ঢাকা, রবিবার, ২১ জুলাই ২০১৯ | ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

 
 
 
 

দেশেই করুন হানিমুন

গ্লোবালটিভিবিডি ৩:৩৪ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৭, ২০১৮

বান্দরবানের নীলগিরির নয়নভিরাম দৃশ্য। ছবি: সংগ্রহ

দুজনের পথচলার শুরুতেই দুজন মিলে কয়েক দিনের জন্য বেড়িয়ে আসার পরিকল্পনা থাকে অনেকেরই। তবে সময় ও অর্থের কথা চিন্তা করে পরিকল্পনা করলে দেখা যাবে, হানিমুনে যাওয়ার জন্য আমাদের দেশেই রয়েছে মন মাতানো সৌন্দর্যের অনেকগুলো জায়গা।

হানিমুনে পছন্দের শীর্ষে থাকে সমুদ্র। সেজন্য আমাদেরই আছে পৃথিবীরর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার। একটু নিরিবিলিতে যারা অপূর্ব সুন্দর এ সৈকতে ঘুরতে চান, তাদের জন্য ঋজু খাল ঘেঁষে গড়ে ওঠা মারমেইড ইকো রিসোর্ট পারফেক্ট। পাশেই ইনানি বিচ, টেকনাফের বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, ইসলামগঞ্জ-শাপলাপুর গ্রামের অনিন্দ্যসুন্দর সৈকত। ইনানি পেরিয়ে মেরিন ড্রাইভ ধরে টেকনাফ যাওয়ার পথের সি বিচগুলো বেশ উপভোগ্য। টেকনাফ পেরিয়ে নারকেল জিঞ্জিরা বা সেন্টমার্টিন দ্বীপও হতে পারে মধুচন্দ্রিমার গন্তব্য। সেন্টমার্টিনের যাত্রায় আপনাকে সঙ্গ দেবে ঝাঁক ঝাঁক গাংচিল। দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। দ্বীপটিতে নারকেল গাছের আধিপত্যের কারণে একে নারকেল জিঞ্জিরাও বলা হয়। পানির স্বচ্ছতায় সাগরতলার প্রবাল আর শৈবালগুচ্ছ আপনাদের মুগ্ধ করবেই। সেন্টমার্টিনের জেটির উত্তর প্রান্তে কিছু রিসোর্ট ও হোটেল গড়ে উঠেছে, সেগুলোর যে কোনোটিতে উঠতে পারেন।

কক্সবাজারে সমুদ্র সৈকতে ছাতার নিচে এমন আসনে শুয়ে উপভোগ করা যাবে বিশাল জলরাশি

বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি- তিন জেলাতেই রয়েছে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের মোটেল। এ ছাড়া বান্দরবানে মিলনছড়ি রিসোর্ট, সেনাবাহিনীর নীলগিরি রিসোর্ট, সাকুরা রিসোর্টসহ আরও বেশকিছু ভালো মানের রিসোর্ট রয়েছে।

সিলেটে-শ্রীমঙ্গল-মৌলভীবাজারে ঘোরাঘুরির জন্য আদর্শ সময় বর্ষা হলেও শীতকাল এখানে উপভোগ্য। হালকা শীতে ধূমায়িত চায়ের কাপ হাতে শ্রীমঙ্গলের টি রিসোর্টের বারান্দায় প্রিয়জনকে নিয়ে বসে থাকা বেশ রোমান্টিক বটে। আছে মাধবকুণ্ডের ঝরনা, জাফলং, জৈন্তা, খাসিয়া পল্লী। এ সময় সিলেটের অন্যতম আকর্ষণ ভোলাহাট, রাতারগুল, বিছনাকান্দি, পানথুমাই, লক্ষণছড়া। শ্রীমঙ্গলে বাংলাদেশ টি-রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রিসোর্ট বুকিং দিতে হয় বেশ আগে। সেখানে ঠাঁই না মিললে রয়েছে শ্রীমঙ্গলের গ্র্যান্ড সুলতান রিসোর্ট, মৌলভীবাজারে দুসাই রিসোর্ট, সিলেট লালা খালের পাশে নাজিমগড় রিসোর্টসহ ভালো মানের আরও অনেক হোটেল-মোটেল। চাইলে থাকতে পারেন শ্রীমঙ্গলের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, হবিগঞ্জের রেমা কেলেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য রেস্ট হাউসেও। বন বিভাগের পাশাপাশি নিসর্গ কটেজও আছে বেশকিছু। বর্ষাকাল সিলেটের হাওর আর বিলে ঘোরাঘুরির মূল সময় হলেও এ শীতে অতিথি পাখিদের সঙ্গে ভ্রমণে পাবেন এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা।

