ঢাকা, বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

 
 
 
 

বৃষ্টির সময় ঘরে ঝটপট তেহারি রান্না করুন- এই পদ্ধতিতে

গ্লোবালটিভিবিডি ২:২৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৬, ২০১৯

শাহিদা আইচ নূশা : ক'দিন ধরেই ঢাকায় বৃষ্টি ঝরেই যাচ্ছে থেমে থেমে। কখনো বা একটানাও ঝরছে। তাই রাজধানীজুড়ে ঠাণ্ডার আমেজ বহমান। যেন শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে এসেছে এই বৃষ্টি। বৃষ্টিতে খিচুড়ি খাওয়ার রেওয়াজ আছে বাঙালিদের। তবে স্বাদ পরিবর্তন করতে চাইলে, বৃষ্টির দিনে তেহারিও রান্না করা যায় ঝটপট।

রান্নার উপকরণ : গরুর মাংস- এক কেজি, পোলাওয়ের চাল- এক কেজি, পিঁয়াজ কুচি- বড় এক কাপ, সয়াবিন তেল- ২০০ গ্রাম (২ কাপ), কাঁচা মরিচ বাটা দিন- আধা কাপ, লবন- ৫ টেবিল চামচ, টক দই- এক কাপ, ভিনিগার- ২ টেবিল চামচ, জিরার গুড়া- ১ টেবিল চামচ, ধনে গুড়া- হাফ টেবিল চামচ, আধাবাটা- হাফ কাপ, রসুন বাটা- হাফ কাপ, তেজপাতা- ৪ পিচ, গরম মশলার টুকরো- ১০০ গ্রাম, গোটা কাঁচা মরিচ- ১০ পিস, গরম পানি- ২ লিটার।

রান্নার নিয়মাবলী : এক কেজি গরুর মাংস ছোট বা মাঝারি পিস করে ভালোভাবে ধুয়ে পানি ঝারাতে দিন প্রথমে। চুলায় ২ লিটার পানি গরমে বসান। মাংসের পানি ঝরার সময়ে পিঁয়াজ কুচি করে ফেলুন।

সব পানি ঝরে গেলে মাংসগুলোকে প্রেসার কুকারে ঢালুন। তাতে ২ টেবিল চামচ লবন দিন। টক দই ঢালুন এক কাপ, ভিনিগার দিন ২ টেবিল চামচ, অল্প আদাবাটা, অল্প রসুনবাটা, কাঁচা মরিচ বাটা, জিরার গুড়া, ধনে গুড়া, ২ পিচ তেজপাতা, গরম মশলার অল্প কিছু টুকরো দিয়ে ভালো করে মাংসগুলোকে মেখে রাখুন প্রেসার কুকারের ভেতরেই।

অনেকেই তেহারির ভেতরে গোটা আলু বা ছোট আলু খেতে পছন্দ করেন। যদি তাই পছন্দ হয়, চুলায় আলুগুলো ধুয়ে সেদ্ধ করুন হাঁড়ির ডুবো পানিতে।

এবার যদি পিঁয়াজ কুচি করা বাকি থাকে, তা করে ফেলুন। গোটা কাঁচা মরিচগুলো মাঝে ফেড়ে নিন। পোলাওয়ের চাল ভালোভাবে ধুয়ে পানি ঝারাতে দিন। এই ফাঁকে তেহারির সাথে খাওয়ার জন্য টমেটো, শসা ও গাজর সমেত সালাদ তৈরি করে রাখুন, লবন না মিশিয়ে। এই কাজ করতে করতে ১০/১৫ মিনিট অতিক্রম হওয়ার পরে প্রেসার কুকারের ঢাকনা ঢেকে তা গ্যাসের চুলায় মিডিয়াম আঁচে বসিয়ে রাখুন।

প্রেসার কুকারে মাংস সেদ্ধ হওয়ার জন্য কমপক্ষে ৩টি শিস পড়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। কেউ যদি তেহারিতে মাংস আরো বেশি সেদ্ধ খেতে পছন্দ করেন, তবে আরো দুইটি শিস পড়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এর মাঝে আলুগুলো সেদ্ধ হয়ে গেলে, তার খোসা ছাড়িয়ে ফেলুন।

আলুর খোসা ছাড়াতে যে সময় লাগবে, তার মধ্যে প্রেসার কুকার যদি ৩/৪ টা শিস দিয়ে দেয় তবে সেটিকে চুলা থেকে নামিয়ে রাখুন। এসময় অবশ্যই প্রেসার কুকারের ঢাকনা খোলার চেষ্টা করবেন না। তাতে বিপদ ঘটতে পারে।

