ঢাকা, সোমবার, ১৮ মার্চ ২০১৯ | ৪ চৈত্র ১৪২৫

 
 
 
 

গ্লোবাল টিভি অ্যাপস

বিষয় :

ঢাকা

  • ধুসর মানুষ
  • ঘুণে ধরা রাজনীতিতে সৈয়দ আশরাফ একটি নির্মোহ দৃষ্টান্ত
  • নতুন বছর হোক রাজনৈতিক সম্প্রীতির
  • বিশ্বের সেরা তৃতীয় সৎ নেতা শেখ হাসিনা কি পারবেন বাংলাদেশকে আরো এগিয়ে নিতে?
  • নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর অকালপ্রয়াণে
  • প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দলের চেয়ে মানবতা বড়
  • বিজয় কেতন ওড়ানোর দিন আজ

শেখ হাসিনার চ্যালেঞ্জ

সৈয়দ নূর-ই-আলম ৭:০৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ০৭, ২০১৯

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগ্রহ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশভাবে জয়লাভ করেছে আওয়ামী লীগ। ইতিমধ্যে গঠন করা হয়েছে নতুন মন্ত্রীসভা। ৪৬ সদস্যের এই মন্ত্রীসভায় ২৭জনই নতুন মুখ। যাদেরকে কেউ কখনো ভাবেনি মন্ত্রীসভার সদস্য হবেন, তারাও আছেন এখানে। নতুন এ মন্ত্রীদের নিয়ে মন্ত্রীসভার শপথ হয়ে গেলো সোমবার (৭ জানুয়ারি)। আর এর মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বড় একটি চ্যালেঞ্জ হাতে নিয়ে ফের তার সরকারের যাত্রা করলেন।

নতুন এই মন্ত্রিপরিষদে স্থান পাননি আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতারা, যারা গত মন্ত্রীসভাতেও ছিলেন। এদের মধ্যে মতিয়া চৌধুরী, তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু, আবুল মাল আবদুল মুহিত, মোহাম্মদ নাসিম ছিলেন, নুরুল ইসলাম নাহিদ অন্যতম। এছাড়া খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান ফিজারও আছেন এই দলে। আওয়ামী লীগের বাইরে গত মন্ত্রীসভায় থাকা রাশেদ খান মেনন ও হাসানুল হক ইনুকেও রাখা হয়নি। বর্তমান মন্ত্রীসভার বেশিরভাগ সদস্য নতুন। তাদেরকে নিয়ে যাত্রা শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিষয়টা তার জন্য কি চ্যালেঞ্জ হয়ে গেলো?

আপাতত দৃষ্টিতে বিষয়টা চ্যালেঞ্জ মনে হলেও আসলে কি তাই? যদি আমরা ২০১৪ সালের মন্ত্রীসভার কথা স্মরণ করি, সেখানে কিন্তু অনেক নতুন মুখ দেখা গিয়েছিল। তাদের অনেকেই গত মন্ত্রীসভাতেও ছিল এবং বর্তমানেও স্থান পেয়েছেন। এর একটু পেছনে যদি তাকাই তবে দেখবো ১৯৯৬ সালের আওয়ামী লীগ নির্বাচনে জয়লাভ করে সিনিয়র নেতাদের নিয়ে মন্ত্রীসভা গঠন করেছিলেন। তখন সেটা দরকারও ছিল। ১৯৭৫ পরবর্তী ২০ বছর পর আওয়ামী লীগ দেশের ক্ষমতায় আসার পর দলকে টিকিয়ে রাখার জন্য সিনিয়র নেতাদের দরকার ছিল। আওয়ামী লীগের ভিত্তি শক্তিশালী করার জন্য তারা সেসময় কাজও করেছিলেন। ওয়ান-ইলেভেনের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে নতুন সিদ্ধান্তে যান শেখ হাসিনা। তিনি সিনিয়র ও জুনিয়র নেতাদের নিয়ে মন্ত্রীসভা গঠন করেন। অর্থ্যাৎ সেসময় অনেক নতুন মুখ দেখা যায় মন্ত্রীসভায়। প্রথমে সে সভায় সিনিয়র অনেক নেতা বাদ পড়ে গেলেও পরে অবশ্য তাদেরকে মন্ত্রীসভায় যুক্ত করে নেন তিনি। কিন্তু সদ্য শপথ নেওয়া মন্ত্রীসভায় বড় চমক দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বর্ষীয়ান নেতাদের বাদ দিয়ে রীতিমতো তরুণ নেতৃত্বকে সামনে নিয়ে এসেছেন তিনি। আরও একটা বিষয় ঘটেছে। স্বাধীনতা পরবর্তী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারের পর এবারও এই প্রথমবারের মতো বাম রাজনৈতিক কোনো নেতা ছাড়াই মন্ত্রীসভা গঠিত হয়েছে।

