ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

 
 
 
 

অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাচন স্থগিত

গ্লোবালটিভিবিডি ৭:৫৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৭, ২০১৯

ছবি- সংগ্রহ

এম এ কবির,খুলনা অফিসঃ খুলনায় প্রতীক বরাদ্দ নিয়ে দ্বন্দ্ব এখন হাইকোর্টে মামলা হামলা এবং প্রেস ব্রিফিংয়ের পরে অবশেষে স্থগিত হল খুলনা ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাচন। প্রতীক বরাদ্দ না দেওয়া নিয়ে করা এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাচন আগামী ১০ এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।

বুধবার (২৭ মার্চ) বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।আদালতে রিট দায়ের করেন শাহনেওয়াজ হোসাইন জোয়ার্দার। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম কে রহমান। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী আরিফ মঈনুদ্দিন চৌধুরী।

পরে আরিফ মঈনুদ্দিন চৌধুরী জানান, শাহনেওয়াজ হোসাইনকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক বরাদ্দ না দিয়ে মোস্তফা সারোয়ারকে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে রিটার্নিং অফিসারের কাছে আপিল করলেও তিনি তা নিষ্পত্তি করেননি। তার এ নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়। আজ আদালত রুল জারি ও নির্বাচন ১০ এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিত করে শাহনেওয়াজের আপিল ৩ এপিলের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

অপরদিকে নানা অভিযোগ এনে খোদ এমপির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে প্রেস ব্রিফিং করেন, ডুমুরিয়া উপজেলা পরিষদে আ’লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মোস্তফা সারোয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য দল মনোনীত প্রার্থীর নৌকা প্রতীকের বিরোধীতা করছেন। তার পুত্রদ্বয়ও কুৎসিত ভাষায় অপপ্রচার করছেন।

তিনি বলেন, চরমপন্থীদের আশ্রয় দেয়া হচ্ছে। ফলে জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ডুমুরিয়ার অন্তত পাঁচ ইউপি চেয়ারম্যানসহ তৃণমূল আ’লীগ নেতারা। গতকাল সোমবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে প্রেসব্রিফিংয়ে এসব অভিযোগ করেন তিনি।

অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা অভিযোগ করলেন সাবেক মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এমপি। প্রশ্নোত্তর পর্বে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মোস্তফা সারোয়ার বলেন, নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির সুরঞ্জিত বৈদ্য, মাগুরখালীর ব্রজেন ঢালী, খুলনার শাহীন, বোমা হাবিব, কিলার বাবুসহ কয়েকজন চরমপন্থী প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আটলিয়ার চেয়ারম্যান প্রতাপ রায়কে হত্যার উদ্দেশ্যে চুকনগরে অবস্থান করছে এক চরমপন্থী। ডুমুরিয়ার ইতিহাস খুব খারাপ। যখনি কোন জনপ্রিয় নেতা তৈরি হয়েছে, তখনি সে খুন হয়েছে। শেখ আব্দুল মজিদ, শেখ কবিরুল ইসলাম, মোল্লা সিরাজুল ইসলাম, নূর মোহাম্মদ এরা কিন্তু এসব চরমপন্থীদের দ্বারা খুন হয়েছেন।

আজকে (সোমবার) আমি মোস্তফা সারোয়ার, ডুমরিয়া সদরের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির বুলু, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল খোকন, জেলা পরিষদের সদস্য সরদার আবু সালেহ, আটলিয়ার চেয়ারম্যান প্রতাপ রায় আমরা সবাই আজকে আতঙ্কিত। যেকোন সময়ে আমরা হত্যা-খুন, জখমের শিকার হতে পারি এরকমই আশঙ্কা করছি।” তিনি আরও বলেন, “শোভনা ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক দেয়া হয়েছিল সরদার আব্দুল গণিকে, সন্ত্রাসী সুরঞ্জিতের পক্ষ নিয়ে নৌকার প্রতীকের প্রার্থীকে মাঠে নামতে দেয়নি। একই ভাবে ডুমুরিয়া উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক নূর উদ্দিন আল মাসুদও নৌকা প্রতীক পেয়েছিলেন। চরমপন্থী সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে তাকেও হারিয়ে দেয়া হয়। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমাকে, হুমায়ুন কবির বুলু ও মোস্তফা কামাল খোকনকে পরাজিত করার চেষ্টা করেছিল।”

