ঢাকা, রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯ | ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

 
 
 
 

কেন ডাক্তারদের চিকিৎসার উপর রোগীদের আস্থা কমে জানেন!

গ্লোবালটিভিবিডি ৩:৩১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০১৯

ডা. মোহাম্মদ ইখতিয়ার উদ্দিন : রোগের Prognosis (ভাবীফল) না দেখে মিথ্যা আশ্বাসের প্রেসক্রিপশনে চিকিৎসক ও প্যাথির প্রতি রোগীর আস্তা কমে যায়।

যেকোন রোগে আক্রান্ত রোগী অনেক আশা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে আসেন ভালো একটি পরামর্শের আশায়। এখানে রোগীর জন্য সঠিক পরামর্শ প্রদান করা চিকিৎসকের নৈতিক দায়িত্ব। চিকিৎসকের কাছে আগত রোগীর কোন রকম আস্থার ঘাটতি থাকে না কিন্তু চিকিৎসক কর্তৃক প্রদেয় প্রেসক্রিপশন বা পরামর্শে রোগী বিড়ম্বনার স্বীকার হলে তখন আর চিকিৎসক এমনকি প্যাথির প্রতিও আস্থা রাখেন না। চিকিৎসকের সঠিক পরামর্শে রোগী আরোগ্য হোক বা না হোক অন্তত আস্তা হারায় না। প্রতিটি রোগী আরোগ্যযোগ্য অবস্থায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নিতে আসবেন এটা ভাবার অবকাশ নেই।

উদাহরণ : কিডনীর পাথর হোমিওপ্যাথিক ঔষধ খেলে বিনা অপারেশনে ভালো হবেন এই আশা প্রতিটি কিডনী পাথরের রোগী আস্তা নিয়ে আসেন। এটা সত্য যে হোমিওপ্যাথিক ঔষধে কিডনীর পাথর অপসারণ করে। কিন্তু সেই পাথরের অবস্থানটি কিডনীর ঠিক কোথায়? চিকিৎসকের প্রথম দায়িত্ব হলো পাথরের size, shape & position চিহ্নিত করা। পাথরটি যদি কিডনীর pelvis অথবা major calyx-এ অবস্থান করে এবং পাথরের size যদি ureteric diameter (3-4mm) থেকে কম থাকে তাহলে ঔষধ প্রদান বিধেয়। কিন্তু সেই পাথরটি যদি কিডনীর Upper or lower pole-এ অর্থাৎ Renal cortex-এ থাকে বা minor calyx-এ আটকে পড়া একটু বড় সাইজের (stone diameter more than 4-6mm) পাথর থাকে তাহলে ঔষধ প্রয়োগে ব্যর্থতা আসবে। আবার অনেক সময় ছোট stone কিন্তু star shape বা সুঁচালো সেক্ষেত্রেও ঔষধ প্রয়োগ করা ঠিক নয়। কারণ সুঁচালো পাথর ureter দিয়ে আসার সময় ক্ষত তৈরি করতে পারে এবং ব্লিডিং হতে পারে। যার ফলে রোগী অত্যধিক ব্যথা অনুভব করবে যা অসহনীয় হবে। অনেক সময় সনোলজিস্ট পাথরের শুধু দৈর্ঘ্য পরিমাপ নির্ণয় করে রিপোর্ট দেন, এখানে গুরুত্ব হলো stone diameter, চিকিৎসককে বুঝতে হবে পাথরের দৈর্ঘ্য-প্রস্থ কতো আছে।

এবার আসি ureteric stone-এ, পাথরটি যদি কিডনীর ইউরেটারে অবস্থান করে তাহলে আমরা বলি ইউরেটারিক স্টোন। ইউরেটারের দৈর্ঘ্য হলো ২৫-৩০সে.মি. এর মধ্যে যেকোন জায়গায় স্টোন থাকতে পারে। ইউরেটারিক স্টোন খুব সহজেই ঔষধ খেলে এবং বেশি করে পানি খেয়ে দৌঁড়-ঝাঁপ খেলে বা ঝাঁকি দিয়ে হাঁটলে পাথর বের হয়ে আসে। তবে ঝুঁকি আছে vesico-ureteric junction-এ স্টোন আটকা পড়তে পারে। যার ফলে hydronephrosis হতে পারে, বেশি দিন অপেক্ষা করলে কিডনীর অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের একটু ভুলের জন্য রোগী ক্ষতিগ্রস্থ হবেন।

ব্লাডার স্টোন : পাথরটি যদি প্রস্রাবের থলিতে অবস্থান করে তাহলে আমরা বলি UB stone। এটা খুব সহজেই ঔষধে বের হয়। এমনটি ইনফেকশনের ভয়ও তেমন নেই, তবে রোগীর জন্য অস্বস্থিকর হয়।

আসলে এতো লম্বা উদাহরণ দেয়ার উদ্দেশ্য হলো- অনেক চিকিৎসক ইরেনারী সিস্টেমের যেখানেই স্টোন হউক না কেন রোগীকে বলে থাকেন যে আপনার কিডনীতে পাথর হয়েছে, যা সম্পূর্ণ আত্মঘাতি বক্তব্য। এই ভুলটিই এক সময় ডাক্তার ও প্যাথির মান-সম্মান নিয়ে টান দেয়। এখানে চিকিৎসকের প্রথম দায়িত্ব হলো রোগীকে সুন্দরভাবে বুঝানো এবং সঠিক পরামর্শ দেয়া। চিকিৎসকের প্রদেয় পরামর্শে রোগী উপকৃত হলে রোগী কখনও চিকিৎসক ও প্যাথির প্রতি আস্তা হারাবেন না।

এরপর হলো হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতির শুরু। চিকিৎসক যদি মনে করেন পাথরটি হোমিওপ্যাথিক ঔষধের মাধ্যমে অপসারণযোগ্য তাহলে লক্ষণ সংগ্রহ শুরু করবেন, না হলে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করবেন। এখানে আপনি যে মেথডে বিশ্বাসী কাজে লাগাতে পারেন, কারণ আপনার দায়িত্ব হলো সঠিক ঔষধটি নির্বাচন করা। তবে সার্বদৈহিক লক্ষণ সংগ্রহ এবং মূল্যায়ণ করে রেপার্টরি করে রোগীর উপর প্রয়োগ করতে পারেন। পাশাপাশি রোগীর জন্য প্রয়োজনীয় উপদেশ প্রদান জরুরী।

মোট কথা হলো রোগীর অবস্থা বুঝার জন্য আপনাকে মেডিক্যাল জ্ঞান অর্জন করতে হবে, আর ঔষধ নির্বাচনের জন্য করণীয় বিষয়ক হোমিওপ্যাথিক জ্ঞান থাকতে হবে, পরিশেষে হোমিওপ্যাথিক ফিলসফি আপনাকে রোগ ও রোগীর গতিবিধি বুঝে পরামর্শ দিতে সাহায্য করবে।

 

এমআইইউ/এমএস 


oranjee