ঢাকা, সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯ | ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

 
 
 
 

শুভ জন্মদিন

সেই যে শুরু আর পেছনে তাকাতে হয়নি সঙ্গীত তারকা মুশফিক লিটুর

গ্লোবালটিভিবিডি ৭:৩৮ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২১, ২০১৮

ফাইল ছবি

২১ ডিসেম্বর, লিটুর শুভ জন্মদিন। আকিকা করা নাম মো. মুশফিকুর রহমান। ফেসবুক, স্কুলপেজ ও সমাজে পরিচিত মুশফিক লিটু নামে। তবে বন্ধুদের কাছে বেশি পরিচিত মুশফিক নামে। আর পারিবারিক নাম লিটু । আমি ওকে পারিবারিক নামেই ডাকি। এসএসসি ১৯৮৯ ব্যাচ। বাবা মোহাম্মাদ আলী। মা শামসুন্নাহার। বাসা বা বাড়ি পিপলস গোল চত্বরের কাছে। গোলচত্বর মোড়ে বায়তুল আমান জামে মসজিদটি গড়ে উঠেছে ওর দাদা হাজী আবদুর রহমান সাহেবের দান করা জমির ওপরই। তিনি বাড়ির উত্তর-পূর্ব কোণে কিছু অংশ ছেড়ে দেন মসজিদের জন্য। মসজিদের দক্ষিণ পাশে ওদের বাড়িটির অবস্থান ৪/৫ বিঘা জায়গাজুড়ে। প্রধান গেটের সামনে পাকিস্তান আমল থেকেই সাইন বোর্ড ‘রহমান এন্ড সন্স’। যদিও সাইন বোর্ডটি আজও আছে কীনা জানা নেই।

গত কয়েক বছর আমার খালিশপুরে যাওয়া পড়েনি। কারো কারো হয়তো জানা- আমি খালিশপুরে একসময় দৈনিক পূর্বাঞ্চলের অফিস করেছিলাম। সেটি ছিল এই বাড়িতেই, মেইন গেটের পাশে। সকাল-বিকেল বসতাম। সন্ধ্যার পর যেতাম পূর্বাঞ্চলের প্রধান অফিসে (খুলনা শহরে)। পূর্বাঞ্চলে কাজ করার সময় লিটুর বড়ভাই টুটুল ছিল আমার নিত্যসঙ্গী। এছাড়া টুটুলও একসময় সেখানে গড়ে তোলে ‘কিছুক্ষণ’ নামে একটি রেষ্টুরেন্ট। সেটি খুব বেশিদিন চলেনি। তবে যতোদিন ছিল, বেশ জমজমাটই। ওই সময় ‘কিছুক্ষণ’ ছিল আমাদের আড্ডার জায়গা, রাত জেগে শিল্প-সাহিত্য চর্চার নিরাপদ স্থান। সম্প্রতি খলিল (আর্টিস্ট) আমাকে নিয়ে ওর এক লেখায় এই ‘কিছুক্ষণ’-এর কথাই তুলে ধরেছে।

তো লিটু তখন খুব ছোটো। আমি যখন স্কুল ছাড়ি লিটু তখন ক্লাস ওয়ান-টুতে। খুব মিষ্টি চেহারা। মুখে সারাক্ষণই হাসি। চোখে বা চাহনিতে বুদ্ধিদীপ্তির প্রতিফলন। অবশ্য ওরা সব ভাই-বোনই দেখতে সুন্দর-মিষ্টি। বড়ভাই সোহানুর রহমান টুটুল ও মেজোভাই শফিকুর রহমান মিটুল পড়তো ক্রিসেন্ট স্কুলে। একমাত্র বোন মাহবুবা সুলতানা মুন্নী ও লিটু পড়তো পিপলসে। মুন্নী ১৯৮৭ ব্যাচের। সম্ভবত, কলেজে পড়ার সময়ই ওর বিয়ে হয়ে যায় ঢাকার এক ধনাঢ্য ব্যবসায়ীর সঙ্গে। তবে মুন্নীর বর বদরুল আলম (রাবু) শুধু ব্যবসায়ীই নন, কবি ও সাহিত্যিক। তিনি তিনকন্যাসহ কয়েকটি চলচ্চিত্রের স্ক্রিপ রাইটারও। লিটুর ভাই-বোনদের মধ্যে সবচেয়ে মেধাবী বলে জানি মিটুলকে। সে এখন রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের এজিএম। দায়িত্বে আছে সম্ভবত গোপালগঞ্জ অঞ্চলের। বড়ভাই টুটুল ব্যবসায়ী। মিটুল বাদে ভাই-বোনরা সবাই ঢাকায়। খালিশপুরের বাড়িতে ওর বাবা-মা। লিটুদের আদি বাড়ি ঢাকার নবাবগঞ্জ। নানাবাড়ি বাগেরহাটের রামপাল। আমি টুটুলের সঙ্গে ওদের নানাবাড়িতেও একবার গিয়েছি। গিয়েছি ওর বোন মুন্নীর বাসায়ও। এমনকি ঢাকার মৌচাক মার্কেটের পাশে লিটুর গান রেকর্ডিং স্টুডিওতেও একবার গিয়েছি।

