ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯ | ৪ আষাঢ় ১৪২৬

 
 
 
 

পর্যটন স্পটগুলোতে ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার

ঈদের ছুটিতে কক্সবাজার যাবে পাঁচ লাখ পর্যটক

গ্লোবালটিভিবিডি ১:৫৮ অপরাহ্ণ, মে ২৯, ২০১৯

জসীম উদ্দীন, কক্সবাজার: এক মাস সিয়াম সাধনার পর আসছে পবিত্র ঈদ-উল ফিতর। প্রতি বছর ঈদের ছুটি কাটাতে পর্যটকের ঢল নামে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠে পর্যটন নগরী কক্সবাজার।

পর্যটক সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা আশা করছেন এবার ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিতে রেকর্ড সংখ্যক পর্যটক কক্সবাজারে বেড়াতে আসবেন। যা পাঁচ লাখের বেশি হতে পারে। ইতিমধ্যে শহরের চার শতাধিক আবাসিক হোটেল ও রেস্ট হাউসের প্রায় সব কক্ষই আগাম বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটকদের এমন আগাম বার্তায় উৎফুল্ল পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তাই পর্যটক বরণে তাদের প্রস্তুতির কমতি নেই।

কক্সবাজারের তারকা মানের হোটেল রয়েল টিউওলিব, ওশান প্যারাডাইস, হোটেল সায়মন বিচ, কক্স-টু-ডে, সী-গাল, লংবীচ, বেস্ট ওয়েস্টার্ন, মারমেডের মত হোটেলগুলো ৬ জুন থেকে প্রায় মাসব্যাপী আগাম বুকিং হয়ে গেছে।

তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইস’র পরিচালক আবদুল কাদের মিশু জানান, এবার ঈদে ৫লাখ পর্যটকদের আগমনের আগাম বার্তা পাওয়া যাচ্ছে। ইতিমধ্যে ওশান প্যারাডাইস এক মাসের জন্য বেশির ভাগ রুমই বুকিং হয়ে গেছে বলে জানান তিনি।

হোটেল সায়মন বিচ রিসোর্টের ফুডস্ অ্যান্ড বেভারেজ (এফ এন্ড বি) ব্যবস্থাপক ইমরান হোসেন বলেন, ঈদের দিন থেকে আগামী ২০জুন পর্যন্ত সায়মন বিচ রিসোর্টের কোন রুম খালি নেই। তিনিও আশা করছেন এবার রেকর্ড সংখ্যক পর্যটক কক্সবাজারে আসবেন। কটেজ ও রেস্ট হাউজ এবং ফ্লাটের একেই অবস্থা।

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজার টুয়াক সম্পাদক আসাফ- উদ-দৌলা বলেন, ঈদের টানা ছুটিতে ৬ জুন থেকে প্রায় সব হোটেলই বুকিং হয়ে গেছে। লম্বা ছুটির কারণে এবার হোটেল-মোটেল ভালো ব্যবসা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

পর্যটকদের আগমন উপলক্ষে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের প্রস্তুতি লক্ষণীয়। সমুদ্র পাড়ের ঝিনুক মার্কেটের ব্যবসায়ীরা প্রস্তুত পর্যটকদের মনকাড়ানো সব পছন্দের হরেক রকম প্রসাধনী নিয়ে। এর মধ্যে কাটা শামুক, শঙ্খ কড়ি, প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, মুক্তার পাত্র ইত্যাদি নানা রুপে নানা ঢঙে ক্রেতার কাছে উপস্থাপন করেন তারা। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের মাছ, নামফলক, গলার মালা, কানফুল, চাবির রিং হাতের চুড়ি, বালাসহ নারীদের নানা ধরনের পণ্য সমুদ্র সৈকতের মার্কেটগুলোতে পাওয়া যায়।

পর্যটকদের আকর্ষনীয় কেনাকাটার স্থান কক্সবাজারের বার্মিজ মার্কেট। বার্মিজ মার্কেটের দোকানগুলোতে অধিকাংশ বিক্রেতাই রাখাইন তরুণী। এসব দোকানগুলোতে বার্মা, থাইল্যান্ড, ভারতসহ অন্যান্য দেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যগুলো কম দামে পাওয়া যায়। এছাড়াও কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ, চন্দন, পাখা, হরেক রকমের বার্মিজ আচার, হাতির দাঁতের তৈরি তৈজসপত্র, কানের দুল, চুড়ি, কুটির শিল্প, কাঠের ফ্রেম ও গহনা বাক্স ক্রেতাদের আকর্ষণ করে।

