ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯ | ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

 
 
 
 

গ্লোবাল টিভি অ্যাপস

বিষয় :

ঢাকা

  • টিসিবির পণ্য বিক্রিতে ডিলারদের অনাগ্রহ
  • রাজশাহীর পুঠিয়ায় ধান, গম ও চাউল সংগ্রহ অভিযানের উদ্ধোধন 
  • জমতে শুরু করেছে কুষ্টিয়ার ঈদ বাজার
  • দাম না পেয়ে হতাশ কৃষক : শ্রমের ফসল মিশিয়ে দিলেন জমিতেই
  • কক্সবাজারের রামু ও উখিয়ায় বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যু
  • হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকা স্বত্বেও বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ পণ্য
  • বাংলা টিভির ৩য় বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

শাশুড়ি- ননদের দেয়া আগুনে দগ্ধ গৃহবধুর মূত্যু

গ্লোবালটিভিবিডি ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ, মে ১৫, ২০১৯

ফাইল ছবি

পাবনা প্রতিনিধি:পাবনার সুজানগর উপজেলার তালিমনগর গ্রামে শ্বশুড়বাড়ির লোকজনের দেয়া আগুনে দগ্ধ গৃহবধু সজি খাতুন (২৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (১৪ মে) রাতে মারা গেছেন। গত ৫ দিন ধরে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালের বার্ন ইউনিটের ২৬ নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এর আগে বৃহস্পতিবার (৯ মে) ভোরে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে তার শ্বশুড়বাড়ির লোকজন।

আমিনপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এস এম মঈনুদ্দিন সজির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত শজি খাতুন বেড়া উপজেলার আমিনপুর থানার তালিমনগর গ্রামের প্রবাসী ছুরমান মন্ডলের স্ত্রী।

থানায় দায়ের করা মামলার বরাত দিয়ে আমিনপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এস এম মঈনুদ্দিন আরও জানান, ১২ বছর আগে একই থানার তালিমনগর গ্রামের গেদা মন্ডলের ছেলে সুরমান আলী(৩০)’র সঙ্গে সজি খাতুনের বিয়ে হয়। এরই মধ্যে বছর খানেক আগে সুরমান আলী কাজের সন্ধানে মালয়েশিয়া যান। মালয়েশিয়া থেকে তিনি টাকা পাঠাতেন তার বোন(সজির ননদ)সামেলার নামে।

সামেলা সুরমানের পাঠানো টাকা থেকে প্রতিমাসে আড়াই থেকে ৩ হাজার করে টাকা দিত সজিকে। এই টাকা দিয়ে তিনি ৬ বছর এবং ৪ বছর বয়সী ২টি শিশু ছেলেকে নিয়ে জীবন নির্বাহ করতেন। কিন্ত এ টাকায় তার সংসার চলতো না। এ নিয়ে পারিবারিক কলহ তীব্র হতে থাকে। ২ মাস আগে সজিকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয় শাশুড়ি-ননদ, ভাসুরসহ পরিবারের লোকজন।

এ ব্যাপারে আমিনপুর থানায় অভিযোগ দেয়া হলে পুলিশ কয়েকদিন আগে সজিকে ২ সন্তানসহ বাড়িতে তুলে দিয়ে যায়। এতে তার শ্বশুড়- শ্বাশুড়ি ও ননদ আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তারা গত বৃহস্পতিবার (৯ মে) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে শ্বাশুড়ি- ননদসহ শ্বশুড়বাড়ির লোকজন। সজির ২ সন্তান এবং সজির আর্ত চিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে এবং পুলিশ ও সজির স্বজনদের খবর দেন। পরে পুলিশ ও স্বজনরা এসে তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় পাবনা জেনারেল হাসপাতাল থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে রেফার্ড করা হয়। সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (১৪ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে মারা যান।

এ ঘটনায় নিহত গৃহবধুর বাবা ফজিবর রহমান গত মঙ্গলবার (১৪ মে) বাদি হয়ে ৬ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। ওইদিনই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ননদ সামেলা খাতুনকে আটক করে।

আমিনপুর থানার ওসি মো: মমিনুল ইসলাম পিপিএম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, গৃহবধূর মৃত্যুর কারণে মামলাটিতে একটি ধারা যুক্ত করে তা হত্যা মামলায় রুপান্তর করা হবে।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(পুলিশ সুপার পদোন্নতিপ্রাপ্ত) গৌতম কুমার বিশ্বাস জানান, এ ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবেনা। পুলিশ ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে।

 

এআইজে/আরকে

 


oranjee