ঢাকা, বুধবার, ২৪ জুলাই ২০১৯ | ৯ শ্রাবণ ১৪২৬

 
 
 
 

রম্য গল্প

আতিক হেলালের গল্প- নিরপেক্ষ পার্টির নিরপেক্ষ মার্কা

গ্লোবালটিভিবিডি ৮:৩২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৯, ২০১৮

সংগৃহীত ছবি

সকাল সকালই রূহানী বেগমের মনটা খারাপ হয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, মেজাজও বিগড়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন সকালে গোসল করে আসার পর ইদ্রিস আলী তার দিকে গোপন দৃষ্টিতে তাকাতো। ইদ্রিসের ভালো লাগে এই রূপে তাকে দেখতে এবং তার এই দেখাটা রূহানী বেগমেরও যে সমান ভালো লাগে, তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। আজ ইদ্রিস সেভাবে রূহানীর দিকে তাকাচ্ছে না বলে তার খুবই খারাপ লাগছে এবং তার মেজাজ পর্যন্ত খারাপ হয়ে যাচ্ছে।   

ইদ্রিস শুয়ে আছে। তবে ঘুমাচ্ছে না, এটা ঠিকই বুঝতে পারছে রূহানী বেগম। আর সে কারণেই চাঁদি গরম হয়ে যাচ্ছে তার। ঘুমিয়ে থাকলে না হয় একটা কথা ছিল কিন্তু জেগে ঘুমানোর খেলা তো এখন খেলতে একটুও রাজি নয় সে। এই সাত-সকালে রূহানী বেগমের মুখ না দেখার ভান সে কছুতেই বরদাশত্ করবে না। এতো বড় অপমান! বিগত সাড়ে এগারো বছরের দাম্পত্য জীবনে এমনটি তো কখনও ঘটেনি! কিন্তু আজকে হঠাৎ কী হল ইদ্রিসের? তা হলে কি সে অন্য কারো!
না, ভাবতে পারছে না রূহানী বেগম। কিন্তু এখন কী করবে সে? এই অবস্থায় তার আশু করণীয় কী? মুহূর্তের ব্যবধানে কর্তব্য নির্ধারণ করে ফেললো সে। সেটা হলো ঝাঁপিয়ে পড়া এবং সেটাই সে করে ফেললো।
স্বাস্থ্যবতী রূহানীর অতর্কিত হামলায় কঁকিয়ে উঠে উদ্রিস আলী বললো, কী ব্যাপার রূহানী, তোমার কী হল? ঘুম থেকে উঠলে কখন? কী বৃত্তান্ত?
-বিত্তান্ত জানতি চাও! মনে হচ্ছে তুমি দুনিয়াতেই নেই! কিছুই ঠাওর হচ্ছে না, তাই না? ঘুম থেকে কখন উটলাম? গোসল পর্যন্ত কইরি বইসি আছি, আর ওনার চোকি কিছুই লাগে না?
এবার ভেদ বুঝতে পারল ইদ্রিস।
তার চক্রান্ত তাহলে সফল হয়েছে। এতোদিন কতো কষ্ট করেই না প্রত্যহ ঘুম থেকে উঠে সদ্য গোসল করা ভেজাভেজা রূহানী বেগমকে দেখতে হয়েছে। আজ জানা গেল, শুধু তার একতরফা ভালো লাগা নয়। অথচ ভাবখানা কী রূহানী বেগমের! তার কিছুই এখন বুঝতে না দিয়ে রূহানীকে কোলে তুলে নিয়ে ইদ্রিস বললো, প্লিজ, বিশ্বাস করো, আমি একটা ঘোরের মধ্যে ছিলাম লক্ষ্মীটি।
-থাক। আর লক্ষ্মীটি বলা লাগবিনানে। তুমাক আমার চিনা হয়া গেছে। মনে করিছো, আমি কিছুই বুজিনে? আমি সবই বুজি...। বুজিছো?