তিনি আরও বলেন, “স্থানীয় সংসদ সদস্য মনোনয়নের জন্য তদ্বীর করেছেন শাহনেওয়াজ হোসেন জোয়ার্দ্দারের (দোয়াত কলম) পক্ষে; এখন ভোট চাচ্ছেন ঘোড়ার পক্ষে। কারণ ঘোড়ার প্রার্থীর কোটি কোটি টাকা। দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।” বক্তব্যের শুরুতেই মোস্তফা সারোয়ার বলেন, যে মুহূর্তে নির্বাচনে মাঠে প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত থাকার কথা সে সময়ে আমি সাংবাদিকদের সামনে হাজির হয়েছি কিছু কথা বলার জন্য। ডুমুরিয়া উপজেলায় আ’লীগ নৌকা প্রতীক নিয়ে আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। ২ মার্চ আ’লীগের মনোনয়ন বোর্ডের কাছ থেকে আমি দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করি। খুলনায় ফিরে ৩ মার্চ গুটুদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করি। পরে মনোনয়নপত্র জমা দেবার শেষদিনে ৪ মার্চ রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করি। ৬ মার্চ যাচাই-বাছাই শেষে আমাকে নৌকা প্রতীক দেয়া হয়। তার একদিন পর আরেকজন দাবি করেন নৌকা প্রতীক তিনিও পেয়েছেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হওয়ায় শাহনেওয়াজ হোসেন জোয়ার্দ্দার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘দোয়াত কলম’ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যথারীতি নৌকা প্রতীক নিয়ে মোস্তফা সারোয়ার প্রচার-প্রচারণা শুরু করেন তিনি।

তিনি অভিযোগ করেন, এমনি মুহূর্তে খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য নারায়ণ চন্দ্র চন্দ্র ১৮ মার্চ সকালের ফ্লাইটে যশোরে এসে আইটি পার্কের অডিটরিয়ামে ডুমুরিয়ার কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান ও আ’লীগের সভাপতি-সেক্রেটারীদের ডেকে নিয়ে যান। সেখানে তিনি বলেন, যেকোন ভাবেই হোক নৌকা ঠেকাতে হবে। সেখানে আ’লীগ নেতৃবৃন্দ ও ইউপি চেয়ারম্যানরা অভিযোগ তুললেন; স্যার তিন মাস আগে নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়ে দ্বারে দ্বারে গিয়েছি, এখন যদি বলি নৌকার প্রতীকে ভোট দেয়া যাবে না, তাহলে জনগণ আমাদের কি মনে করবে? তখন তাকে ধমক দিয়ে তিনি বলেন, তুমি বেশি বুঝো না। আরও অনেকেই প্রতিবাদ করার চেষ্টা করলে তাদেরকেও ধমকানো হয়।

তিনি বলেন, যদি আমার কথা না শোনো তাহলে তোমরা কেউই ডুমুরিয়া আ’লীগ করতে পারবা না। সেখানে তিনি সরাসরি নির্দেশ দেন, নৌকা প্রতীকের কেউ যেন মাঠে নামতে না পারে এবং নৌকা প্রতীকে কোন এজেন্ট যেন না হয়। সে নির্দেশ অনুযায়ী ওইদিন যশোর থেকে ফিরে সন্ধ্যায় চুকনগর বাজারের উপরে আমার দু’জন কর্মীকে কুপিয়ে জখম করা হয়। একই দিনে শাহপুরে আরও তিনজন কর্মীকে অতর্কিত হামলা চালিয়ে জখম করা হয়।

এ ঘটনায় মামলা হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। 


oranjee