ঢাকা, রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৬ আশ্বিন ১৪২৬

 
 
 
 

নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ভরপুর টাঙ্গাইলের বাসুলিয়া

গ্লোবালটিভিবিডি ১:৩২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৯, ২০১৯

টাঙ্গাইলের বাসুলিয়ায় দর্শনার্থীরা

আরিফুল ইসলাম, টাঙ্গাইল : প্রাকৃতিক নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ভরপুর টাঙ্গাইলের বাসাইলের বাসুলিয়া। দর্শনার্থীদের মন জুড়ায় সৌন্দর্যের রানী খ্যাত ‘হিজল গাছ’। এই গাছের সঙ্গে জলের মিতালী। এ যেন এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। চারদিকে পানির থৈ থৈ নৌকায় ঘুরে বেড়ানো সে এক দারুণ মূহুর্ত। সড়ক ঘেঁষে পানির থৈ থৈ ও বিলের মাঝখানে হিজল গাছ। এ যেন প্রকৃতির অপরূপ দৃশ্যায়ন।

টাঙ্গাইল থেকে এ বাসুলিয়ার দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার। টাঙ্গাইল থেকে বাসাইল পৌঁছালে সখীপুর সড়ক ধরে মাত্র তিন কিলোমিটার পার হলেই বাসুলিয়া। সখীপুর যাওয়ার সময় হাতের ডান দিকে রয়েছে এক বিশাল বিল। এ বিশাল চাপড়া বিলের পূর্ব দক্ষিণাংশে দাঁড়িয়ে আছে ভাসমান হিজল গাছ। সড়কে দাঁড়ালে দক্ষিণের জলরাশি ছুঁয়ে আসা মিষ্টি হাওয়া যে কারো গা জুড়িয়ে দেয়। প্রথম দিকে লোকজন এখানে দাঁড়িয়ে ঢাকার আশুলিয়া বাঁধের দক্ষিণে সুন্দর জলমল আবহাওয়ার সাথে এই স্থানকে তুলনা করতো। হয়তো তখন কেউ চাপড়া বিলের কিনারাকে বাসাইলের বাসুলিয়া বলে প্রকাশ করেছিল। সেই থেকে সময়ের পরিবর্তনে লোকমুখে স্থানটি বাসুলিয়া নামে পরিচিতি পায়।

অনেকের ধারণা এই হিজল গাছটির জন্ম এখানে নয়। সেই প্রাচীন যুগে গাছটি এসেছিল আসাম রাজ্য থেকে। ইতোমধ্যেই এই বাসুলিয়া বেড়ানোর জন্য জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বাসাইল উপজেলায় বিশেষ কোনো দর্শনীয় স্থান না থাকায় বিনোদনের একমাত্র স্থান হিসেবেই এই বাসুলিয়াকে বেছে নিয়েছেন এ এলাকার মানুষেরা। শুধু এ এলাকার লোকজন নয় বিভিন্ন জেলা থেকেও দর্শনার্থীরা আসে এই বাসুলিয়ার পড়ন্ত বিকেলে নৌকা দিয়ে বেড়াতে আর হিজল গাছ দেখতে।

এমন মনোরম পরিবেশে কিছুটা সময় কাটাতে তাই দর্শনার্থীরা ছুটে আসে পরিবার-পরিজন নিয়ে। প্রতি শুক্রবার এই এলাকায় লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠে। নৌকায় উঠতেও সিরিয়াল দিতে হয় দর্শনার্থীদের। প্রতি ঈদের সময় দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় থাকে এ এলাকায়। এখানে বিভিন্ন এলাকা থেকে ঘুরতে আসা পরিচিত মুখগুলোর সাথে দীর্ঘদিন পরে দেখা হয়ে যায় অনেকেরই। ফলে এই বাসুলিয়াতে আসা মানুষের ভিড় এক ধরণের মিলন মেলায় পরিণত হয়।

দর্শনার্থীদের খাবারের চাহিদা পূরণের জন্য এ এলাকায় বসে অস্থায়ী দোকান। এছাড়াও স্থায়ীভাবে রয়েছে কয়েকটি ফাস্ট ফুডের দোকান। বাসুলিয়াকে আরো সৌন্দর্য করতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে লাইটিং ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও সড়ক ঘেঁষে দর্শনার্থীদের বসার জন্য কয়েকটি বেঞ্চ ও একটি মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। সড়ক ঘেঁষে আরও সৌন্দর্য বর্ধনের দাবি জানান দর্শনার্থীরা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামছুন নাহার স্বপ্না বলেন, এখানে অনেক মানুষের সমাগম হয়। তাই বাসুলিয়াকে আরও সৌন্দর্যমণ্ডিত করতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে যুক্ত হয়েছে লাইটিং। এছাড়া সড়কঘেঁষে দর্শনার্থীদের বসার জন্য কয়েকটি বেঞ্চ ও একটি মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে।

এআই/এমএস


oranjee