ঢাকা, শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

 
 
 
 

সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রভাবমুক্ত মঙ্গল শোভাযাত্রা

গ্লোবালটিভিবিডি ১:২৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ০৭, ২০১৯

ছবি সংগৃহীত

পহেলা বৈশাখে প্রতিবছর আয়োজিত বর্ণাঢ্য ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’র জন্য সুনির্দিষ্ট কোনও অর্থ বরাদ্দ নেই। সরকার থেকেও এজন্য কোনও আর্থিক অনুদান নেওয়া হয় না। এই শোভাযাত্রার মূল আয়োজক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। জানা যায়, এই অনুষদের সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থীদের চাঁদা, কখনও দরকার পড়লে শুভানুধ্যায়ীদের কিছু অনুদান দিয়েই প্রতিবছর সম্পন্ন হয় এই মঙ্গল শোভাযাত্রার সব আয়োজন। শোভাযাত্রার জন্য তৈরি করা মঙ্গল পট ও দ্রব্যসামগ্রী নিলামে বিক্রি করে মেটানো হয় ফান্ডের ঘাটতি অথবা জমা হয় উদ্বৃত্ত হিসেবে।
জানা গেছে, সরকরী বা বেসরকরী প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সহযোগিতা না নিয়ে এই আয়োজনটিকে প্রভাবমুক্ত রাখতে চান আয়োজকরা।

জানা যায়, প্রতিবছর চারুকলা অনুষদের একটি ব্যাচ এই উৎসব আয়োজনের দায়িত্ব পায়। এবারে আয়োজনের দায়িত্বে রয়েছে ২১তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। ‘মস্তক তুলিতে দাও অনন্ত আকাশে’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে প্রতিবছর মতো এবারও জাঁকজমক পরিবেশে এ উৎসবের আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা।

বর্তমানে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের জন্য বিভিন্ন রকমের মুখোশ, পট ও আকৃতির জিনিস তৈরি করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি এগুলে বিক্রিও করছেন চারুকলা অনুষদের ২১তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।
তারা বলেন, শোভাযাত্রার আগে ও পরে তৈরি করা জিনিসগুলো বিক্রি করে ভালো টাকা পাওয়া যায়। যদি সরকারের কাছ থেকে অনুদান নেওয়া হয় তাহলে অনুদানের সঙ্গে রাজনীতিও ঢুকে পড়বে। সে কারণে অনুদানও নেবো না, কিছু নষ্ট হতেও দেবো না।

এবার মুখোশের সঙ্গে বানানো হচ্ছে পেঁচা, বাঘ-সিংহ, ময়ূর, ইঁদুর, হাঁস, ষাঁড়, প্রজাপতি, সূর্য ইত্যাদি প্রতীক। এসব জিনিস তৈরির নেতৃত্বে আছেন চারুকলা অনুষদের ২১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী গৌরাঙ্গ বৈরাগী। তিনি জানান, প্রতীক তৈরির কাজ এখন পর্যন্ত ২০ শতাংশ শেষ হয়েছে।

আর্থিক বরাদ্দের বিষয়ে বাংলা নববর্ষ উদযাপন কমিটির সদস্য-সচিব ও চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন বলেন, ‘পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রার জন্য কোনও নিদির্ষ্ট পরিমাণ বাজেট নেই। শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্যোগে মঙ্গল শোভাযাত্রার জিনিস তৈরি করে। তারপর সেগুলো বিক্রি করে বিনিয়োগ করা অর্থ তুলে থাকে। তবে, তাদের বিক্রির পরিমাণ ১০ লাখ টাকার কম হয় না। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাদের জন্য কোনও বাজেট বরাদ্দ থাকে না। যেহেতু এটি বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে, তাই সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় আর্থিক সহায়তা দিতে চেয়েছে। কিন্তু ছাত্ররা সেটি নেয়নি। তারা নিজেদের অর্থায়ন ও শ্রমে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করে।’
 এএইচ/


oranjee