ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯ | ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

 
 
 
 

সতর্ক থাকুন ডার্ক ওয়েব থেকে

গ্লোবালটিভিবিডি ২:৪০ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৬, ২০১৯

ছবি : ইন্টারনেট

তথ্যপ্রযুক্তি উৎকর্ষের সঙ্গে সঙ্গে প্রসার পেয়েছে ইন্টারনেট। এরই ধারাবাহিকতায় দক্ষতা বাড়ছে সার্চ ইঞ্জিনগুলোর। তথ্যের মহাসমুদ্র থেকে তথ্য খুঁজে বের করতে গুগলের নাম স্বীকার করতেই হয়। আর Google, Yahoo, Bing সার্চ ইঞ্জিনের প্রভাবে হয়ত আমরা প্রয়োজনীয় সব জিনিসই পেয়ে যাচ্ছি অনেক সহজে। কিন্তু আমরা কি আদৌ জানি, এই ইন্টারনেট দুনিয়ায় অদৃশ্যমান আরও একটি জগত আছে। এ জগতের ব্যাপ্তি মোট ইন্টারনেট দুনিয়ার প্রায় ৯৮ শতাংশজুড়ে বিদ্যমান। যার নাম ডার্ক ওয়েব। যা ডীপ ওয়েবের মধ্যে আরেকটি অংশ, যেখানে সব রকম অবৈধ কার্যকলাপ সংঘটিত হয়ে থাকে। যেখানে কোনো সার্চ ইঞ্জিন, সাধারণ ব্রাউজার এক্সেস নিতে পারে না। ডার্ক ওয়েবে নিজের পরিচয় সম্পূর্ণভাবে লুকিয়ে প্রবেশ করা যায় বিধায় এখানে অনাসায়েই সর্বোচ্চ অপরাধমূলক ও নিষিদ্ধ কাজ করা যায়।

ইন্টারনেটের সব সাইটকে সাধারণত ৩টা ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়। ১. ডিপ ওয়েব ২. সারফেস ওয়েব ৩.ডার্ক ওয়েব । ডার্ক ওয়েব শব্দটা শুনলে কেমন জানি আমাদের কাছে মনে হয় হয়তো কোন এক অন্ধকার জগৎ, হয়ত ভয়ঙ্কর কোন কিছু বা অবৈধ কোন জায়গা। জেনে নিই এসব ওয়েব সম্পর্কে কিছু তথ্য।

ডিপ ওয়েব কি?
অনেকে ডিপ ওয়েব এবং ডার্ক ওয়েবকে এক জিনিস ভেবে বসে কিন্তু এই দুইটা মোটেও এক জিনিস না। ডিপ ওয়েব বলতে যেগুলা সার্চ ইঞ্জিন ইনডেক্স করতে পারে না। যেমন ডাটাবেজ, ইমেইল ইত্যাদি। এগুলাতে সাধারণত পাবলিক এক্সেস অর্থাৎ অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করা যায় না। এটা সারফেস ওয়েব থেকে অনেক বড়।

সারফেস ওয়েব কি?
সার্চ ইঞ্জিন যেমন গুগলে সার্চ দেয়ার মাধ্যমে আমরা যেসব পাই সেগুলো সবই সারফেসের ওয়েব এর অংশ। অর্থাৎ যেগুলাতে সাধারনত পাবলিক অ্যাক্সেস থাকে। যেমন: বিভিন্ন ব্লগ, বিজনেস ওয়েব সাইট, ইনফরমেশন সাইট ইত্যাদি অর্থাৎ যেগুলো সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ দিয়ে বা যে কোন ব্রাউজারে লিংক লিখে সহজেই ঢুকা যায়। আমাদের আইটি উদ্যোক্তা সারফেস ওয়েবের অংশ। তবে সারফেস ওয়েব হচ্ছে ইন্টারনেট জগতের সব থেকে ছোট অংশ।

ডার্ক ওয়েব কি?
ডার্ক ওয়েব হচ্ছে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব-এর একটি অংশ। যেটাতে প্রবেশ করার জন্য বিশেষ ধরনের সফট্ওয়্যার দরকার হয়। এই ওয়েব সাইটে ঢুকার পরে সাধারণ ওয়েব সাইটের মতোই কাজ করে এবং সাধারনত অধিকাংশ ওয়েব সাইট অত্যন্ত হিডেনভাবে থাকে এবং গুগলে ইনডেক্স না করার কারণে সার্চ দিয়ে পাওয়া সম্ভব না। শুধুমাত্র ওয়েব সাইটের ঠিকানা থাকার মাধ্যমে প্রবেশ করা সম্ভব এবং ডার্ক ওয়েবে বিশেষ ধরনের মার্কেট আছে যেটাকে ডার্কনেট মার্কেট বলা হয়। যার মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ পণ্য যেমন ড্রাগ, অস্ত্রসহ বিভিন্ন কিছু বিক্রি করা হয়। এমনকি মানুষ মারার জন্য কিলার, আগ্নেয়াস্ত্র, হ্যাকার সব পাওয়া যায় এবং এক্ষেত্রে লেনদেনের জন্য বিটকয়েন ব্যবহার করার কারণে ব্যক্তির পরিচয় গোপন রাখা যায়।

