ঢাকা, রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৬ আশ্বিন ১৪২৬

 
 
 
 

ঘুরে আসুন ‌‍‍‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌লাল স্বর্গ সাতলায়

গ্লোবালটিভিবিডি ৬:০৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৪, ২০১৯

ছবি : প্রতিবেদক

মশিউর দিপু, বরিশাল : সোনাঝরা রোদে ঝিকিমিকি করা বাহারি রঙের শাপলার নৈসর্গিক সৌন্দর্যে যে কারো চোখ জুড়িয়ে যাবে। দিগন্ত বিস্তৃত এই রঙের মেলা প্রকৃতিকে সাজিয়েছে অপরূপ সাজে।

শাপলার বাহারি এই রুপে মুগ্ধ হতে আপনাকে যেতে হবে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলা, হারতা ও আগৈলঝাড়ার বাঘদা গ্রামে। আগাছা আর লতাগুল্মে ভরা বিলের পানিতে ফুটে আছে হাজার হাজার লাল শাপলা। সূর্যের সোনালি আভা শাপলা পাতার ফাঁকে ফাঁকে পানিতে প্রতিফলিত হয়ে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে বিলের সৌন্দর্য।

নৌকা কিংবা হাঁটুপানি মাড়িয়ে বিলের ভেতর ঢুকলে মনে হবে বাতাসের তালে তালে এপাশ-ওপাশ দুলতে দুলতে হাসিমুখে অভ্যর্থনা জানাচ্ছে শাপলারা। সে হাসিতে বিলজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে আনন্দধারা।

স্থানীয়রা জানান, লাল শাপলার এই রাজ্যকে পর্যটন কেন্দ্র করা এখন সময়ের দাবি।

প্রাকৃতিকভাবেই বছরের পর বছর ধরে এই তিন গ্রামের বিলে প্রায় ১৬,শ হেক্টর জমিতে রঙিন শাপলা ফুটছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার পাশাপাশি এ জনপদের মানুষের ভাগ্যের চাকাও ঘুরছে এই শাপলা বিলকে কেন্দ্র করে।

শাপলা বিল সংলগ্ন এলাকার শতাধিক পরিবার বছরের ছ’মাসই জীবিকা নির্বাহ করছেন এই শাপলা বিক্রি করে। এদের কেউ শাপলা তুলে, কেউবা বিল থেকে মাছ শিকার করে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে।

সাধারণত সেপ্টেম্বর অক্টোবর মাসে এই বিলে শাপলা ফুল ফুটে। ডিসেম্বর মাসের শুরুর দিকে শীতের মৌসুমে যখন পানি কমে যায় তখন সব শাপলা মরে যায়। ওই সময় কৃষকরা এখানে ধান চাষ করেন। আগষ্টের পর থেকেই শাপলা বিলের মনমুগ্ধকর ফুটন্ত লাল শাপলা দেখতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটকরা আসতে শুরু করেন।

প্রতিদিনই এই শাপলার রাজ্য দেখতে দেশের বিভিন্নস্থান থেকে ছুটে আসছেন প্রকৃতিপ্রেমী ভ্রমণ পিপাসুর দল।

বছরের অধিকাংশ সময় জলমগ্ন থাকা এ বিলে লাল, সাদা ও বেগুনি রঙের তিন ধরণের শাপলা জন্মালেও লাল শাপলার আধিক্য বেশি লক্ষ্যণীয়। বিলের ভেতরে প্রবেশ করলে এক পর্যায়ে মনে হবে শাপলার রাজ্যে বন্দি হয়ে আছেন আপনি।

ঠিক কতো বছর ধরে বিলে এভাবে শাপলা জন্মাতে শুরু করেছে সঠিকভাবে সে তথ্য কেউ দিতে না পারলেও স্থানীয় ষাটোর্ধ্ব কয়েকজন ব্যক্তি বলেন, তাদের জন্মের পর থেকেই এ বিলে এভাবে শাপলা ফুটতে দেখছেন তারা।

বরিশাল নগরী থেকে উজিরপুরের সাতলা বিলে ঘুরতে যাওয়া মোমেনা জাহান মমি জানান, ‘এ অঞ্চলে অসংখ্য দর্শনীয় স্থান রয়েছে। তার ভেতরে সাতলা একটি অন্যতম স্থান। এই স্থানটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা যায়। যদি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও স্থানীয়দের উদ্যোগ থাকে তবে তা করা সম্ভব।’

এ ব্যাপারে বরিশাল জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান বলেন, ‘সাতলা নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে সাতলাকে পর্যটন কেন্দ্র করার বিষয়ে পর্যটন কর্পোরেশনকে লেখা হয়েছে। যেখানে পানি, বাথরুম এর ব্যবস্থা থাকবে এ জন্য স্থানীয়ভাবে রেস্টহাউস করার চেষ্টা চলছে। পর্যটকরা যেন ঘুরে ফ্রেশ হতে পারে এ বিষয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তবে সেখানে সরকারি জমি না থাকায় সমস্যা হচ্ছে। তবে অচিরেই এ সমস্যা কাটিয়ে ওঠা যাবে।’

যেভাবে যাবেন: দেশের যেকোন প্রান্ত থেকে বিমান, লঞ্চ অথবা বাস যোগে চলে আসবেন বরিশাল। বরিশালের নথুল্লাবাদ বাস স্ট্রান্ড থেকে প্রতি ৩০ মিনিট অন্তর উজিরপুরের সাতলার উদ্দেশ্যে বাস ছেড়ে যায়। ভাড়া ৮০ টাকা। সাতলা গিয়ে স্থানীয় যে কাউকে বললেই আপনাকে দেখিয়ে দিবে শাপলা বিল। অতঃপর বিলে থাকা স্থানীয়দের ছোট ডিঙি নৌকা নিয়ে হারিয়ে যেতে পারেন শাপলার রাজ্যে।

এমডি, এমএস


oranjee