-কিন্তু আমি তো বুঝতে পারছি না তুমি আজ কোন বিউটি সোপ দিয়ে গোসল করেছো যে, এতো সুগন্ধ! আচ্ছা ঐ বিউটি সোপের সাথে ফ্রি কী পেয়েছো? সেটা আমাক দাও না গো!
আর পারল না রূহানী। হেসে গলে পড়ল। তবে প্রশ্ন একই-আচ্ছা, তুমি কি দীন-দুনিয়ার খবরাখবর কিছুই রাখবা না?
-কেন, কী হলো আবার?
-কী হলো মানে? কী হইনি তাই বল। ইলিকশান তো চইলিই আসলো। ক্যান্ডিডেটও তো সব ফিক্শট হয়া গেলো। আর তুমার কোনো খবরই নাই। নমিনেশন তো পাইলে না, পার্টি খুলবা বইললে, তারও কিছু জানলাম না!
-আরে জানবা জানবা, ফাইনাল হলেই সব জানতে পারবা ডার্লিং। আমার পার্টি এখন সেমিফাইনাল লেভেলে আছে। কৌশলগত কারণে এই মুহূর্তে এটা ফ্লাশ করা থেকে বিরত রয়েছি মাত্র।
-আহা, তা তো বুজলাম। কিন্তু সব পার্টি তো ইলেকশনের মার্কা পর্যন্ত পায়া গেলো। তুমার মার্কাটা কী?
-আরে আমার মার্কা তো তুমি।
-আহ্হা ইদ্রিস, হিয়ালী রাকো তো। আমি তুমার পলিটিক্যাল ফিউচার নিয়ে কিন্তু টেনশনে আছি হ্যাঁ।
-রাখো না, আগে আমার বর্তমানটা ঠিক হোক। তারপর তো ফিউচার। আমি আমার বাংলাদেশ নিউট্রাল পার্টির রেজিস্ট্রেশন এখনও পাইনি। তবে আমি ব্যাপক হারে আশাবাদী এই জন্য যে, আমার প্রস্তাবিত এই নাম নিয়ে অন্য কোনো পক্ষ বা গ্রুপ রেজিস্ট্রেশন দাবি করেনি। অতএব, কমিশন আমাকেই রেজিস্ট্রেশন দেবে বলে আমি আশাবাদী।
-কিন্তু মার্কা?
-হ্যাঁ, মার্কাও আমি আমার পার্টির নামের সাথে মিল রেখেই চাইবো।
-সিডা আবার কী? কিছু চিন্তা করিছো?
-করেছি গো করেছি। নিড়ানি। এটা দিয়েও ক্ষেতের কাজ করা যায়, অথচ অনেক নিরপেক্ষ। কোনো গ্রুপিং নেই এটা নিয়ে।
-কিন্তু তুমি তিনশ’ আসনে প্রার্থী দিবা না?
-দেবো না মানে? অবশ্যই দেবো। এ ব্যাপারে পত্রিকায় বিবৃতি তো দিয়েই দিয়েছি। আর পোস্টার, চিকা মারাতো আছেই।
-কিন্তু পার্থীগোর নাম ডিক্লার করতিছো না ক্যান, সিডা তো বুজতি পাললাম না?
-সেই জন্যই তো আমি হলাম পার্টির চেয়ারম্যান। তুমি বুঝবে কেমন করে? আরে, সব পার্টির নমিনেশন ডিক্লেয়ার আগে হয়ে যাক না, তারপরই আসল খেলা জমবে। যারা নমিনেশন পাবে না, আমি তো তাদেরকে নিয়েই আমার তিনশ' ক্যান্ডিডেট সাজাবো। তারপর আমাকেও হিমশিম খেতে হবে তাদের মধ্য থেকে তিনশ' জনকে বাছাই করতে গিয়ে।
অতএব ছোট পার্টি হয়েও আমার নিস্তার আছে নাকি?

আতিক হেলাল

লেখক পরিচিতি: সাংবাদিক ও লেখক

 

এসএনএ


oranjee