এখন চুলায় কড়াই বসান। আগুনের আঁচে কড়াইয়ের সকল পানি টেনে নিলে তাতে এক কাপ সয়াবিন তেল ঢেলে আঁচ কমিয়ে দিন। কারণ, আঁচ বাড়তি থাকলে অনেক সময় কড়াইয়ে তেল পুড়ে পোড়া গন্ধ বের হয়। ২ মিনিট পরে এই তেলে সেদ্ধ আলুগুলো একটু ভেজে নিন। ভাজা ভাজা হলে তেল ঝাড়িয়ে আলুগুলো তুলে রাখুন আলাদা পাত্রে। এই বার এই গরম তেলে হাফ কাপ পিঁয়াজ কুচি হাল্কা ভাজুন। এতে প্রেসার কুকারের সেদ্ধ হওয়া মাংসগুলো ঢেলে দিন। হাল্কা গরম পানি দিয়ে প্রেসার কুকারের ভেতরে লেগে থেকে মশলাগুলো নেড়েচেড়ে দিয়ে দিন মাংসের উপরে। এভাবে আরো একটু মাংস সেদ্ধ করে মাংসের গায়ের পানি যতটুকু সম্ভব শুকিয়ে নিন।
এরপরে চুলায় বড় হাড়ি বসান, যেখানে আপনি তেহারি রান্না করবেন। আগুনের হাল্কা আঁচে হাঁড়ি গরম হলে তাতে এক কাপ সয়াবিন তেল ঢালুন। তেল হাল্কা গরম হওয়ার পরে তাতে বাকি গরম মশলার টুকরোগুলি ঢালুন। এরপরে তাতে বাকি পিয়াজ কুঁচি ঢেলে দিন। হাল্কা ভাজা ভাজা হলে তাতে পানি ঝরানো ধোয়া পোলাওয়ের চালগুলো এবার এতে ঢেলে দিন। তারপর হাঁড়িতে চাল নাড়তে থাকুন। একটু ভাজা ভাজা হলে তাতে বাকি আদাবাটা, রসুনবাটা ও তিন টেবিল চামচ লবন ঢালুন। পরে আরো কিছুক্ষণ চাল নাড়তে থাকুন হাঁড়িতে। ২/৩ মিনিট পরে চালের মধ্যে ২ লিটার গরম পানি ঢালুন। এরপরে ভালো করে হাঁড়ির ঢাকনা লাগিয়ে দিন।

উল্লেখ্য, মনে রাখবেন এক কেজি চালে দুই লিটার গরম পানি ব্যাবহার করলে পোলাও ঝরঝরে হয়। এই হিসেবে যত বেশি কেজি চাল ব্যাবহার করবেন রান্নায়, তাতে পানির লিটার বাড়বে। আর কেউ যদি কাপ মেপে চাল নেন পোলাওয়ের জন্যে, তবে যতকাপ চাল নেয়া হয়েছিল- সেই কাপের দেড়গুণ গরম পানি দিতে হবে হাড়িতে চাল ভাজার পরে।

এবার চুলায় বসানো চালের হাঁড়ির মুখ খুলে দেখুন, চাল হাল্কা সেদ্ধ হয়েছে কিনা। বা চালের পানি কমেছে কিনা। এমতাবস্থায় মাংসের হাড়ি থেকে সব মাংস ঢেলে দিন। সেদ্ধ করা ভাজা আলুগুলোও দিয়ে ঢেলে দিন। তারপরে চামচ দিয়ে হালকা করে নেড়ে মিশ্রণ করুন তেহারি। ২/১ মিনিট পরে তেহারির হাড়ি চুলা থেকে নামিয়ে চুলায় একটা তাওয়া বসান। এর উপরে আবারো তেহারির হাঁড়ি বসিয়ে চুলায় খুব হাল্কা আঁচে আগুন জ্বালা রাখুন। এভাবে ৫/১০ মিনিট রাখুন। আর ২ মিনিট পর পর পুরো হাঁড়ি ঢাকনাসহ ধরে ভালো করে ঝাঁকুনি দিলে, তেহারির মিশ্রণটা আরও ভালো হয়। পানি শুকিয়ে বেশি ঝরঝরে হয় তেহারি।

এরপরে সবাইকে পরিবেশন করুন কম মশলায় রান্না করা তেহারি।

রন্ধনশিল্পী শাহিদা আইচ নূশা

এসএএন/এমএস


oranjee