ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯ | ২ কার্তিক ১৪২৬

 
 
 
 

অন্ধকারের বন্ধু

গ্লোবালটিভিবিডি ১:৪৭ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৩১, ২০১৯

নীলা মাহমুদ

আমি তখন সপ্তম কিংবা অষ্টম শ্রেণিতে পড়ি। গ্রামের বাড়ি খুব একটা যাওয়া হয় না। তবে দাদার মৃত্যুবার্ষিকীতে কোন রকম কোন অজুহাতই চলে না, যেকোন অবস্থাতেই যেতে হবে। বুঝ হবার পর থেকে এই নিয়ম দেখে এসেছি। গ্রামের বাড়ি যাওয়াটা বেশ একটা উৎসাহের ব্যাপার ছিলো। আমাদের ভীষণ আয়োজন, আলোচনা চলতো বেশ কিছুদিন আগে থেকেই।

তবে, বাড়ি ছেড়ে বেশ দূরে গিয়ে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়াসহ টিউবওয়েলের পানি পান করতে হবে- এমন ব্যাপারগুলোই গা শিউরে উঠতো, তবুও সবকিছুকে চুপচাপ মেনে নিয়ে সময়মত গ্রামে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হতো।

মাকে একা পেলে দু-একটা অভিযোগ জানানোর চেষ্টা করতাম কিন্তু মা যেনো কিছু শুনছে না বা শুনতে পারছে না এমন আচরণ করে সরে পড়তো আমাদের সামনে থেকে। যাই হোক, কিছু আনন্দ, কিছু অপছন্দের জিনিস সঙ্গী করে রওনা হতাম গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে।

গ্রামের বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি সামগ্রির সাথে আমার অবশ্যই কিছু বই থাকতো, গল্পের বই। কেননা, গ্রামের বাড়িতে গিয়েও আমি ঘরে থাকতে পছন্দ করতাম। অবাদে ঘুরে বেড়ানো আমার পছন্দের বাইরে ছিলো। হয়তোবা এ কারণে গ্রামের মানুষের কৌতুহলটাও হয়তো একটু বেশি ছিলো। পুরো গল্পটা শুরু করলাম নিজেকে দিয়ে। আসলে নিজের জীবনী কিংবা বিস্তারিত লেখার যোগ্যতা এখনোও অর্জন করিনি কিন্তু লিখতে গিয়ে লিখে ফেলা। যে প্রসঙ্গে আমার আজকের লেখা ওই গ্রামের বাড়িকে ঘিরেই।

যাই হোক, আমি তখন সপ্তম কিংবা অষ্টম শ্রেণিতে পড়ি, সঠিক বয়সটা মনে পড়ছে না। আর একটা কথা জানিয়ে রাখা ভালো। স্যার হুমায়ূর আহমেদ অনেক বড়মানের একজন লেখক এবং আমাদের দেশের অনেক বড় একজন সম্পদ। যার অপূর্ণতা কখনোই কেউ পূরণ করতে পারবে না। আমার এই ঘটনা বাস্তব এক ঘটনা। যা নিজের সাথে ঘটে গেছে।

অনেক বছর, অনেক বসন্ত, অনেক শীত এবং জীবনের অধ্যায়ও বদলে গেছে। তবুও সেই ঘটনা আজও আমায় শিহরণ জাগায়। আজও আমায় ভীষণ ভাবায়...। আমার পরিবার ব্যতিত কেউ জানে না। যখন কাউকে বলবো ভেবেছি তখনই হুমায়ূন স্যারের ছায়াসঙ্গী বইটি পড়ি। চুপ হয়ে যাই কারণ তার এক একটি অদ্ভুত সৃষ্টির এক একটি চরিত্র মানুষকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করেছে। আমি যদি এখন এই ঘটনা বলি তাহলে নিঃসন্দেহে সবাই ভেবেই নিবে ছায়াসঙ্গীর প্রভাব হয়তো আমার উপর পড়েছে। তাই এতোগুলো বছরের মত এখনোও চুপ হয়ে রই। হঠাৎ কিছুদিন আগে মনে প্রশ্ন জাগে স্যার হুমায়ূন আহমেদ যে ছায়াসঙ্গী লিখেছেন নিশ্চই এর কোন ব্যাখ্যা আছে কেনো না। তার কোন গল্পই রুপকথার কাল্পনিক কাহিনী না। বাস্তবতার অতি নিপুণ বিষয় এবং অপ্রিয় কিছু সত্যকে সামনে রেখে সে গল্প লিখে গেছেন। যা আমাদের কাঁদিয়েছেন হাসিয়েছেন এবং কৌতুহলীও করে তুলেছেন। তার মত একজন নন্দিত লেখক কোন কারণ বা ব্যাখ্যা ব্যতিত কিছুই লেখেননি। তাই কোন কিছু অসম্ভব না। এ চিন্তা ভাবনা থেকে আমার ঘটনাটা লেখার সিদ্ধান্ত নিলাম।