ডার্ক ওয়েবে যেভাবে প্রবেশ করে
ডার্ক ওয়েবে প্রবেশ করার জন্য বেশ কিছু পদ্ধতি আছে। যেমন আপনি tor, Freenet এবং I2P ব্রাউজার ব্যবহারের মাধ্যমে সহজে প্রবেশ করতে পারেন। তবে এই গুলার মধ্যে সব থেকে জনপ্রিয় হলো tor (এটাকে অনিয়ন ব্রাউজার বলেও ডাকা হয়) কারণ এটা সব থেকে সহজ ব্যবহার যোগ্য সফটওয়্যার প্যাকেট টুল। টর আপনার গোপনীয়তা ও প্রাইভেসি রক্ষার মাধ্যমে ম্যাসেজ পাস করার জন্য নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুযোগ দেয়। এ কাজের জন্য ব্রাউজার ম্যাসেজগুলাকে ইনক্রিপ্ট করার মাধ্যমে এক নোট থেকে অন্যটাতে পাঠায়। ফলে প্রতিটা মাধ্যমে শুধুমাত্র জানতে পারে কোন মেশিন থেকে ডাটা পাঠানো হচ্ছে এবং কোথায় যাবে। তাই টর ডাউনলোড দিয়ে ব্যবহার করার মাধ্যমে ডার্ক ওয়েবে প্রবেশ করে।

ডার্ক ওয়েবে যেভাবে লেনদেন হয়
ডার্ক ওয়েব ব্যবহারের মাধ্যমে অনেকে অনেক ধরনের সার্ভিস দিয়ে থাকে এবং কিনে থাকে। কিন্তু এ কাজে সাধারনত টাকা/ ডলার ব্যবহার করা হয় না। কারণ সাধারণ ব্যাংকিং ব্যবস্থায় লেনদেন করলে ধরা পড়ার চান্স ১০০ শতাংশ। তাই ডার্ক ওয়েবে কিপ্টোকারেন্সির (যেমন: বিটকয়েন, লিটকয়েন) মাধ্যমে লেনদেন করা হয়। এর ফলে লেনদেন ট্র্যাক করা সম্ভব হয় না।

ডার্ক নেট ভয়ানক ক্ষতিকর
আমরা সচরাচর যেসব সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করি, সেগুলো আমাদেরকে বিভিন্ন ওয়েবসাইটের ম্যালওয়্যার, ভাইরাস-এর ঝুঁকি থেকে নিরাপদ রাখে কিন্তু ডার্ক ওয়েবের অধিকাংশ ওয়েব সাইটই অনিরাপদ। সেই সব সাইট আপনাকে বিভিন্নরকম সফটওয়্যার বা এপস পিসিতে ইন্সটল করার জন্য উৎসাহিত করবে, যাতে রয়েছে অত্যন্ত ক্ষতিকর ভাইরাস/ম্যালওয়ার। ডার্কনেটে এরকম ম্যালওয়্যার পাওয়া গেছে যা কিনা একটি পিসিকে অকেজো করে দিতে সক্ষম।

ডার্ক ওয়েবে বৈধ নাকি অবৈধ
আমাদের দেশে (বাংলাদেশ) ডার্ক ওয়েবে প্রবেশের ক্ষেত্রে সরাসরি কিছু বলা না থাকলেও যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি কোন অবৈধ কাজ করবেন না ততক্ষণ পর্যন্ত বৈধ।

সরকার কেন ডার্ক ওয়েব বন্ধ করে না
ডার্ক ওয়েবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিভিন্ন অবৈধ কাজ চলে এবং বিভিন্ন দেশের সরকারের বিরুদ্ধে অনেক গোপনীয় নথী পাওয়া যায়। তাহলে আমাদের মনে প্রশ্ন আসতেই পারে সরকারি সংস্থাগুলো এই ধরনের সাইট বন্ধ করার পদক্ষেপ কেন নেয় না? আসলে আমাদের ধারণার থেকেও ডার্ক ওয়েব অনেক বড়। আর এর সব কিছু অবৈধ না কারণ টর প্রাইভেসি টুল হিসাবেও ব্যবহার করা হয়। ডার্ক ওয়েব সাইটের এক্রটেনশন .onion ব্যবহার করে এবং এ ধরনের সাইট গুণে শেষ করা সম্ভব না। এখন আপনি কয়টা খুঁজবেন আর কয়টা বন্ধ করবেন? তাছাড়া এর মালিক, হোস্টিং সার্ভিস কোন কিছু্‌ই সহজে খুঁজে পাবেন না বিভিন্ন এননিমাস টুলের কারণে। ফলে বন্ধ করা প্রায় অসম্ভব।

এমএস


oranjee