বিশ্বখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণের আবাস সুন্দরবন মধুচন্দ্রিমায় গন্তব্য হিসেবে মন্দ নয়। ঋতুভেদে এ বন বারবার রূপ পাল্টায়। নিসর্গ উপভোগ, লঞ্চ থেকে নেমে নৌকায় সূর্যোদয় দেখা, কুমির, বানর, হরিণ, সাপ, হাজারও পাখি দেখার আনন্দই আলাদা। সাতক্ষীরার মুন্সীগঞ্জ আর বাগেরহাটের মোংলা এজন্য আদর্শ। মংলায় পর্যটনের পশুর হোটেলে রাত কাটিয়ে ঘুরে বেড়াতে পারেন করমজল, হাড়বেড়িয়ার মতো জায়গাগুলো। খুলনা-মোংলা হয়ে সুন্দরবন যাওয়া যায়; মোংলা থেকে কিছুদূর গেলে কচিখালী হয়ে যাওয়া যায় কটকা পর্যন্ত। আবার সাতক্ষীরার বুড়ি গোয়ালিনী রেঞ্জ দিয়ে সুন্দরবনের অনেক গভীরে জামতলা পর্যন্ত। দূরের গন্তব্য কটকা আর হিরণ পয়েন্ট। সাতক্ষীরায় বর্ষা রিসোর্ট আর এনজিওগুলোর রেস্ট হাউসে রাত কাটিয়ে গভীর অরণ্যে ঘুরে বেড়াতে পারেন অনায়াসে।

নীলগিরি হিল রিসোর্ট : নীলগিরি হিল রিসোর্টটি বাংলাদেশের বান্দরবান জেলায় নীলগিরি পাহাড়ের পাশে অবস্থিত। এই রিসোর্টটি পর্যটক ও নব-দম্পতির মধ্যে এতটাই জনপ্রিয় যে যাওয়ার কমপক্ষে ২-৩ মাস আগে বুকিং দিয়ে রাখতে হয়। ঢাকা থেকে বান্দরবান যাওয়ার সবচেয়ে সহজ মাধ্যম হলো বাস অথবা নিজেদের গাড়ি। এসি, নন-এসি সব ধরনের বাসের টিকিট সহজেই পাওয়া যায়। এতে কমপক্ষে খরচ হবে ৫৫০-৭৫০ টাকা প্রতিজন এবং পৌঁছাতে সময় লাগবে ৮-১০ ঘণ্টা। এই রিসোর্টটি বান্দরবান শহর থেকে আরও ৪৭ কি.মি দূরে। বান্দরবান শহরে পৌঁছানোর পর এলাকার চাঁদের গাড়ি অথবা জিপে করে নিলগিরি যেতে হবে এবং এতে খরচ পড়বে ১৫০০ -২০০০ টাকা প্রতিগাড়ি। এখানে থাকার খরচ পড়বে আনুমানিক ৫০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা দিনপ্রতি। এটি বাংলাদেশ আর্মি দ্বারা পরিচালিত।

সাজেক ভ্যালি : সাজেক ভ্যালি বাংলাদেশের রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় অবস্থিত। সাজেক রাঙামাটি জেলায় অবস্থিত হলেও এর যাতায়াত সুবিধা খাগড়াছড়ি থেকে। যদি বাসে যান তাহলে প্রতিজনে খরচ পড়বে ৫৫০ থেকে ৭০০ টাকা। সাজেকে একটা ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা হচ্ছে, এখানে ২৪ ঘণ্টায় প্রকৃতির তিনটি রূপই দেখা মেলে। কখনও খুবই গরম, একটু পরেই হঠাৎ বৃষ্টি এবং তার কিছু পরেই হয়তো চারদিক ঢেকে যায় মেঘের চাদরে; মনে হয় যেন একটা মেঘের উপত্যকা। সাজেকের রুইলুইপাড়া থেকে ট্রেকিং করে কংলাক পাহাড়ে যাওয়া যায়। কংলাক হচ্ছে সাজেকের সর্বোচ্চ চূড়া। কংলাকে যাওয়ার পথে মিজোরাম সীমান্তের বড় বড় পাহাড়, আদিবাসীদের জীবনযাপন, চারদিকে মেঘের আনাগোনা পর্যটকদের দৃষ্টি কেড়ে নেয়। এখানে বিভিন্ন পরিসরের রুমের ব্যবস্থা আছে। ৬০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত রুম পাওয়া যায়।

এছাড়া, সঙ্গীসহ আপনি চেনা গণ্ডির বাইরেও ঢাকার অদূরে যেতে পারেন রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত কুষ্টিয়ার শিলাইদহে। বন্দরনগরী চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতের সূর্যাস্ত আপনাকে মুগ্ধ করবে। এ ছাড়া সুনামগঞ্জের টাঙগুয়ার হাওরে একই সঙ্গে পাহাড় আর জলের যুগলবন্দিও চোখ জুড়িয়ে দেয়। মনে রাখবেন, হানিমুন আপনার সারা জীবনের একমাত্র অভিজ্ঞতা। অতএব একে করে তুলুন জীবনের সবচেয়ে রোমান্টিক মুহূর্ত। উপভোগ করুণ দু'জনে মিলে।

 

এএইচ/এসএনএ


oranjee