ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ১ আশ্বিন ১৪২৬

 
 
 
 

বাক্সবন্দী বাবা

গ্লোবালটিভিবিডি ৩:০৫ অপরাহ্ণ, জুন ১৬, ২০১৯

বাক্সবন্দী বাবা / মুহাম্মদ জাভেদ হাকিম: বাবা বাবা বাবা। কেউবা ডাকেন আব্বা,আব্বু। তবে তথাকথিত শহুরে সমাজে রয়েছে ভিন্নতা। তারা বাবা,আব্বা, আব্বুর বদলে ড্যাডি, ড্যাড কিংবা আরো কোন রঙচঙ মাখা নামেই ডাকতে অভ্যস্থ।

আজ ১৬ জুন, বিশ্ব বাবা দিবস। ব্যক্তিগতভাবে আমার মাথায় ধরে না, এসব মধুর সম্পর্কগুলোকে কেন নির্দিষ্ট কোন দিবসের জন্য বাক্স বন্দী করতে হবে? পশ্চিমাদের কথা না হয় আলাদা। সেসব দেশে কে কাকে জন্ম দানে সহযোগিতা করে থাকে, সেটা তারা নিজেরাও ঠিকমতো জানে না। তাই তারা বাবা নামক ব্যক্তিটাকে নির্দিষ্ট একটা দিনের জন্য সারাবছর তুলে রাখে। সেই দিনটিতে সাজসাজ রবে ঘটা করে পালন করে। দিন শেষে যে যার মতো। কিন্তু আমাদের মুসলিমদের মধ্যে কেন এরকম নির্দয় দিবসের সূচনা হলো?
বাবা বাবা বাবা। এই নামটির মাঝে রয়েছে গভীর মমতা। বাবাদের মাঝেই রয়েছে সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ভিত। একজন আদর্শ বাবাই তার সন্তানের প্রথম পাঠশালা। সন্তান যত বড়োই হোক না কেন, বাবার কাছে সে সেই ছোট্ট খোকাই। তাই ত আজো এই দেশে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে বাবাদের গুরুত্ব অপরিসীম।
আমার আব্বা আমাকে এখনো তার পরম মমতায় তদারকি করেন। আমার ৪৩ বছর বয়সেও আমি এখনো বাবার পরম স্নেহ সান্নিধ্যেই রয়েছি। জন্মের পর হতেই আমি আমার আব্বাকে নানান ঝামেলায় ফেলি। কিন্তু আজ অব্দি সে সব কিছুই আমার বাবা হবার কারণে ভালোবাসাময় হাসি মুখে মেনে নিয়ে যাচ্ছেন। আমি আমার আব্বাকে নিয়ে গর্বিত।
ইসলাম ধর্মেও সন্তানের প্রতি বাবাদের বিশেষ ভূমিকা পালনের তাগিদ দেয়া রয়েছে। অথচ আজ সমাজে কি ঘটছে? আব্বাকে রেখে অন্যকে নিয়ে ব্যাস্ত সবাই। স্ত্রীর জন্য অনেকে বাবাকে রেখে আসে বৃদ্ধাশ্রমে। এসবের মূলে রয়েছে পশ্চিমা সংস্কৃতির লালন। এসব থেকে আমাদেরকে বের হয়ে আসতে হবে। বাবাদের প্রতি প্রতিদিনের জন্যই দায়িত্বশীল মানসিকতা পোষণ করতে হবে। নির্দিষ্ট কোন দিবসের জন্য বাবাদের প্রতি সন্তানদের দায়িত্ববোধ বাক্সবন্দি করা চলবে না। বাবা নামক মানুষটি একজন সন্তানের জীবনে বেঁচে থাক শত বছর।

এএইচ


oranjee