এই যে, গত মন্ত্রীসভার বেশিরভাগকে বাদ দিয়েছেন তিনি সেটা কি কোনো ভুল সিদ্ধান্ত হয়েছে শেখ হাসিনার? এর জবাব দিয়েছেন বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী কোনো ভুল করেননি। তিনি সঠিক বিবেচনাতেই এমনটা করেছেন। সম্প্রতি গণমাধ্যমে দেওয়া এ সংক্রান্ত এক বক্তব্যে তিনি আরও বলেছেন, আমরা যারা সিনিয়র আছি তারা কি সারাজীবন থাকবো? নতুনদের তো সুযোগ দিতে হবে। যারা এই মন্ত্রীসভায় সুযোগ পেয়েছে তারা সবাই প্রান্তিক স্তর থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে আসছে। তাদেরকে প্রধানমন্ত্রী সুযোগ করে দিয়েছেন দেশ সেবার। আমি প্রধানমন্ত্রীর এ সিদ্ধান্তকে সমর্থন করি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের উপর বিশ্বাস রাখেন বলে তার কাছের মানুষরা জানিয়েছেন। তিনি শুধু রাজনৈতিক প্রজ্ঞাবান তাই নয়, তিনি পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে জানেন। তাইতো অতীতে বিভিন্ন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা যখন নানা কারণে বেকায়দায় পড়ে যেতো তখন এগিয়ে আসতেন প্রধানমন্ত্রী। সুন্দর সমাধানও দিতেন। এই যে, পার্বত্য এলাকায় নিত্য সংঘর্ষ বন্ধে যখন সরকারের মন্ত্রীরা হিমশিম খাচ্ছিলেন তখন পার্বত্য শান্তিচুক্তি করে এই এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। এছাড়া পরে আরও বড় বড় সমস্যার সমাধান তার থেকেই এসেছে।  বিপদগামী কিছু বিডিআর সদস্যের বিশৃঙ্খলা তৈরির প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করে দেওয়া, হেফাজত আন্দোলনের শান্তিপূর্ণ সমাধান, কোটাবিরোধী আন্দোলন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সহ বড়  বড় বিষয়গুলো খুব ঠাণ্ডা মাথায় শান্তিপূর্ণভাবেই সমাধান করেছেন। তার আরও একটি বড় কাজ হলো, মানবিক বিবেচনায় মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া। যার জন্য তিনি ইতিমধ্যে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ খেতাব পেয়েছেন। এছাড়া এই ইস্যুতে বাংলাদেশকে খুব সম্মানের সঙ্গে নিয়েছে বিশ্বমহল।

এমন অনেক কাজ তিনি নিজেই করেছেন তার নিজের বুদ্ধিতে। তিনি কারও মুখাপেক্ষি নন। তবে পরামর্শ করেন মন্ত্রীসভা কিংবা উপদেষ্টা মণ্ডলীর সাথে। তার মেধার উপর ভরসা রেখেছেন বিশ্বমহলও। তারা তার প্রজ্ঞায় অভিভূত। যার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অকুণ্ঠ সমর্থন রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর। নিজের প্রজ্ঞা, জনগনের ভালোবাসা আর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সমর্থন নিয়ে তিনি চতূর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন বাংলাদেশের।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসেন। চ্যালেঞ্জ ছিল পার্বত্য এলাকার শান্তি প্রতিষ্ঠার, চ্যালেঞ্জ ছিল বিডিআর বিদ্রোহ দমনের, ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী নতুন পুরাতন নেতাদের মিলিয়ে সরকার প্রতিষ্ঠা, সমুদ্রে ২০০ নটিক্যাল মাইল বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া, রোহিঙ্গা সমস্যার মোকাবেলার। চ্যালেঞ্জ ছিল যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসিতে ঝুলানোর। সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেছেন খুব ভালোভাবেই। এবার তার নতুন চ্যালেঞ্জ নতুন মন্ত্রীসভা নিয়ে আগামী ৫ বছর সরকার চালানো। যে মন্ত্রীসভায় বেশিরভাগ নতুন, বেশিরভাগ তরুণ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অতীতে যেমন চ্যালেঞ্জ নিয়ে তা মোকাবেলা করেছেন, এবারও পারবেন।

 

লেখক: বার্তা সম্পাদক, গ্লোবাল টিভি

এসএনএ

 

 

 

 

 


oranjee