এক চাষির কাছে ধানের ক্রেতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমাদের এ বাজারে ধান কিনতে আসেন খাজানগরের ব্যাপারিরা (কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পোড়াদহ ইউনিয়নে অবস্থিত খাজানগর বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চাউলের মোকাম) তারাই কারসাজি করে আমাদের ধানের ন্যায্য দাম দিচ্ছে না তার প্রতি বছরই সিন্ডিকেট করে ধানের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। তিনি আরও বলেন আমরা ধানের ন্যায্য মূল্য না পেলেও তারা কিন্তু উচ্চ মূল্যে চাউল ঠিকই বিক্রি করে।

খোকশা উপজেলার গোপগ্রাম বাজারে গিয়ে একই চিত্র চোখে পড়ে। সেখানেও ধানের ক্রেতা ওই খাজানগর বিভিন্ন চাউল মিলের নিয়োগকৃত এজেন্টরা তারা এই বাজারেও সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। গোপগ্রাম বাজারে ধান বিক্রি করতে আসা কৃষক তোফাজ্জল ফকির জানান, আমরা এতো কষ্ট করে ধান আবাদ করি কিন্তু আমরা ধানের ন্যায্য মূল্য পায় না। এবার আমি ৩ একর জমিতে ধানের আবাদ করেছি ধান লাগানো থেকে মাড়াই করা পর্যন্ত প্রতি একরে আমার খরচ হয়েছে ৩৬ হাজার ৫শ টাকা আর ধান ও খড়সহ বিক্রি হচ্ছে ৩৯ হাজার ৫শ থেকে ৪০ হাজার ৫শ টাকায়। তিন মাস খাটাখাটনির পর এসে তাদের একর প্রতি লাভ হচ্ছে মাত্র সাড়ে তিন থেক সাড়ে চার হাজার টাকা। আবার কোনো কোনো বছর সেই লাভটুকুও হয় না যে বছর ধানের খড় পানিতে ডুবে যায়। তিনি আক্ষেপের সাথে বলেন আমরা এতো কষ্ট করে ধানের আবাদ করি কিন্তু প্রতি বছর আমাদের লোকশান গুনতে হচ্ছে, সরকার আমাদের লোকশান হ্রাস করতে প্রতি বছর ন্যায্য মূল্যে ধান সংগ্রহের কার্যক্রম চালু করে তা শত্তেও আমারা প্রকৃত কৃষকরা ধান সংগ্রহ কার্যক্রম ধান দিতে পারি না সেখানেও সরকারি দলের নেতারা আমাদের নাম ব্যবহার করে সরকারকে ধান দেয় সব জায়গাতে যদি আমরা এমন পরিস্থিতির শিকার হয় তাহলে আমরা যাবো কোথায়। তিনি আরও বলেন এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে সামনের দিনে আমাদের ধান চাষ বাদ দেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না।

বেশ কয়েকজন চাষির সাথে কথা বলে জানা যায় এখনও ধান কাটা পুরো শেষ হয়নি তাই ধানের দাম নিম্নমুখী, তাদের আশঙ্কা পুরো ধান কাটা শেষ হলে ধানের দাম আরও পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার খাজানগরের ধান ব্যবসায়ী কালাম ব্যাপারির সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ধান এখনও পুরোপুরি শুকায়নি ধানের বাজারে বেশির ভাগ কৃষকই ভেজা ধান নিয়ে এসেছেন। এই ধান কিনে নিয়ে যাওয়ার পর কয়েকদিন রেখে দিলে মণ প্রতি ৪ থেকে ৫ কেজি ধান ঘাটতি হয়ে যায় সেই কারণেই তারা ওই ঘাটতি ধরেই ধান কিনছেন। এই ভেজা ধানের জন্যই বাজারে ধানের দাম কিছুটা কম। শুকনো ধান বাজারে এলে ধানের দাম বেড়ে যাবে বলেও জানান তিনি।

কুষ্টিয়া বাজার তদারকি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিনে স্থানীয়ভাবে চিকন ধান প্রতি মণ ৭৮০ টাকা, মাঝারি মানের ধান প্রতি মণ ৬৮০ টাকা আর মোটা ধান প্রতি মণ ৫৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। গত বছর সেই একই ধান বিক্রি হয়েছিলো চিকন ধান প্রতি মণ ৯৫০ টাকা, মাঝারি মানের ধান প্রতি মণ ৭৪০ টাকা আর মোটা ধান প্রতি মণ ৬৮০ টাকা দরে।

কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক সুশান্ত কুমার প্রামাণিক জানান, যেহেতু এখন ধানের দাম কম সেহেতু চাষিদের উচিত হবে এখন ধান বিক্রি না করা। ধান এখনই বিক্রি না করে কিছুদিন ঘরে সংরক্ষণের পর ধানের দাম বাড়লে সেই সময় ধান বিক্রয়ের পরামর্শ দেন তিনি।

কিউএস/আরকে


oranjee