ঢাকা, রবিবার, ২৫ আগস্ট ২০১৯ | ১০ ভাদ্র ১৪২৬

 
 
 
 

বিশ্বের সেরা তৃতীয় সৎ নেতা শেখ হাসিনা কি পারবেন বাংলাদেশকে আরো এগিয়ে নিতে?

সৈয়দ নূর-ই-আলম ৫:৩৪ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৭, ২০১৮

ফাইল ছবি

শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচনে জয়লাভের পর থেকে দেশকে উন্নতির চরম শিখরে পৌছানোর লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। দেশ আজ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে পৌঁছে গেছে। তা সম্ভব হয়েছে কেবল শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বের কারণে। নিজের সততা বজায় রেখে উন্নতির দিকে ধাবমান করার ক্ষেত্রে বিশ্বের রোল মডেলে পরিণত করেছেন বাংলাদেশকে। এই সততার বিষয়টি খুব মনোযোগ সহকারে খেয়াল করেছে বিশ্ব। তাইতো কদিন আগেই পিপলস অ্যান্ড পলিটিকস নামের একটি গবেষণা সংস্থা বিশ্বের পাঁচজন সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানকে চিহ্নিত করেছে, যাদের দুর্নীতি স্পর্শ করেনি, বিদেশে কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই, উল্লেখ করার মতো কোনো সম্পদও নেই। বিশ্বের সবচেয়ে সৎ এই পাঁচজন সরকারপ্রধানের তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পিপলস অ্যান্ড পলিটিক্স ১৭৩টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করেছে। এই গবেষণায় সংস্থাটি এ রকম মাত্র ১৭ জন সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান পেয়েছেন যারা শতকরা ৫০ ভাগ দুর্নীতিমুক্ত হিসেবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। ১৭৩ জন সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন ও সৎ সরকারপ্রধান হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল। ৫টি প্রশ্নে মোট ১০০ নম্বরের মধ্যে তিনি পেয়েছেন ৯০।

সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লং ৮৮ পেয়ে সৎ সরকারপ্রধানদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থান পেয়েছেন। ৮৭ নম্বর পেয়ে এই তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছেন বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৮৫ নম্বর পেয়ে বিশ্বে চতুর্থ সৎ সরকারপ্রধান বিবেচিত হয়েছেন নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইরনা সোলাবার্গ। আর ৮১ নম্বর পেয়ে এই তালিকায় পঞ্চম স্থানে আছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি।

পিপলস অ্যান্ড পলিটিক্সের গবেষণায় দেখা গেছে, শেখ হাসিনার বাংলাদেশের বাইরে কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই। সংস্থাটি গবেষণায় দেখেছে, বেতন ছাড়া শেখ হাসিনার সম্পদের স্থিতিতে কোনো সংযুক্তি নেই। শেখ হাসিনার কোনো গোপন সম্পদ নেই বলে নিশ্চিত হয়েছে পিপলস অ্যন্ড পলিটিক্স। শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের ৭৮ ভাগ মানুষ মনে করেন সৎ এবং ব্যক্তিগত লোভ লালসার উর্ধ্বে। তবে, তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে কিছু দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে বলে সংস্থাটির গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদিন বাদেই ৩০ ডিসেম্বর। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ। এ দিনটিতেই নির্ধারিত হবে বাংলাদেশের পরবর্তী সরকারপ্রধান কে হবেন। দেশীয় উন্নয়ন পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ বলছে পরবর্তী সরকার গঠন করার সম্ভাবনা রয়েছে শেখ হাসিনার। তাদের হিসাব বলছে গত ১০ বছরে যা উন্নয়ন হয়েছে তা আর কখনোই হয়নি। একজন সৎ রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে দেশকে উন্নয়নের কাতারে নিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। দেশের সব সেক্টরেই উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। বিভিন্ন গবেষণা সংস্থা থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, শেখ হাসিনার বিচক্ষণতায় বাংলাদেশের জিডিপির হার ৭% ছাড়িয়ে গেছে। অর্থনৈতিক অগ্রগতির সূচকে বিশ্বের পাঁচটি দেশের মধ্যে একটি দেশ আজ বাংলাদেশ। বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন প্রায় ৮ লাখ কোটি টাকারও বেশি, যা জিডিপির ভিত্তিতে বিশ্বে ৪৪তম এবং ক্রয়ক্ষমতার ভিত্তিতে ৩২তম। গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছেন। কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর নানামুখী কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। মাথাপিছু আয় ২০০৫-০৬ সালে যেখানে ছিল ৫৪৩ মার্কিন ডলার, তা এখন ১৬১০ ডলার হয়েছে। দারিদ্র্যের হার ২০০৫-০৬ সালে ছিল ৪১.৫%, তা হ্রাস পেয়ে এখন ২২% হয়েছে। অতিদারিদ্র্যের মূল্যস্ফীতি ২৪.২৩% থেকে ১২ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে। ২০০৯ সালে মূল্যস্ফীতি যেখানে ডাবল ডিজিটে ছিল তা এখন ৫.৮৪ শতাংশ। ২০০৫-০৬ সালে রপ্তানি আয় ছিল ১০.৫২ বিলিয়ন ডলার তা বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৩৪.৮৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হয়েছে। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার; যা বর্তমানে বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৩৩.৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নই নয়, তিনি মানুষের জীবনমানেরও উন্নয়ন ঘটিয়েছেন। দেশের সর্বত্র বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করেছেন। ২০০৯ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ৩ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় ১৬ হাজার ৩৫০ মেগাওয়াট। দেশের ৮৩ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। ১৮ হাজার কমিউনিটি কি­নিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। মাতৃমৃত্যু প্রতি হাজারে ১.৮ জনে এবং শিশুমৃত্যু ২৯ জনে হ্রাস পেয়েছে। সরকারি মেডিকেল কলেজ ১৪টির জায়গায় ৩৬টি করা হয়েছে। এসব কারণে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ুও বেড়ে গেছে। তার আমলে যুগান্তকারী শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ১ কোটি ৭২ লাখ শিক্ষার্থীর মেধাবৃত্তি ও উপবৃত্তি দেওয়া হয়েছে। ২৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়েছে এবং ১ লাখ ২০ হাজার শিক্ষকের চাকরি সরকারি করা হয়েছে। ৫০ হাজারের বেশি কম্পিউটার ল্যাব ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হয়েছে। ৩৬৫টি কলেজ সরকারি করা হয়েছে। ফলে ক্রমান্বয়ে শিক্ষার সংখ্যাগত ও গুণগতমান বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিবহন ও যোগাযোগ খাতেও ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়েছে। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, ফ্লাইওভার, চার লেনসহ যোগাযোগ-ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা হয়েছে। হতদরিদ্র মানুষের কল্যাণে নিবেদিত হয়ে একের পর এক জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন তিনি। সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি দমনে তার সরকার বিশ্বের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে উঠছে। দুর্নীতি প্রতিরোধ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দারিদ্র্যবিমোচন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ডিজিটালাইজেশনসহ নানামুখী পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশকে উন্নয়নে শিখরের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী দেশ হিসেবে পরিচিতি জাপান। তাদের মিডিয়াগুলোও বাংলাদেশের এই উত্থানে রীতিমতো বিষ্মিত। সম্প্রতি বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন করেছে জাপানের অর্থ-বাণিজ্যের সাময়িকী নিকেই এশিয়ান রিভিউ।

