ঢাকা, সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৩ পৌষ ১৪২৫

 
 
 
 

বিষয় :

ঢাকা

  • ভিনগ্রহের প্রাণী দুনিয়াতে ঘুরে গেল, আমরা দেখতে পেলাম না কেন জানেন!
  • ফেসবুকে তর্ক ক্ষতিকর কেন জানেন ?
  • এবার অনলাইনে ‘ডেলিভারি’ দেবে ড্রোন!
  • ভয়ে চাকরি ছাড়ছেন ফেইসবুক কর্মীরা!
  • পৃথিবী থেকে উধাও অক্সিজেন: কারণ খুঁজতে মেরুতে নাসা
  • অ্যাপল ওয়াচ রুখে দিতে পারে ক্যানসার!
  • কাজের মনোযোগ নষ্ট করে স্মার্ট ফোন!

মশার বিরুদ্ধে গুগলের যুদ্ধ ঘোষণা!

গ্লোবালটিভিবিডি ৩:৩৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৩০, ২০১৮

সংগৃহীত ছবি

মানুষ যখন সবকিছু ব্যবহার করে মশা নিধনে ব্যর্থ তখন বিশ্বের সর্ববৃহৎ সার্চ ইঞ্জিন গুগল গ্রহণ করেছে ব্যতিক্রম এক উদ্যোগ। সংস্থাটি মশার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। নাহ, মশা মারতে তারা অস্ত্র-শস্ত্র কিংবা যুদ্ধ যন্ত্রপাতি ব্যবহার করবে না। কিংবা কয়েক ও ধোয়া জাতীয় কোনো কিছু দিয়ে নয় বরং তারা গ্রহণ করেছে অভিনব এক পন্থা। মশা ছেড়েই মশার বংশ ধ্বংস করবে গুগলের মূল সংস্থা ‘অ্যালফাবেট’। নির্মূল করবে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার আশঙ্কা।

যুদ্ধে যেমন সুন্দরী গুপ্তচরদের ফাঁদে ফেলে বিপক্ষের সেনাবাহিনীর গোপন খবরাখবর নেওয়া, তেমনি চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গুর বিষে ভরা ‘রাক্ষুসে’ স্ত্রী মশাদের টেনে আনা হবে গুগলের ‘পছন্দের’ পুরুষ মশাদের তাদের সামনে এগিয়ে দিয়ে। স্বাভাবিক মিলনের প্রলোভন দেখানো হবে।

‘রাক্ষুসে’ স্ত্রী মশাদের তো আর জানা নেই, যে পুরুষ মশাদের ভাল লেগেছে, যাদের সঙ্গে তাদের মিলন হয়েছে, সেই পুরুষ মশাদের শরীরে গুগলের বিজ্ঞানীরা ঢুকিয়ে দিয়েছেন ‘উলবাচিয়া’ প্রজাতির একটি ব্যাকটেরিয়া। যা স্ত্রী মশাদের বন্ধ্যা করে দেয়। ফলে, মিলনের পরেও স্ত্রী মশারা আর ডিম পাড়তে পারবে না। তাই মশার বংশ আর বাড়বে না। মশার বংশ ধ্বংস হতে বেশি সময়ও লাগবে না। ফলে, নির্মূল হবে কোনও এলাকায় ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়ার মতো ‘এডিস ইজিপ্টাই’ প্রজাতির মশাবাহিত ভয়ঙ্কর রোগের জন্ম ও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার যাবতীয় সম্ভাবনাও।

মিলনের ফাঁদে ফেলে মশা দিয়ে মশা মারার এই অভিনব পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন গুগলের মূল সংস্থা ‘অ্যালফাবেট’-এরই আরেকটি ইউনিট ‘ভেরিলি লাইফ সায়েন্স’-এর জীববিজ্ঞানীরা। তাদের উদ্ভাবিত পদ্ধতির পরীক্ষানিরীক্ষাও চালিয়েছেন দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রেসনো কাউন্টিতে। এই ভাবেই গোটা বিশ্বে মশাবাহিত রোগগুলি নির্মূল করা যাবে বলে বিজ্ঞানীদের আশা।

সংস্থার মুখপাত্র ক্যাথলিন পার্কস বলেন, একটি উঁচু মার্সিডিজ ভ্যান ছুটতে ছুটতে ফ্রেসনো কাউন্টির বিশাল একটি এলাকাজুড়ে একটি টিউব থেকে আশপাশের জঙ্গল ও লোকালয়ে ছড়িয়ে দেয় শরীরে বিশেষ এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া (উলবাচিয়া) পুরে দেওয়া প্রায় ৮০ হাজার পুরুষ মশা। যাদের টানে কাছে এসে গোটা এলাকার মেয়ে মশারা মিলনের পর পুরোপুরি বন্ধ্যা হয়ে গেছে।

গবেষণাগারে নিয়ে গিয়ে ওই পুরুষ মশাগুলোর শরীরে ‘উলবাচিয়া’ প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া ঢুকিয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা। এমনকি, বিশেষ ধরনের একটি টিউব থেকে বের করে তাদের বিষে ভরা মেয়ে মশাদের সঙ্গে ‘যুদ্ধে’ নামানোর আগে লেজার রশ্মি দিয়ে তাদের উপর নজরও রেখেছিলেন বিজ্ঞানীরা।

তাদের দাবি, এই পদ্ধতিতেই সবচেয়ে সহজে আর সবচেয়ে কম খরচে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার বিষে ভরা মশাদের বংশ ধ্বংস করা যাবে।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

 

এসএনএ

 


oranjee