ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৫ কার্তিক ১৪২৬

 
 
 
 

জয়ের জন্য বাংলাদেশের টার্গেট ১৬৫

গ্লোবালটিভিবিডি ৮:২৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯

ফাইল ছবি

ত্রিদেশীয় সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে মুখোমুখি স্বাগতিক বাংলাদেশ আর আফগানিস্তান। টস জিতে আফগান দলপতি রশিদ খান ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। নির্ধারিত ২০ ওভারে আফগানরা ৬ উইকেট হারিয়ে তুলেছে ১৬৪ রান। শেরে বাংলায় সাকিব-তাইজুলদের তুলোধুনা করে ঝড় তুলেছে মোহাম্মদ নবী। ৫৪ বলে ৭ ছক্কা ও ৩ চারে নবী তুলেছেন ৮৪ রান। জিততে হলে সাকিব-মুশফিকদের তুলতে হবে ১৬৫ রান।

বড় রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে বাংলাদেশ। শুরুতেই সাজঘরে ফিরেন ওপেনার লিটন দাস। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই মুজিবের বলে তেড়ে মারতে যান লিটন। এতে মিসম্যাচ হয়ে তারাকাইয়ের তালুবন্দী হন লিটন। ব্যক্তিগত ৫ রান করে ফরিদ আহমেদের বলে বোল্ড হন প্রথমবার ওপেনিংয়ে নামা মুশফিকুর রহিম। দলীয় ১১ রানে বাংলাদেশ দুই ওপেনারকে হারায়। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে মুজিব ফিরিয়ে দেন ১৩ বলে দুই চারের সাহায্যে ১৫ রান করা সাকিবকে। দলীয় ৩১ রানের মাথায় তৃতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

সাকিবের পর মাহমুদউল্লার সাথে দলের হাল ধরতে নামেন সৌম্য সরকার। কিন্তু শূন্যরানেই মুজিবের শিকার হয়ে ফিরলেন সৌম্য। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৫.২ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩২ রান। ক্রিজে আছেন মাহমুদউল্লাহ ও সাব্বির।

এর আগে মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হয় সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায়। প্রথম বলেই আফগান ওপেনারকে ফিরিয়ে দেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। আগের ম্যাচে অভিষিক্ত রহমানুল্লাহ গুরবাজকে বোল্ড করেন সাইফ। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে দলীয় ১০ রানের মাথায় সাকিব ফিরিয়ে দেন আরেক ওপেনার হজরতউল্লাহ জাজাইকে। লিটন দাসের হাতে ধরা পড়ার আগে তিনি করেন ১ রান। সাকিব নিজের প্রথম ওভারে মেডেন উইকেট তুলে নেন। ইনিংসের তৃতীয় ওভারের শেষ বলে আবারও আঘাত হানেন সাইফ। এবার ফিরিয়ে দেন ১৩ বলে এক ছক্কায় ১১ রান করা নাজিব তারাকাইকে।

এরপর প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিল আফগানরা। ২১ রানের জুটি গড়েছিলেন আসগর আফগান এবং নাজিবুল্লাহ জাদরান। দলীয় ৪০ রানের মাথায় সাকিব ফিরিয়ে দেন নাজিবুল্লাহ জাদরানকে। ৭ বলে ৫ রান করে সৌম্য সরকারের হাতে ধরা পড়েন তিনি। এরপর বড় জুটি গড়েন আসগর আফগান এবং মোহাম্মদ নবী। এই জুটিতে আসে ৭৯ রান। ১৭তম ওভারে এই জুটি ভাঙেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ৩৭ বলে তিনটি চার আর দুটি ছক্কায় ৪০ রান করে বিদায় নেন আসগর আফগান। একই ওভারে গুলবাদিন নাইবের স্ট্যাম্প উপড়ে ফেলেন সাইফউদ্দিন। ১৮তম ওভারে সৌম্যকে ছক্কা হাঁকিয়ে ফিফটি পূর্ণ করেন মোহাম্মদ নবী। সেই ওভারে আরও একটি ছক্কার সাথে দুটি বাউন্ডারি হাঁকান নবী। সৌম্যর ঐ ওভার থেকে আফগানরা তুলে নেয় ২২ রান।

নবী শেষ অবধি ব্যাট চালিয়ে অপরাজিত থাকেন ৮৪ রানে। তার ৫৪ বলের ইনিংসে ছিল ৭টি ছক্কা আর ৩টি চারের মার। করিম জানাত ৫ রানে অপরাজিত থাকেন।

তাইজুল ইসলাম ৪ ওভারে ৩২ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। সাইফউদ্দিন ৪ ওভারে ৩৩ রান দিয়ে নেন চারটি উইকেট। সাকিব ৪ ওভারে ১৮ রান দিয়ে তুলে নেন দুটি উইকেট। সৌম্য ২ ওভারে ৩১, মোসাদ্দেক ১ ওভারে ১২ এবং মাহমুদউল্লাহ ১ ওভারে ৩ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। মোস্তাফিজ ৪ ওভারে ২৫ রান খরচায় কোনো উইকেট পাননি।

নিজেদের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ৩ উইকেটে হারিয়েছে সাকিবের দল। আর একই প্রতিপক্ষকে হারিয়ে নিজেদের টুর্নামেন্ট শুরু করেছে রশিদ খানের আফগানিস্তান। নিজেদের দ্বিতীয় জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নেমেছে দুই দল। টি-টোয়েন্টির র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান দশ নম্বরে আর আফগানদের সাত নম্বরে। মুখোমুখি দুই দলের চার দেখায় আফগানরা জিতেছে তিনটি ম্যাচে।

এমএস


oranjee