প্রথমেই বলেছি আমি তখন সপ্তম শ্রেণিতে না হয় অষ্টম শ্রেণিতে পড়ি। বরাবরের মতই দাদার মৃত্যুবার্ষিকীতে যাই। ১১ই বৈশাখ আমার দাদার মৃত্যুবার্ষিকী। আমরা তার দু’তিনদিন আগে চলে যাই। তখন নদীপথ ছাড়া কোন বিকল্প ছিলো না, ছোট ছোট শাখা প্রশাখা পেরিয়ে পদ্মানদীতে গিয়ে উঠতে হতো। মুন্সীগঞ্জ ছাড়িয়েও দু’তিন ঘণ্টা লেগে যেতো। ভোর সকালে রওনা হয়ে মাগরিব-এর ওয়াক্তে গিয়ে পৌঁছাতাম।

যাই হোক, গ্রামে গেলাম। প্রতিবারের মত ফুপুরা তাদের ছেলেমেয়ে চাচাতো ভাই-বোন সব মিলিয়ে প্রায় পঞ্চাশ জন মানুষের আগমন দাদার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে। এ আয়োজন সব আমার বাবার ছিলো। তাদের শুধু উপস্থিতিই যথেষ্ট ছিলো। গ্রীষ্মের উদাস দুপুর ভোর সকালে উঠার পর, দুপরের খাবারের পর মোটামুটি সবাই একটু ক্লান্ত, কেউ ঘুমাচ্ছে, কেউ বা গল্প করছে, আমি জানালার পাশে বসে গল্পের বই পড়ছি।

কেনো জানি বার বার বাইরের দিকে চোখ যাচ্ছিলো, দেখলাম কিছু বাচ্চা কত হবে বয়স চার কিংবা পাঁচ। ওরা খেলছে, ওদের খেলা দেখছিলাম। ওদের কোলাহলে আমার পড়ার বিঘ্ন ঘটাতে বিরক্ত হচ্ছিলাম তাও ঠিক। মনে পড়ছে না, কখন বাচ্চাগুলো চলে গেছে টের পাইনি।

পড়ায় মশগুল ছিলাম আর তাছাড়া ওদের নিয়ে তেমন একটা বিচলিতও ছিলাম না, অনেকক্ষণ পর বেশ কান্নাকাটির শব্দ পেলাম আমাদের বাড়ি থেকেও সবাই ছুটে যাচ্ছে পাশের বাড়িতে, আমি মাকে জিজ্ঞেস করলাম মা কি হয়েছে? মা বললো, একটা বাচ্চা নাকি পানিতে পড়ে মারা গেছে, আমার বুকটা ধক্ করে উঠলো, আমি মাকে জিজ্ঞেস করলাম- এই যে কিছুক্ষণ আগে এখানটায় কিছু বাচ্চা খেলছিলো তাদের মধ্যে কেউ নয় তো?