তারা বলছে, আন্তর্জাতিক মহলের তেমন মনোযোগ ছাড়াই বিশ্বের অর্থনৈতিক সফলতার গল্পগুলোর একটি হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। দ্রুত বিকাশমান প্রক্রিয়াকরণ খাতের, এর পোশাক খাত চীনের পরেই বিশ্বে দ্বিতীয় রপ্তানিকারক, ওপর ভর করে বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রায় এক দশক ধরে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি রাখছে এবং এই অর্থবছরে তা ৭.৮৬ শতাংশে পৌঁছানোর লক্ষ্যে রয়েছে।

‘দ্য রাইজ অ্যান্ড রাইজ অব বাংলাদেশ: দি ইকোনোমি ইজ বুমিং, ডাজ শেখ হাসিনা ডিজার্ভ দ্য ক্রেডিট’ শিরোনামে সম্প্রতি প্রকাশিত বাংলাদেশ বিষয়ক এই প্রতিবেদনকে প্রচ্ছদ প্রতিবেদন করেছে সাময়িকীটি।

জাপানের নিকেই ইনকরপোরেশনের দৈনিক নিকেই ১৪০ বছর ধরে প্রকাশিত হচ্ছে, ৩০ লাখের বেশি প্রচার সংখ্যা রয়েছে তাদের। এই গ্রুপেরই সাময়িকী নিকেই এশিয়ান রিভিউ, যেখানে এশিয়ার ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনীতি, রাজনীতির খবর ও বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
বাংলাদেশ নিয়ে প্রতিবেদনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে এদেশের এগিয়ে যাওয়ার ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। তৈরি পোশাক খাত ছাড়াও তথ্যপ্রযুক্তিসহ অন্যান্য খাতের অগ্রগতি, মেগা প্রকল্প, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, চীনের বিনিয়োগ এবং আসন্ন নির্বাচন ও রাজনৈতিক প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে।

অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট পেছনে ফেলে বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে বলে প্রতিবেদনের শুরু করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, ১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের পরিচিতি ছিল দারিদ্র্য ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে দুঃখ- কষ্টের জন্য। এখন বাংলাদেশকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী সংকটগুলোর একটি সামলাতে হচ্ছে। প্রতিবেশী মিয়ানমারে দমন-নিপীড়নের মুখে পালিয়ে আসা সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়ে এদেশে।