লিটু যখন স্কুল বা কলেজে পড়ে তখন মাঝে মাঝে দেখতাম ওর হাতে গিটার বা ইষ্পেনিস। বুঝতাম সে মিউজিক শেখে। এক সময় আমি ঢাকা চলে আসি। মাঝখানে ক বছর আর দেখা-সাক্ষাৎ নেই। হঠাৎ কবে একদিন এনটিভিতে দেখি গিটারে সুর তুলছে আমাদের লিটু। বুঝতে পারি, এরই মধ্যে সে অনেক দূর এগিয়ে গেছে।

সেই যে লিটুর শুরু আর থামতে হয়নি। তাকাতেও হয়নি পেছনে। মুশফিক লিটু এখন ঢাকার এ প্রজম্মের অন্যতম সঙ্গীত তারকা। কাজ করছে মিউজিক ডিরেক্টর, মিউজিক কম্পোজার, সাউন্ড ডিজাইনার ও সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। যারা গান-বাজনা করেন বা মিউজিকের সাথে জড়িত তারা সবাই-ই ওকে এক নামে চেনেন। লিটু এখন ঢাকার সিনেমাতেও মিউজিক ডিরেক্টরের দায়িত্ব পালন করছে। খুব ব্যস্ত সময় কাটায় সে। স্কুলপেজে লিটু আছে। তবে ওকে অ্যাকটিভ পাওয়া যায় কমই। হাজার ব্যস্ততার মধ্যেও সে স্কুলসহপাঠীদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়নি। স্কুলের দুটি পুনর্মিলনী উৎসবেই ছিল ওর সক্রিয় অংশগ্রহণ। উভয়ের সময়াভাবে কথা বলার সুযোগ হয়নি। তবে যতদূর জেনেছি, হেডস্যার কাজী ইমদাদুল হক, শিকদার স্যার, নিকোলাস স্যার, আবদুল মাবুদ স্যার, বড় কাদের স্যার, ছোটো কাদের স্যার, পরিমল স্যার, মজিদ স্যার, বিউটি আপা ওর অন্যতম প্রিয় শিক্ষক। আর প্রিয় সহপাঠীদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- জসিম, গাজী সেলিম, দিপু, মাকসুদ, আলতাফ, জহির, আরিফ, ইউনুস, রিপন, মালিক সেলিম, আজাদ জসিম প্রমুখ।

লিটুর ব্যক্তিগত বা দাম্পত্যজীবনের কথা তো বলাই হয়নি। কবে বিয়ে করেছে জানা নেই। তবে ওর বড়ভাইয়ের কাছে শুনেছি, লিটুর বউ রত্না খালিশপুরেরই (কাশিপুর) মেয়ে। আমি সাম্প্রতিক এক লেখায় বলেছি, কাশিপুরের মেয়েরা স্মার্ট। কথাটি নিশ্চয়ই ছোটবোন রত্নার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। রত্না কোন স্কুলের ছাত্রী ছিল জানা নেই। তবে টুটুলের কাছে গল্প শুনে ধারণা করি, ওরা খুবই সুখি দম্পতি যা জীবনে সাফল্য লাভের জন্য খুবই জরুরি। আরো সুখ ও খুশির ব্যাপার- ওরা দীর্ঘ ১৬ বছর পর টুইন বেবির মা-বাবা হয়েছে। যদিও পাশাপাশি খুব কষ্টের ব্যাপার- ১৮ দিনের মাথায় একজন বেবিকে ওদের হারাতে হয়েছে। ওদের বেবির নাম অ্যারিশ ও অ্যারোশ। অ্যারোশকে ওরা হারিয়েছে। আমরা অ্যারোশের জন্য দোয়া করি। দোয়া করি, মহান আল্লাহ যেন ওর মা-বাবাকে ওকে হারানোর কষ্ট সইবার ধৈর্য্য দেন।

ছোটোবেলা থেকেই জানি, লিটুদের পরিবার ধার্মিক ও দানশীল। ধারণা করছি, স্কুলপেজে অনেকদিন অ্যাকটিভ না থাকার কারণে লিটু হয়তো জানেই না ফুটবলার মোশাররফের অসুস্থতার বিষয়টি। আমার বিশ্বাস, ও জানলে এ বিষয়ে সহায়তার হাত না বাড়িয়ে পারতো না। যদিও সময় চলে যায়নি। এখনো সুযোগ আছে কিছু করার।

যাক, লিটুকে নিয়ে পরে আরো লেখা যাবে। শুভ জন্মদিনে স্কুলপেজের পক্ষ থেকে ওকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

এমএস


oranjee