মা বললো, জানি না, শুধু শুনলাম জলিল মিয়ার ছেলে পানিতে পড়ে মারা গেছে, কোনটা জলিল মিয়ার ছেলে তাও তো জানি না, আমি দেখতে চাইলাম, মা নিষেধ করলেন। বললেন, না ভয় পাবে। আমিও নিজের উপর আস্থা করতে পারিনি মার কথাতেই বিশ্বাস হয়েছে, হ্যাঁ, যদি ভয় পাই তাই আর কোন আগ্রহ প্রকাশ না করে চুপচাপ থাকি।

পাশের বাড়িতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে যাওয়াতে ওই পরিবারের কান্নার আহাজারি যেনো পুরো পরিবেশটাকে কেমন একটায় বিষন্নতায় ছেয়ে গেলো। তবুও সব বিষন্নতাকে ছাপিয়ে বছরে একবার দেখা হওয়ায় চাচাতো ফুপাতো ভাইবোনদের কেমন নির্বোধ করে দিলো, চাঁদের আলোয় তারা ভরা আকাশের নীচে একটু একটু আলো-আঁধারের মাঝে লুকোচুরি খেলার স্বাদ যেনো মৃত্যুর কষ্টকেও হার মানালো, সবাই একত্রিত হয়ে সাথে আমাদের বয়সী গ্রামের ছেলেমেয়েরা ছুটাছুটি খেলায় মগ্ন হয়ে গেলাম, চোখের সামনে জলজ্যান্ত একটি মৃত্যুকে যেনো কয়েক মুহূর্তে ভুলে গেলাম। খেলার মাঝে মাঝে খেয়াল করলাম একটি বাচ্চা সর্বদা আমার আশপাশেই ঘুরছে। আমি যেখানেই লুকাচ্ছি ছেলেটি যেনো কোন জায়গা না পেয়ে আমার পাশেই আসছে লুকাতে। আমি সেই ছোট্ট বাচ্চাটিকে হাত দিয়ে ইশারা করলাম, সে যেনো আওয়াজ না করে এবং তাকে লুকাতে সাহায্য করলাম।

পূর্ণিমা রাত চাঁদের মিষ্টি আলোতে মনে পড়ে ছেলেটির মুখখানা লালচে লালচে চুল, তামাটে গায়ের রং, শরীরটা শুকনা কিন্তু পেটটা বেশ ঢলঢলে যেনো পানি ভর্তি। খেলা শেষ চাঁদের ঐ আলো আঁধারের আলোতে সবাই বিদায় নিলো। তার পরদিন একই ঘটনা ঘটলো। দিন ফুরিয়ে এলো, আমাদের ফিরে আসার সময় হলো, আমরা যখন বিদায় নিই গ্রামের বাড়ি থেকে, তখন সমস্ত গ্রাম যেনো স্তব্ধ হয়ে যায়। সহজ সরল মনের মানুষগুলো আবেগে আপ্লুত হয়ে কাঁদতে থাকে। তাদের কান্না আমাদেরও কাঁদায়, কারণ শহুরের মানুষের প্রতি তাদের যে ধারনা সেই ধারনা তাদের একেবারেই বদলে যায় আমাদের সাথে মিশে, তারা যেমন আমাদের আপন করে নেয় আমরাও তাদের সেভাবেই কাছে টেনে নেই। সুতরাং আমাদের সংস্পর্শে আসা তাদের জন্য অনেক বড় একটা ব্যপার হয়ে যায়। তাই আমাদের বিদায়লগ্নে তাদের আবেগ আর ধরে রাখতে পারে না।

