ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৩১ ভাদ্র ১৪২৬

 
 
 
 

নিরাপত্তা ও যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হল পবিত্র আশুরা

গ্লোবালটিভিবিডি ৩:৩৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯

ফাইল-ছবি

আনিসুর রহমান: আরবি চন্দ্র বর্ষের প্রথম মাস মহরম যার অর্থ অধিক সম্মানিত। কারবালার প্রান্তরে হযরত হুসাইন রা: মর্মান্তিক মৃত্যু দিনটিকে করেছে শোকাবহ। ইসলাম ধর্মের ইতিহাসে ৬১ হিজরি সনের দশই মহরম ফোরাত নদীর তীরে কারবালার প্রান্তরে রচিত হয় এক শোক গাঁথা আবহ।

ইয়াজিদ বাহিনী নির্মমভাবে হত্যা করে মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা: এর প্রাণপ্রিয় দরিদ্র ইমাম হুসাইন রা: কে। সেই মর্মান্তিক স্মৃতি মুসলিম উম্মাহর জন্য ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত হওয়ার চেতনা হয়ে আছে। তবে নানা কারণে আশুরার দিনটি তাৎপর্যপূর্ণ ছিল আগে থেকেই। এদিন মহান আল্লাহ তা'আলা আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেন।

কেয়ামত সংঘটিত হবে এই দিনেই। হিজরী সালের দশই মহরম কারবালা প্রাঙ্গণে হযরত মুহাম্মদ সা: এর দৌহিত্র ইমাম ইমাম হুসাইন রা: মৃত্যুর দিনটি মুসলিম বিশ্বে শোকের দিন হিসেবে আশুরা পালিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সারাবিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হয় পবিত্র আশুরা। সকালে রাজধানীর পুরান ঢাকার হোসেনী দালান থেকে তাজিয়া মিছিল শুরু হয়। কারবালার রক্তাক্ত স্মৃতির স্মরণে মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের দেহে ছুরি দিয়ে আঘাত করে রক্ত ঝরিয়ে মাতম করে থাকেন।

তবে নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশের বিশেষ অনুরোধে এবার ছুরি দিয়ে মাতম করা নিষেধ থাকলেও, মানেননি কেউই। এবারের মিছিলে দুটি ঘোড়া রয়েছে যার মধ্যে একটিকে রং দিয়ে রক্তের রূপ দেওয়া হয়। যার মাধ্যমে যুদ্ধশেষে রক্তাক্ত ঘোড়ার অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। হোসেনী দালান ইমামবাড়ি থেকে শুরু হওয়া তাজিয়া মিছিল টি বকশী বাজার রোড নিউমার্কেট হয়ে ধানমন্ডি লেকের প্রতীকি কারবালা প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।

এর আগে সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে মূল মিছিলে যোগ দিয়েছেন অনেকেই। তাজিয়া মিছিলে যোগ দিতে বিভিন্ন এলাকা থেকে কালো কাপড় পড়ে হোসেনী দালানে আসতে থাকেন মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা। তাজিয়া মিছিল শুরুর পর মিছিলের সামনে ও পেছনে বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি ছিল বেশ লক্ষণীয়।

রাজধানীর পুরান ঢাকার ফরাশগঞ্জে বিবি কা রওজা পুরানা পল্টন মগবাজার মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প ও মিরপুর ১১ নম্বরে বিহারি ক্যাম্প গুলোয় আশুরা পালিত হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে এসব এলাকাগুলোতেও নিরাপত্তা জোরদার করতে দেখা গেছে।

এআরএস/আরকে


oranjee