ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯ | ১ কার্তিক ১৪২৬

 
 
 
 

দেশজুড়ে দুর্গোৎসবের আমেজ

এবার পূজা হবে ৩১ হাজার ৪শ মণ্ডপে, দেবি আসবেন ঘোড়ায় চড়ে

গ্লোবালটিভিবিডি ৯:১২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৩, ২০১৯

ফাইল ছবি

মোয়াজ্জেম হোসেন নাননু : পূজার ঢাকে কাঠি পড়ে গেছে। আন্দোলিত হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মন। বছর ঘুরে আবার আনন্দে মেতে উঠছে সনাতনী ভক্তরা। হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় দুর্গোৎসবের ছোঁয়া লেগেছে ঘরে ঘরে। প্রায় সপ্তাহব্যাপি উৎসবে আনন্দমুখর হয়ে উঠছে গোটা দেশ ঢাক-কাঁসার বাদ্য, শঙ্খের ধ্বনি আর ধূপের ধোঁয়ায় উৎসবমুখর থাকবে মণ্ডপ। প্রার্থনার মধ্য দিয়ে জাগরিত হবে বিশ্ব থেকে অশুভকে বিদায় দেয়ার পণ। এবছর ঢাকাসহ সারাদেশে প্রায় ৩১ হাজার চারশ মণ্ডপে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিমায় রং তুলির শেষ আঁচড় দিচ্ছেন কারিগররা। মণ্ডপগুলো বর্ণাঢ্য সাজে সাজানোর প্রস্তুতিও প্রায় শেষ পর্যায়ে। মণ্ডপের আশপাশে করা হয়েছে বর্ণিল তোরণ।

দুর্গতিনাশিনী মা দুর্গার ইতিমধ্যে কৈলাশে পিতৃপক্ষের অবসান ঘটিয়ে শুরু হয়েছে দেবীপক্ষ। দেবীদুর্গার আরাধনার মধ্য দিয়ে জাগ্রত করা হয় মাতৃশক্তিকে। অর্থাৎ পৃথিবীতে দেবীর আগমনের সাথে সাথেই সূচনা হয় মাতৃপক্ষের। আর সেই মাতৃপক্ষকে বরণ করে নিয়েছে দেশের হিন্দুরা। মহালয়ার মাধ্যমে ২৮ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হয়েছে। মহালয়া মানেই হল পৃথিবীতে আগমন। চণ্ডী পাঠের মাধ্যমে দুর্গাদেবীকে এই আহ্বানই জানানো হয়। ভক্তদের ‘যা দেবী সর্বভূতেষু মাতৃরূপেণ সংস্থিতা-নমস্তৈস্য নমস্তৈস্য নমস্তৈস্য নমো নমঃ’ মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে শরতের ভোরে কৈলাশ থেকে নেমে আসেন মা দুর্গা। ধরা থেকে অসুর বিনাশে দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গার আগমনে উচ্ছ্বসিত ভক্তকূল।

৪ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মাধ্যমে শুরু হচ্ছে এবারের দুর্গাপূজার মূল অনুষ্ঠান। এবছর দেবী আসবেন ঘোড়ায় চড়ে। যাবেনও ঘোড়ায় চড়ে।

এদিকে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠানে বরাবরের মতে নেয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ইতিমধ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বানানী, ধানমন্ডী, শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার ও ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির ঘুরে দেখা গেছে, অল্প সংখ্যক পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।

কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ৪ অক্টোবর সকাল থেকেই মণ্ডপে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ-র‌্যাবসহ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হবে।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর তরফ থেকে খোলা হবে নিয়ন্ত্রণ কক্ষও। নিরাপত্তায় প্রবেশ পথে স্থাপন করা হবে আর্চওয়ে। ভক্তদের তল্লাশি করে ঢুকতে দেয়া হবে মণ্ডপে। পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য নিয়োজিত থাকবে। এছাড়া পুলিশ ও র‌্যাবের টহল থাকবে রাজধানীজুড়ে। তবে একইভাবে দেশের জেলা-উপজেলাগুলোর পূজা মণ্ডপগুলোতেও একই ধরণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে সরকারের।

সনাতন ধর্মের মানুষের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব হল শারদীয় দুর্গোৎসব। এই উৎসব ঘিরে আনন্দ আয়োজনের কমতি থাকে না। ভক্তরা একটি বছরের অপেক্ষায় থাকেন মায়ের চরণে নিজেকে সমর্পণ করার জন্য। সামর্থ অনুযায়ী নতুন পোশাক পরে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে দর্শন করবেন মা দুর্গাদেবীকে। প্রার্থনা জানাবেন সকল বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা পাবার।

বানানী, ধানমন্ডী, শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার ও ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির ঘুরে দেখা গেছে মণ্ডপগুলোতে সাজ সাজ রব। মণ্ডপ সাজানোর প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ জানায়, সারাদেশে এবার ৩১ হাজার ৩৯৮টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে রাজধানীতে মণ্ডপের সংখ্যা প্রায় আড়াইশ। গত বছরের চেয়ে এবার পূজা মণ্ডপের সংখ্যা ৪৮৩টি বেশি। ২০১৮ সালে সারাদেশে ৩০ হাজার ৯১৫টি মনপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম, রংপুর, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগ ছাড়া বাকি চার বিভাগে পূজামণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে। এবার চট্টগ্রাম জেলায় সর্বোচ সংখ্যক -১৭৭৪ মণ্ডপে পূজা হচ্ছে। সর্বনিম্ন পূজার সংখ্যা বরিশাল মহানগরে-৩৮টি।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত বলেন, ‘এবার পূজামণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে। নিরাপত্তা নিয়ে আমরা শঙ্কিত নই। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছে সরকারের তরফ থেকে। সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত ভালো।’

পূজা উদযাপন পরিষদ জানায়, ৩ অক্টোবর গোধূলিলগ্নে দেবীর বোধন, ৪ অক্টোবর সকালে ষষ্ঠীপূজার মাধ্যমে শুরু হবে মূল আয়োজন। এদিন গোধূলিলগ্নে দেবীর আগমন ঘটবে। মহাসপ্তমীতে সকাল থেকে পূজা চলবে, এছাড়া দুর্গা দেবীর নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্থাপনও করা হবে। এদিন দুস্থদের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ করা হয়। মহাষ্টমীতে কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা, দুপুরে সন্ধিপূজা এবং বিকালে মহাপ্রসাদ বিতরণ হবে। নবমীতে সকাল থেকে পূজা চলবে, সন্ধ্যায় আরতি প্রতিযোগিতা হবে। বিজয়া দশমীর দিন সকাল থেকেই পূজা হবে এবং বিকালে হবে বিজয় শোভাযাত্রা।

বিজয়া দশমী দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর দিন। এই দিনটি শেষ হয় মহাআরতির মাধ্যমে। এর মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার সব কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। শীতল ভোগের আয়োজন করা হয় সেদিন। এরপর পতি পূজা শুরু করেন। সর্বশেষ যে রীতিটি পালিত হয়, এর নাম ‘দেবী বরণ’।

এমএইচএন/এমএস


oranjee