ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯ | ১ শ্রাবণ ১৪২৬

 
 
 
 

ওয়াজ মাহফিল নিয়ন্ত্রণ নয়, ‘পরিশীলিত’ করার পক্ষে আলেমরা

গ্লোবালটিভিবিডি ৩:৩২ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ০৬, ২০১৯

ধর্মীয় ওয়াজ মাহফিল নিয়ন্ত্রণ না করে ‘পরিশীলিত’ করার পক্ষে দেশের আলেমরা। অনেকে ওয়াজ মাহফিলের বক্তাদের মধ্যেও সমন্বয় চান। ধর্মীয় এ অনুষ্ঠান নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও পর্যালোচনার পর আলেমরা অভিযোগ করছেন, সরকার ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের (ইফা) মাধ্যমে ওয়াজ মাহফিল নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। যদিও ইফা বলছে, কোনও নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ তারা নেয়নি।

ওয়াজ মাহফিলে ১৫ জন বক্তার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ ও ব্যবস্থা নিতে সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার (৫ এপ্রিল) এ বিষয়টি নিয়ে মাহফিলের বক্তারা নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা শুরু করেছেন।

ওয়াজ-মাহফিলের বক্তাদের বয়ানের বিভিন্ন বিষয় আমলে নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অধিশাখা-২ থেকে একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। এতে মাহফিলের ১৫ জন বক্তার নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এই বক্তারা সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মবিদ্বেষ, নারী বিদ্বেষ, জঙ্গিবাদ, গণতন্ত্রবিরোধী ও দেশীয় সংস্কৃতিবিরোধী বয়ান দেন। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবস্থা গ্রহণের অংশ হিসেবে ছয়টি সুপারিশও করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইফা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও সব বিভাগীয় কমিশনারের কাছে এটি পাঠানো হয়েছে।

ওয়াজ মাহফিলের ‘বিশৃঙ্খলা’ বন্ধ করাতে আলেমদের সমন্বয়ে বোর্ড গঠনের কথা বলেছেন চরমোনাই পীর ও ইসলামী আন্দোলনের আমির মাওলানা সৈয়দ রেজাউল করীম। তিনি বলেন, আলেমদের সমন্বয়ে একটি বোর্ড গঠন করে ওয়াজ মাহফিলে বিশৃঙ্খলা বন্ধ করা প্রয়োজন। তবে আলেমদের অংশগ্রহণ ছাড়া শুধু সরকারের তত্ত্বাবধানে করলে এটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত হওয়ার শঙ্কা আছে।

ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ বলেন, ওয়াজ প্রচলিত আরবি শব্দ, যার অর্থ, উপদেশ,আবেদন,প্রচার,সতর্কীকরণ ইত্যাদি। সব আম্বিয়ায়ে কেরামের মূল মিশন, মূল সুর ও মূল আবেদন ব্যাপকতা পেয়েছে এই ওয়াজ, তাবলীগ,দাওয়াতের মাধ্যমে। ওয়াজে আলেমরা মানবতার, ইনসাফ, সাম্য, দেশপ্রেম, নারী অধিকার, মানবাধিকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলবেন। এই দায়িত্ব পালন থেকে তাদেরকে কেউ সরিয়ে দিতে পারেন না। তেমনিভাবে আলেমরাও এই কর্তব্য পালন থেকে অব্যহতি নিতে পারেন না।

হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক বলেন, ‘ওয়াজ মাহফিল ও বক্তাদের নিয়ন্ত্রণের সরকারি চেষ্টা দেশের সংবিধান, গণতন্ত্র, ধর্মীয় চেতনা ও মূল্যবোধ বিরোধী। যদি কোনও বক্তার আলোচনায় সরকার বিব্রত হন, তবে সরকার তাকে সতর্ক করতে পারেন এবং বয়ানের ব্যাখ্যা তলব করতে পারেন। তা না করে পুরো ওয়াজের মাঠকে দোষারোপ করা গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত বহন করছে।’

এদিকে, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওলামায়ে কেরামের বিরুদ্ধে যে প্রস্তাবনা তৈরি করেছে তা ইসলামকে নিয়ন্ত্রণ করার শামিল। এটা একটা গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। ইসলাম বিমুখ করতেই এ ধরনের প্রস্তাবনা। সরকার এ ধরনের চক্রান্ত থেকে ফিরে না আসলে দেশের আলেম-ওলামাদের ঐক্যবদ্ধ করে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। 

এএইচ/

 


oranjee