এর মধ্যে বাংলাদেশের অগ্রগতি তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৭৪ সালে যেখানে গণহারে মানুষকে না খেয়ে মরতে হয়েছে, সেখানে দেশটি তার ১৬ কোটি ৬০ লাখের বেশি মানুষের জন্য খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। মাথাপিছু আয় ২০০৯ সাল থেকে তিনগুণ বেড়ে এ বছর ১৭৫০ ডলারে পৌঁছেছে। বিশ্ব ব্যাংকের তথ্য মতে, ওই সময়ে দৈনিক ১.২৫ ডলারের কম আয়ের অতি দরিদ্র মানুষের হার ১৯ শতাংশ থেকে কমে ৯ শতাংশের নিচে এসেছে।

২০২৪ সাল নাগাদ বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হবে বলে এ বছরের শুরুর দিকে জানায় জাতিসংঘ। তাদের এই স্বীকৃতিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে নিকেই প্রতিবেদনে।

এতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ‘উন্নয়নশীল দেশে’ উত্তরণ দেশের ভাবমূর্তির জন্য বিরাট অর্জন। ডিসেম্বরে প্রথম দিকে এক সাক্ষাৎকারে নিকেই এশিয়ান রিভিউকে তিনি বলেন, এলডিসি স্ট্যাটাস থেকে বেরিয়ে আসাটা আমাদের আত্মবিশ্বাস ও মনোবল বাড়িয়েছে। এটা শুধু রাজনৈতিক নেতাদের জন্য নয়, জনগণের জন্যও খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

উন্নয়নশীল দেশের কাতারে পৌঁছালে সুবিধার দিক বোঝাতে শেখ হাসিনা বলেন, আপনি যখন নিচের শ্রেণিতে থাকবেন তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রকল্প ও কর্মসূচির শর্তগুলো নিয়ে আলোচনায় আপনাকে অন্যদের দয়ার ওপর নির্ভর করতে হবে। কিন্তু একবার আপনার অবস্থানের উত্তরণ ঘটলে আপনার কারও ওপর নির্ভর করতে হবে না, কারণ সেখানে আপনার নিজের অধিকার আছে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শুধু অব্যাহত থাকবে না, তা বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা।

“আগামী পাঁচ বছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৯ শতাংশ ছাড়াবে বলে আমরা আশা করছি এবং ২০২১ সাল নাগাদ একে ১০ শতাংশের ওপর নিয়ে যেতে চাই আমরা।”

নিকেই বলছে, অনেক ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি সরকারের লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পোশাক খাতের নেতৃত্বে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি গড়ে ১৫ থেকে ১৭ শতাংশ হচ্ছে এবং এ বছর তা ৩৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ২০১৯ সালে ৩৯ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির সরকারি লক্ষ্য অর্জনের পথেই আছে প্রবৃদ্ধির এই ধারা। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তিতে ২০২১ সালে রপ্তানি ৫০ বিলিয়ন ডলারে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশের অর্থনীতির আরেক শক্ত ভিত রেমিটান্সের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে নিকের প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রায় ২৫ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক দেশে অর্থ পাঠাচ্ছেন। রেমিটান্সের প্রবৃদ্ধিও ১৮ শতাংশের মতো, ২০১৮ সালে এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ বিলিয়ন ডলারে।

এছাড়া ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার স্লোগান দিয়ে ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা সরকার গঠনের পর এই দশকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে যে অগ্রগতি হয়েছে, তারও প্রশংসা করা হয়েছে নিকেই প্রতিবেদনে। ওষুধ শিল্পকেও বিকাশমান একটি খাত হিসেবে উল্লেখ করেছে তারা।

বাংলাদেশজুড়ে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার সরকারের লক্ষ্য তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইতোমধ্যে ১১টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজ শেষ হয়েছে, নির্মাণাধীন আছে ৭৯টি।

বাংলাদেশের বিপুল জনসংখ্যাও এদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য সহায়ক হবে বলে অভিমত উঠে এসেছে নিকেইর প্রতিবেদনে।

তবে অর্থনৈতিক সূচকে এই শক্তিশালী অবস্থান ও উচ্চাভিলাসী পরিকল্পনার মধ্যে অনেক বাধাও রয়েছে, অবকাঠামোগত ঘাটতি থেকে শুরু করে গভীর রাজনৈতিক বিভাজন পেছন থেকে তাড়া করছে। আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক বিভেদের পিছু টানের বিষয়টি আরও সামনে চলে এসেছে।

দৈনিক নিকেই বলছে, আওয়ামী লীগ টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকায় ভোটারদের অনেকের মধ্যে সরকারবিরোধী মনোভাব দেখা যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তবে অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অনেকেই একমত যে, আগামী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের জয় হলে বাংলাদেশের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।

এ বিষয়ে হংকংভিত্তিক ব্রোকারেজ হাউস সিএলএসএ’র ব্যবস্থাপনা পরিচালকও চিফ স্ট্র্যাটেজিস্ট ক্রিস্টোফার উড বলেছেন, বড় ধরনের ঝামেলা ছাড়া নির্বাচন হয়ে গেলে এবং ক্ষমতার ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদের একটি আকর্ষণীয় গল্প হয়ে উঠতে পারে।

লেখক: বার্তা সম্পাদক, গ্লোবাল টিভি

এসএনএ

 


oranjee