ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৩১ ভাদ্র ১৪২৬

 
 
 
 

গ্লোবাল টিভি অ্যাপস

পাটশাক দিয়ে মুচমুচে মুখরোচক বড়া বানিয়ে খান স্বল্প সময়ে

গ্লোবালটিভিবিডি ১:৪৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯

পাটশাকের বড়া

নেলী আইচ : অনেক বাসায় শিশুরা বা বড়রা শাক খেতে চান না। অথচ শাকের পুষ্টিগুণ অনেক। অনেকেই আবার বছরের পর বছর এক পদ্ধতিতে রান্না করা শাক খেতে চান না। কিন্তু তারাই আবার ভাজাপোড়া খাবার অনেক পছন্দ করেন। এমন যারা আছেন, তাদেরকে পাটশাক দিয়ে মুখরোচক বড়া বানিয়ে খেতে দিন। দেখবেন, নিমিষেই প্লেট খালি হয়ে গেছে।
এছাড়া নাগরিক জীবনে অফিস বা অন্য কাজ নিয়ে ব্যাস্ত গৃহিণীরা স্বল্প সময়ে এই মজাদার বড়া তৈরি করে খেতে পারেন ভাতের সাথে বা বিকেল-সন্ধ্যার নাস্তা হিসেবে। ব্যাচেলর যারা নিজে রান্না করে খান, তাদের জন্যেও এ বড়া বানানো সহজ। খেতেও মুখরোচক বটে।

পাটশাকের বড়া বানানোর উপায় : বাজার থেকে এক আঁটি পাটশাক এনে গোড়ার অংশ বেশখানিকটা কেটে ফেলে দিন। আগার দিকের অংশগুলো পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিন। ধোয়ার পরে প্রতিটি ডাটার অগ্রভাগের অংশটি দুই আংগুল দিয়ে ভেঙ্গে নিয়ে পৃথক একটা বোলে রাখুন। এছাড়া পাট শাকের ডাটায় থাকা আরও কিছু কচি পাতা ছিঁড়ে নিয়ে অগ্রভাগের পাতার বোলে রাখুন। পানি ঝাড়তে দিন এই পাতাগুলোর।

এবার মিডিয়াম সাইজের একটা বা দুটো পিঁয়াজ কুচি করুন। ৬/৭ টি কাঁচা মরিচ কুচি করুন। কুচি করা পিঁয়াজ ও কাঁচা লংকার টুকরোগুলো আপাতত বড়ার জন্য নির্ধারিত পাটশাকের পাতার উপরে রাখুন।

এরপর বড় একটি বোলে ছোট এক কাপ চালের গুড়া বা বেসনের গুড়া নিন। যারা বেসন ভাজা খেতে পছন্দ করেন, তারা বেসন বা চালের গুড়ার পরিমাণ আরেকটু বাড়িয়েও নিতে পারেন। এতে ছোট চামচে এক চামচ লবন দিন। পরে আধা চামচ হলুদ, আদাবাটা ও রসুনবাটা দিন। এবারে হাল্কা পানি দিয়ে বোলের মধ্যে বেসন বা চালের গুড়ার মিশ্রণটি আঠা আঠা করুন।

মিশ্রনটি তৈরির পরে হাত ধুয়ে নিন। চুলা জ্বালিয়ে ভাজার জন্য কড়াই বা প্যান ধুয়ে বসান। চুলার আঁচ মিডিয়াম পর্যায়ে রাখুন। চুলার আঁচে কড়াই বা প্যান পুরো শুকনো হয়ে গেলে তাতে তেল ঢালুন। মনে রাখবেন, ডুবো তেলে না ভাজলে পাটশাকের বড়া ভালো লাগে না খেতে।

চুলায় তেল গরম হতে হতে বোলে রাখা মিশ্রণে বড়ার জন্য রাখা পাটশাকের পাতা, মরিচ কুচি, পিঁয়াজ কুচি একসাথে করে ভালো করে মাখুন। মাখার পরে দেখুন এই মিশ্রণটিও হাতে আঠালো লাগছে কিনা। যদি মিশ্রণে পানি পানি থেকে যায়, তবে সামান্য বেসব বা চালের গুড়া মিশিয়ে দিয়ে আঠালো করুন। আর যদি দেখেন, বোলের মিশ্রণে পানির অভাবে আঠালো ভাবের বদলে অতিরিক্ত শুকনো দেখাচ্ছে- তাহলে যতসামান্য পানি হাতের আঙ্গুল ছুঁইয়ে ঢেলে মিশিয়ে নিন।

এদিকে চুলায় তেল গরম হয়ে হাল্কা ধোঁয়া উঠলে চুলার আঁচ সামান্য কমিয়ে পাটশাকের মিশ্রণ থাকে অল্প অল্প নিয়ে ডান হাতের তালুবন্দি করে গোল গোল আকার করে তেলের কড়াই বা প্যানে ছেড়ে দিন। দুই মিনিট পরে পরে পাটশাকের বড়াগুলো উল্টেপাল্টে দিন। এরকম দুয়েকবার করার পরেই প্লেটে সাজিয়ে নিন পাটশাকের মুচমুচে বড়া। তারপর খাবারের পাতে এই বড়া পরিবেশন করুন। নিজে উপভোগ করুন এই খাবার। পাশাপাশি অতিথি আপ্যায়ন করেও তাক লাগিয়ে দিতে পারেন।

উল্লেখ্য, পাটশাকের মতো লাল শাক দিয়েও এই পদ্ধতিতে বড়া বানানো যায়। আরেকটা কথা মনে রাখবেন, কড়াই বা প্যানে ভাজার পরের তেলগুলো দিয়ে অন্য তরকারি রান্না করে ফেলুন দ্রুত। কারণ, ভাজা তেল বেশিক্ষণ রেখে দিলে তা স্বাস্থ্যের জন্য অধিক ক্ষতি হয়। কাজেই বড়া ভাজার পরে যদি অন্যকিছু রান্না করার ইচ্ছে না থাকে তবে সেই তেলগুলো ফেলে দিন। কারণ, ১০০ টাকার তেল বাঁচানোর নামে শরীরের পিছে লক্ষ টাকা খরচ করার মতো রোগ বাধাবেন না।

লেখক: রন্ধনশিল্পী ও গৃহিণী

এমএস

 

 


oranjee