ফিরে এসে শহরের ব্যস্ত জীবনে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। কিভাবে দিন গড়িয়ে বছর কেটে যায় বুঝতে পারি না। আবার চলে আসে বৈশাখ আবার প্রস্তুতি চলে গ্রামে যাওয়ার। গ্রামে যাই। সেই প্রতি বছরের মত গ্রামে গিয়ে ছুটাছুটি খেলা, লুকোচুরি খেলা চলতে থাকে। আমরা একটু বড় হয়ে যাই, সাথের সাথীদেরকেও দেখি একটু বড় হয়েছে, কিন্তু খেলার সময় গত বছরের মত দেখি এবছরও সেই ছেলেটি আমার পিছু নিয়েছে, মুখে তার কোন কথা নেই, কিন্তু তার তাকানো দেখে বুঝি সে আমাকে খুব পছন্দ করে, একবার ভাবি ছেলেটি তো একটুও বড় হয়নি আবার ভাবি, গরীব ছেলে হয়তো পুষ্টির অভাবে বাড়েনি, আমি ওকে ওর নাম জিজ্ঞেস করি, ফ্যাশ ফ্যাশ গলায় কি যেনো একটা নাম বলে, লুকিয়ে আছি ধরা পড়ে যাবো ভয়ে আর দ্বিতীয় বার জিজ্ঞেস করি না। আবার খেলা শেষ, সবাই সবার মত বিদায় নেয়, সকাল বেলা আমার মনে পড়ে সেই ছেলেটির কথা, আমি ওকে চোখে চোখে খুঁজি সবাইকে জিজ্ঞেসও করি কিন্তু নাম না জানাতে কেউ বলতে পারে না। গতবার যখন বিদায় নিই তখন সবাই যখন দাঁড়িয়ে বিদায় জানাচ্ছিলো ওই ছেলেটিও ছিলো কিন্তু একটু দূরে সবার থেকে একটু আলাদা হয়ে, ও শুধু তাকিয়েই ছিলো ওকে কাঁদতে দেখিনি। কেনো জানি আমার মনের ভিতর ওকে নিয়ে একটি কৌতুহল জাগে, যদিও গ্রামের বেশির ভাগ বাচ্চাগুলো, একটু বোকাটে হয়, তাদের মনে কেমন জানি একরকম জড়তা আর আতংক কাজ করে, তবুও আমি ওর ব্যাপারে ভীষণ কৌতুহলি হয়ে উঠি এবং সিদ্ধান্ত নিই আজকে আমি ওই ছেলেটির নাম জিজ্ঞেস করবো এবং ও কোথায় থাকে জিজ্ঞেস করবো, কৌতুহলের সাথে সাথে আমার একরকম মায়া কাজ করে সেই ছেলেটির জন্য।

ভাবতে না ভাবতে ঘটে যায় আরেকটি ঘটনা, সেই একেই সময় চিৎকার শুনতে পাই, সবাই দৌড়ে যায়, জানতে পারি, জলিল মিয়ার আরেকটি ছেলে পানিতে পড়ে মারা গেছে, এবার আর ভয় করি না মার বারণও শুনিনা। মনে মনে ভাবতে থাকি, ওই ছেলেটি না তো? গিয়ে দেখি মধ্যখানে লাশটা রেখে চারিপাশে মানুষ জড়ো হয়ে আছে এবং জলিল মিয়া ও তার স্ত্রী সন্তান হারানোর কান্নায় চোখের জলে নিজেদের ভাসিয়ে দিচ্ছে, আমাদের উপস্থিতিতে গ্রামের মানুষ সরে যায়, আমাদের মৃত বাচ্চাটাকে দেখার সুযোগ করে দেয়, আমি তাড়াতাড়ি উঁকিঝুঁকি মেরে দেখি, দীর্ঘশ্বাস ফেলি নাহ্ ওই ছেলেটি না, আমাদের আগমনে জলিল মিয়া ও তার স্ত্রীর কান্নার আওয়াজ আরও দ্বিগুণ হয়ে যায়। আমাদের উদ্দেশ্য করে কাঁদতে থাকে আর বলতে থাকে- ও আল্লাহ্ গো, আমরা কি পাপ করছি, তুমি একটার পর একটা পোলা নিয়া যাইতাছো, ও আল্লাহ্ আমি কেমনে সহ্য করুম, আমার বুকের ধন তুমি কাইরা নিছো, আমি কেমনে বাঁচুম, কারে লইয়া বাচুম তার এরকম কান্নায় একটু আমি ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ি। সাধারণত এরকম কথা বলে বলে কান্না করা দেখে অভ্যস্ত না। মৃত্যু জিনিসটা এমনিতেই ভীষণ বেদনাদায়ক। হোক সে আপন কিংবা পর। মৃত্যু নামে শব্দটা সবার বুকের ভিতর একটা কষ্ট অনুভূতি হয় আর তার মাঝে যদি এরকম ব্যাখ্যাজনিত আর্তনাদ হয়। তাহলে পুরো পরিবেশটা কেমন হতে পারে তা লিখে বুঝানো সম্ভব না। এর মাঝেও সন্তান হারানো পিতা মাতা ধন্য হয়ে উঠে আমাদের উপস্থিতি দেখে। তাদের চোখে এক ঝিলিক সুখের ছায়া, ভাঙ্গা ভাঙ্গা কান্নাজড়িত কন্ঠে বললো- আপনেরা আসছেন, এই বলেও একটু কান্নার চেষ্টা করলো- অ... আল্লাহ্ আমার রহিমে আর করিমে যদি দেখতো আপনেরা আইছেন কি খুশিডা হইতো, তারপর ভীষণ অনুরোধ করলো তাদের গরীব কুঁড়েঘরে যেনো আমরা একটু প্রবেশ করি। সন্তান হারানোর ব্যথার মাঝে আমাদের নিয়ে ব্যতিব্যস্ত কেমন যেনো এক সংকোচবোধ করতে লাগলাম। বারণ করার সুযোগ নেই, কারণ সন্তান হারিয়েছে সে, আমাদের একটু আগমনে যদি তার মনে শান্তি মিলে। তাই মায়ের ইশারায় আমরা তার সাথে তার ঘরে যাই। ঘরে ঢুকতেই তাদের ঘরে একটি ছবি টানানো দেখি, আমি খুব খুশি হয়ে যাই, ছবিটার কাছে গিয়ে সন্তানহারা মাকে জিজ্ঞেস করি, এটা আপনার ছেলে?

