ঢাকা, রবিবার, ২৪ মার্চ ২০১৯ | ৯ চৈত্র ১৪২৫

 
 
 
 

গ্লোবাল টিভি অ্যাপস

বিষয় :

ঢাকা

  • রাফিয়া ফিরছেন স্কুলে, চিকিৎসা হবে তার বাবার
  • বিয়ের পিঁড়িতে মুস্তাফিজ (ভিডিও)
  • কক্সবাজারে পৃথক বন্দুকযুদ্ধে পর্যটক হত্যার আসামীসহ নিহত ৩
  • পদ্মা সেতুতে যুক্ত হলো নবম স্প্যান
  • বরিশালে বাস-থ্রি-হুইলার সংঘর্ষে কলেজছাত্রীসহ ৬ জন নিহত
  • সুবর্ণচরে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামির এক বছরের জামিন
  • প্রীতিকে বিয়ে করলেন মিরাজ

নিজেদের মধ্যেও বাড়ছে খুনোখুনি

দল বেঁধে স্থানীয়দের মেরে স্লোগান দিয়ে উল্লাস করে রোহিঙ্গারা

গ্লোবালটিভিবিডি ৬:০৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৪, ২০১৯

ফাইল ছবি

জসিম উদ্দীন জিহাদ, কক্সবাজার: বাংলাদেশ সরকার এক সঙ্গে ১১ লাখের অধিক রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বিশ্বদরবারে মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেও ভালো নেই সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে গিয়ে অনেকেই হারিয়েছে সহায়-সম্বল, ফসলি জমি, এমনকি ভিটে বাড়ির উঠানও।

মিয়ানমার সেনাকর্তৃক সীমাহীন নির্যাতনে বিতাড়িত এসব রোহিঙ্গাদের জন্য একসময় চোখের পানি ফেলানো স্থানীয় বাসিন্দারা রোহিঙ্গাদের দাপটে এখন অসহায়।

স্থানীয়দের দাবি, তাদের সন্তান স্কুলপড়ুয়া শিশুদের পর্যন্ত কারণে অকারণে রোহিঙ্গারা দলবেঁধে এসে মারধর করা এখন ক্যাম্পের নিত্যদিনের চিত্র। স্থানীয় শিশুরা ঠিকমত খেলাধুলা করতে পারে না। ক্যাম্পের আশপাশে খেলতে দেখলে রোহিঙ্গাদের একদল এসে মারধর করে তাড়িয়ে দেয়াটা যেন রোহিঙ্গা যুবকদের জন্য একধরনের গৌরবের।

ফাইল ছবি

কেউ প্রতিবাদ করলে হাজারো রোহিঙ্গা দলবেঁধে এসে স্থানীয় বাংলাদেশিদের পিটিয়ে স্লোগান দিয়ে উল্লাসও প্রকাশ করে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। তাই রোহিঙ্গাদের সঙ্গে ঝগড়া করতে ভয় পান তারা।

এছাড়াও রোহিঙ্গারা নিজেদের মধ্যে মারামারি খুনোখুনি করে রোহিঙ্গাশিবিরগুলো অশান্ত করে তুলছে দিনকে দিন। যতই সময় গড়াচ্ছে রোহিঙ্গা আরো বেশি বেপরোয়া হয়ে উড়ছে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

স্থানীয় বাসিন্দা সাবেক সেনাকর্মকর্তা আবুল কালাম বলেন, ‘রোহিঙ্গা পৃথিবীর সবচেয়ে অকৃতজ্ঞ জাতি।’

তিনি বলেন, ‘১৯৯২ সালের কোন একসময় রোহিঙ্গারা এক সাথে দা-বটি লাঠি হাতে একযোগে স্থানীয়দের উপরে পাকহানাদার বাহিনীর মত ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। সেসময় রোহিঙ্গারা উখিয়া-টেকনাফকে তাদের রাজ্য দাবি করে স্থানীয়দের তিনদিনের মধ্যে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন বলেও দাবি করে।’ তিনি আরো বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের অত্যাচারে স্থানীয়রা একদিন পালিয়ে যেতে বাধ্য হবে।’

আমেনা বেগম নামের এক বায়োবৃদ্ধা মহিলা বলেন, ‘জান্নাত পাবার আশায় সহায় সম্বল যা ছিলো তার সবই রোহিঙ্গাদের দান করে দিয়েছি। যাদেরকে দান করেছি, তারাই এখন আমাকে আমার ভিটেমাটি দখল করে নিয়ে তাদের আত্মীয়দের নিয়ে এসেছে। এখন মনে হচ্ছে চরম ভুল করেছি, তারা আসলে অমানুষ ও অকৃতজ্ঞ।’

স্থানীয় দোকানদার নোমান বলেন, ‘মগের কোন দোষ নেই, রোহিঙ্গারা এমন এক জাতি, যে দেশে তাদের আশ্রয় দেয়া হবে, সে দেশটি তারা ধ্বংস করে দেবে।’

তিনি জানান, স্থানীয়দের কথা না হয় বাদ দিলাম। প্রতিদিন রোহিঙ্গারা নিজেদের মধ্যে শতাধিক মারামারির ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেন তিনি।

ফাইল ছবি

এ ব্যাপারে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল খায়ের জানান, রোহিঙ্গারা সংখ্যায় অনেক বেশি হওয়ার কারণে অনেক সময় অপরাধ করেও চিহ্নিত করতে না পারলে পার পেয়ে যায়। তবে পুলিশ সবসময় সজাগ দৃষ্টি রাখছে বলেও জানান তিনি।

বিশৃঙ্খলা করলে সহ্য করা হবে না জানিয়ে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবি এম মাসুদ হোসেন বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা বা নিজেদের ভিতরে মারামারি-হানাহানি করলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

তিনি স্থানীয়দের প্রশংসা করে বলেন, ‘আশা করি স্থানীয় জনগণ যেভাবে সবসময় রোহিঙ্গা বিষয়ে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করেছেন। তা অব্যাহত রাখবে দেশের স্বার্থে।’

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন জানান, রোহিঙ্গা সমস্যাটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। যত দ্রুত তাদের প্রত্যাবাসন করা যায়, ততই দেশের জন্য মঙ্গল হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালাম ঠিক কবে নাগাদ রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু করা হবে জানাতে পারেননি।

জেইউজে/এমএস


oranjee