এবার ঈদের বাজারে সর্বত্র ক্রেতাদের ভিড় থাকলেও পর্যটক না থাকায় অলস সময় পার করছেন বার্মিজ মার্কেটের দোকানিরা । তাদের আশা পর্যটক আসলে তারা এসব পুষিয়ে নিবেন। বিভিন্ন বার্মিজ মার্কেটে ৪টি দোকান রয়েছে মং মার্মার। তিনি বলেন, ঈদের কেনাকাটা করতে ক্রেতারা আমাদের কাছে আসছে না, স্বাভাবিক ক্রেতারাই শুধু আসছে। তবে তিনি হতাশ নয়, ঈদের টানা ছুটিতে এটি পুষিয়ে নেবেন বলে জানান তিনি।

এদিকে পর্যটকদের বরণ করতে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জেলা প্রশাসনও। ভ্রমণে আগমনে পর্যটকদের নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে জেলা পুলিশ। বাড়তি নিরাপত্তা থাকবে কক্সবাজারের পর্যটদের দর্শনীয় স্থানগুলোতে। বিশেষ করে সুগন্ধা, লাবনী, দরিয়ানগর, হিমছড়ি, পাথুরে বীচ ইনানী, পাটুয়ার টেক, প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন, রামুর বৌদ্ধ বিহার ও মন্দির, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির ও ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্কে বাড়ি নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল ফিতরকে ঘিরে আগত পর্যটকরা যাতে কোন ধরণের হয়রানির স্বীকার না হয় সেদিকে নজর রাখতে সব সংস্থাকে নির্দেশনা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি হোটেল-মোটেল জোনে রুম ভাড়া বাবদ অতিরিক্ত টাকা আদায়, রুম না পাওয়া, টিকিট কাটার পরও বাস না পাওয়া, রেস্টুরেন্টগুলোতে অতিরিক্ত দামে খাবার বিক্রি, পচা-বাসী খাবার পরিবেশন, দোকানদার কর্তৃক পর্যটকদের সাথে খারাপ আচরণ ও ফটোগ্রাফার-সিএনজি চালক কর্তৃক হয়রানি রোধে নির্দেশ জারি করা হয়েছে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

পর্যটকদের হয়রানি রোধে সমুদ্র সৈকতের লাবনী, সুগন্ধা পয়েন্ট কলাতলীসহ ১১টি পয়েন্টে স্থাপন করা হয়েছে তথ্য কেন্দ্র (ইনবক্স)। যে কোন অভিযোগ এখানে করতে পারবে পর্যটকরা। পাশাপাশি দেয়া হয়েছে একটি হটলাইন নাম্বার (০১৭৩৩৩৭৩১২৭)।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, ঈদে আগত পর্যটকরা যাতে কোন ধরনের হয়রানির স্বীকার না হয় এজন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের আগাম ব্যবস্থার নির্দেশ প্রধান করা হয়েছে।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেন, পর্যটকদের হয়রানি সহ্য করা হবে না। তিনি বলেন, এবার ঈদের রেকর্ড সংখ্যাক পর্যটক আসতে পারে, তাই নিরাপত্তার চাদরে মোচড়ানো থাকবে পুরো কক্সবাজার। এছাড়া জেলার পর্যটন স্পটগুলোতে যে কোন সময়ের চেয়ে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হবে বলে জানান তিনি।

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের এসপি মো. জিল্লুর রহমান বলেন, এবারের ঈদকে সামনে রেখে আগেভাগে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে চিহ্নিত পর্যটন স্পটগুলো নিরাপত্তার চাদরে মোড়ানো থাকবে বলে জানান তিনি।

কক্সবাজার র‌্যাব ১৫-এর অধিনায়ক উইন কমান্ডার আজিম আহমেদ জানান, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানের পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করবে র‍্যাব।

জেইউ/এমএস


oranjee