মহিলা আবার কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে আর বলে, হ গো মা এইডা আমার পোলা রহিম, গত বছর পানিতে পইরা মইরা গেছে, এ বছরও আরেকটা গেলো, ওই পুকুরে জ্বীন আছে ওই বদজ্বীন দুপুর বেলা আমার পোলা গো নিয়া মারছে, মহিলা বলতে থাকে আর অঝোরে কাঁদতে থাকে, তার কোন কথা যেনো আমি শুনতে পাই না, আমি স্তব্ধ, কি করবো, কাকে বলবো, এই রহিম প্রতি রাতে আমার সাথে লুকোচুরি খেলে। একথা যে কাউকে জানাতে হবে তাতো বুঝতে পারিনি, এখন যদি বলি কেউ বিশ্বাস করবে না, মাও ভাববে আমি ভয় পেয়েছি। তাই ওই রকম অদ্ভুত কথা বলছি, আমি ভয় পাবো নাকি অবাক হবো নাকি নিজেকে অবিশ্বাস করবো বুঝতে পারছিনা। বার বার রাতের আঁধারে চাঁদের আলোতে ওর মুখখানা চোখে ভাসে। ঢলঢলে পেটটা চোখে ভাসে..., বুকের ভিতর কেমন জানি একটা চাপা কষ্ট অনুভব হয়, যেখানে ভয় পাবার কথা সেখানে ভীষণ কষ্ট হয়, সেই মায়া ভরা মুখটা ভেবে।

ব্যাপারটা কেমন রহস্যময় কিন্তু সব রহস্যের ব্যাখ্যা থাকে না তা আমিও বুঝি। কিছু কিছু রহস্য আজীবন রহস্যের তালিকায় পড়ে থাকে। বুঝতে পারি আর হয়তো ওকে দেখবো না, আর হয়তো ও আসবে না আমার কাছে। মনে হয়, খুব কাছের কাউকে হারিয়েছি।

মনে পড়ে গুটিসুটি হয়ে আমার পাশে লুকানো আর লজ্জা লজ্জা মুখে মিটিমিটি তার হাসিটা। আমি হতবাক্ হয়ে তাকিয়ে রই ওর ছবির দিকে, হাত বুলাই ওর ছবিতে আর ভাবি কি রহস্যময় ব্যাপার। যাকে জীবনে দেখিনি, যার লাশটা পর্যন্ত দেখিনি সে কেনো আসতো আমার কাছে?

আর দেখবো না, তাকে। একজন বন্ধু হারানোর কষ্ট অনুভব করি। আমার অন্ধকারের বন্ধু। এখনো মনে পড়ে আমার সেই অন্ধকারের বন্ধুকে। মাকে বলেছি, সে একটি অবজ্ঞার হাসি হেসে উড়িয়ে দিলো আমার কথা।

আমি আর আমার সেই রহস্য আর আমার অন্ধকারের বন্ধুর স্মৃতি আজও আছে আমার হৃদয়ে। এরপর বহুবার গ্রামে গেছি, এখনও যাই, তবে আর দেখা পাই না, আমার সেই অন্ধকারের বন্ধুর।

এমএস


oranjee