ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ১ আশ্বিন ১৪২৬

 
 
 
 

ফেনীর ঐতিহ্য রাজাঝির দীঘি

গ্লোবালটিভিবিডি ৪:২৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ০৫, ২০১৯

শতবছরের বেশি সময় ধরে ফেনীর ঐতিহ্য রক্ষা করছে রাজাঝির দীঘি। ছবি: এ কে আজাদ

এ কে আজাদ, ফেনী: রাজাঝির দীঘি বা রাজনন্দিনীর দীঘি। এটি ফেনীর শতবর্ষের ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থানের একটি। জনশ্রুতি আছে ত্রিপুরা রাজার কন্যার অন্ধত্ব দূর করার জন্য এ দীঘি খনন করা হয়। প্রায় ১০ একরের বেশি জায়গাজুড়ে শতবছরে পুরনো এই দীঘির স্বচ্ছ জলের রূপ-সৌন্দর্য্য আজও কিছুটা ধরে রেখেছে। ফেনী জেলার জিরো পয়েন্টে ফেনী রোড ও ফেনী ট্রাংক রোডের সংযোগ স্থলে এটি অবস্থিত।

স্থানীয় ভাষায় কন্যা-কে ঝি বলা হয় তাই দীঘিটির নামকরণ করা হয় 'রাজাঝির দীঘি'। ১৮৭৫ সালে ফেনী মহকুমা প্রতিষ্ঠিত হলে তার সদর দফতর গড়ে তোলা হয় এই রাজাঝির দীঘির পাড়ে। এখানে বর্তমানে ফেনী সদর থানা, ফেনী কোর্ট মসজিদ,অফিসার্স ক্লাব, ফেনী রিপোর্টাস ক্লাব, জেলা পরিষদ পরিচালিত শিশু পার্কসহ ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন গড়ে তোলা হয়েছে।

কিছুদিন আগেও ময়লা-আবর্জনা পড়ে ও দীঘির চারপাশে দোকান বসে দীঘির সৌন্দর্য হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তবে দীঘির ঐতিহ্য ও অবয়ব ধরে রাখার জন্য সংস্কারের উদ্যোগ নেয় জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদ ও ফেনী পৌরসভা। এতে সার্বিক সহযোগিতা করেন ফেনী সদর এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারী। ফেনী পৌরসভা দীঘির তিন দিকে উত্তর-দক্ষিণ- পূর্ব পাশে দেওয়াল নির্মাণ করে। পশ্চিম পাশে এখনও পুরাতন ভাঙ্গা গাড় দেখা যায়। দর্শানার্থীর বসার জন্য পূর্ব-দক্ষিণ পাশে গাড়ের উপর পাকা সিঁড়ি বানানো হয়েছে। বিকাল বেলায় শহরের সব বয়সের মানুষ এখানে এসে সময় কাটাতে পারে তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। লোকজন অবাধে চলাচলের জন্য দীঘির দুই পাশ কিছুটা উম্মুক্ত আছে, দুইপাশ হল উত্তর ও পশ্চিম, বাকি দুইপাশে হকার দোকান বসে দীঘির সৌন্দর্য কিছুটা ব্যাঘাত ঘটিয়েছে। তবে দীঘির পানি যাতে সবাই স্পর্শ করতে পারে, সেইজন্য তিন পাশে পাঁচটি সিঁড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। দীঘিতে ময়লা আবর্জনা বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে গড়িয়ে পড়তে না পারে তার জন্য চারপাশ উঁচু করা হয়েছে। বর্তমানে দীঘির পানি পানের ও ব্যবহারের উপযোগী করা হয়েছে।

ফেনীর রাজাঝির দীঘি

ফেনী জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড় শ’বছর আগে এ দীঘির পাড়ে গড়ে ওঠা প্রশাসনিক কার্যালয়গুলো ১৯৮৪ সালে ফেনী জেলা হওয়ার পর অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে কিছু ভবন এখনও পরিত্যক্ত হিসেবে পড়ে রয়েছে।

জেলার স্থায়ী বাসিন্দারা জানান, দীঘির চারপাড় ঘিরে একসময় মজবুত দেওয়াল ছিল। কিছুদিন আগে দেওয়ালগুলো দেওয়াল মেরামত করা হয়। এতে ফেনীবাসী অনেক খুশি। দীঘির পাড়ে প্রত্যেকদিন সব বয়সের লোক আনাগোনা দেখা যায়। ফেনী শহরের মধ্যে এরকম আর কোনো দর্শনীয় জায়গায় নেই। মানুষে সময় পেলে পরিবার-পরিজন নিয়ে সময় কাটাতে আসে দীঘির পাড়ে। দীঘির পাড়ে বেড়াতে আসা প্রবীণ এক দর্শনীর্থী জানান, অনেক আগে দীঘির চারপাড়ে ছিল বহু নারিকেলগাছ, এখন কিছু গাছ আছে। আমরা জানতে পারলাম দীঘির সৌন্দর্য বর্ধনে প্রশাসন উদ্যোগে নিয়েছে। এতে ফেনীবাসী অনেক খুশি হয়েছে।

ফেনী জেলা পরিষদের প্রশাসক আজিজ আহম্মদ চৌধুরী বলেন, রাজাঝির দীঘি ফেনীর ঐতিহ্য। এর সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য ফেনী পৌরসভা কাজ শুরু করছে।

ফেনী পৌরসভার প্যানেল মেয়র আশ্রাফুল আলম গীটার বলেন, দীঘির সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য পৌরসভা ৩ কোটি ৬২ লাখ টাকার প্রকল্পের কাজ হাতে নিয়েছে। কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। দীঘির চারপাশে দেয়াল, সিঁড়ি ও ফুল বাগান নির্মাণ করা হবে। তিনি বলেন, কাজ পুরোপুরি শেষ হলে দীঘির হারানো সৌন্দর্য কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে।

একেএ/এসএনএ


oranjee