ঢাকা, সোমবার, ২৪ জুন ২০১৯ | ১০ আষাঢ় ১৪২৬

 
 
 
 

নতুন বছর হোক রাজনৈতিক সম্প্রীতির

সৈয়দ নূর-ই-আলম ১১:৫৭ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৩১, ২০১৮

ফাইল ছবি

সৌর বৎসরের আরও একটি বছর পার করে ফেলেছি আমরা। পদার্পন করলাম ইংরেজী নববর্ষ ২০১৯-এ অর্থ্যাৎ একটি নতুন বর্ষপরিক্রমায় প্রবেশ হলো আজ। বিশ্বের বয়স আরও এক বছর বাড়লো। আরেক কথায় গ্রেগরিয়ান পঞ্জিকা অনুযায়ী ইংরেজী নববর্ষের প্রথম দিন আজ। এক বছরের ‘আনন্দ-বেদনা, আশা-নিরাশা আর সাফল্য-ব্যর্থতার পটভূমির ওপর সর্ববিপর্যয়-দুঃসময়কে জয় করার সঙ্কল্পের সোনালি দিন আজ। আলোড়ন আর তোলপাড় করা ঘটনাবহুল ২০১৮-এর অনেক ঘটনার রেশ নিয়েই মানুষ এগিয়ে যাবে। ঘটনাবহুল বছর ছিল ২০১৮ সাল বিশেষ করে রাজনৈতিকভাবে।

২০১৮-এর ছিল নির্বাচনের বছর। সারাবছরব্যাপি বিশেষ করে গত তিনমাস ধরে রাজনৈতিক প্রচারণায় মুখর ছিল দলগুলো। যার ফলাফল ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন। নির্বাচনে জয়লাভ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আবারও দেশের শাসনভার গ্রহণ করতে যাচ্ছে। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশভাবে জয়লাভ করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে রেকর্ড করেছে দলটি। এই রেকর্ড হলো টানা তিনবার শাসনক্ষমতা পাওয়ার। যদিও এর আগেও দু’বার ক্ষমতায় ছিল দলটি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দলটি আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই দেশ শাসনের জন্য শপথ নেবে। এর মধ্য দিয়ে যাত্রা করবে বাংলাদেশের শাসনক্ষমতার নতুন ইতিহাস।

এদিকে, নির্বাচনে কেন্দ্রদখলসহ নানা অভিযোগ ছিল আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে। এখন হেরে যাওয়া দলকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতে পারে নেতাকর্মীরা। এ বিষয়ে হয়তো তাদের মধ্যে সংঘাতেরও সৃষ্টি হতে পারে। তবে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বিজ্ঞজন। বিশেষ করে গত ১০ বছরে দেশ পরিচালনায় তার প্রাজ্ঞতার পরিচয় পাওয়া গেছে। সেই হিসেবে সাধারণ মানুষ আশা করে এমন বিজ্ঞজনের কাছে ভালো কিছু অর্থ্যাৎ সম্প্রতি। যদিও রাজনৈতিক সহাবস্থান নিশ্চিত করতে তিনি ইতিমধ্যে সচেষ্ট হয়েছেন। নির্বাচনে জয়লাভের পর নেতাকর্মীদের স্পষ্ট করে নির্দেশ দিয়েছেন সংঘর্ষে না জড়াতে। শুধু তাই নয়, হেরে যাওয়া দলের প্রতি সম্মান দেখাতে তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বিজয় মিছিল না করারও নির্দেশ দিয়েছেন। এই নির্দেশনার বাইরেও অনেকেই আছেন যারা অতি উৎসাহী। তারা যদি তাদের এই বাড়তি উৎসাহ দমিয়ে রাখতে পারেন তবে শুধু নতুন বছর নয় আগামী বছরগুলোতেও রাজৈনৈতিক সম্প্রীতি বজায় থাকবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

অপরদিকে, নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট শোচনীয়ভাবে পরাজয় বরণ করেছে। স্বভাবতই দলটির নেতাকর্মীদের মানষিক অবস্থা এখন ভালো নয়। হয়তো হতাশার মধ্যে দিয়েও সময়টা পার হচ্ছে। একারণে জয়ী দলকে হয়তো ভালো চোখে নাও দেখতে পারে দলের নেতাকর্মীরা। নির্বাচনের পরদিন সোমবার (৩১ ডিসেম্বর) খুব শিগগিরই কঠোর আন্দোলনে যাচ্ছে বলে ঘোষণাও দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। বিষয়টা সত্যি হলে দেশের সাধারণ মানুষের অবস্থা খুব সঙ্গীন হতে পারে।

নির্বাচনে হেরে গিয়ে হতাশায় ডুবে গিয়ে বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টও এমন সাংঘর্ষিক মনোভাবের দিকে যাবে না বলে আশা করছে সাধারণ মানুষ। তাদের উচিৎ হবে, অতীত ভুলে গিয়ে ও সাংঘর্ষিক মনোভাব বদলে দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া যাতে আগামী নির্বাচনে সমানে সমানে লড়াই করতে পারে। দু’দল অর্থ্যাৎ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সহাবস্থান তো সাধারণ মানুষ আশা করতেই পারে, তাই না? রাজনীতি তো মানুষের জন্যই। যদি তাই হয়, তবে নতুন বছর হোক রাজনৈতিক সম্প্রতির বছর।

লেখক: বার্তা সম্পাদক, গ্লোবাল টিভি

এসএনএ


oranjee